‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি খোদা আমাকে এমপি বানিয়েছে, আপনারা না। কথা সত্য না মিথ্যা? আমাকে আপনারা ভোট দেন নাই। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসি নাই।’
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তবে এ ভিডিওকে ‘সুপার এডিটেড’ বলছেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালিয়াপাড়া বাজারে ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য তুহিন।
ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি খোদা আমাকে এমপি বানিয়েছে, আপনারা না। কথা সত্য না মিথ্যা? পিছনের মানুষ কি বোবা? আমি প্রত্যেকটা মানুষের জবাব চাই।”
এ সময় ওই ভিডিওতে ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালামকে নিয়ে কথা বলতেও শোনা যায়।
ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, “আমাকে আপনারা ভোট দেন নাই। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসি নাই। সরাসরি ময়মনসিংহ থেকে এমপি হয়ে নান্দাইলে প্রথম ঢুকলাম, শহীদ মিনারের পাদদেশে আমি শপথ গ্রহণ করলাম।”
নান্দাইল আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভিডিওটা সুপার এডিটেড। আমার বিরুদ্ধে একটি প্রতিপক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। রাজনৈতিকভাবে নানাভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করছে। বিভিন্নভাবে পত্রিকায় নিউজ করানোর চেষ্টা করছে। তারা করতে থাকুক, আমার আর কী করার আছে ভাই। এরকমভাবে এডিট করে বক্তব্যও তারা বানাচ্ছে।”
ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ জুয়েল। তিনিও সংসদ সদস্যের বক্তব্যে এ ধরনের কথা ‘ছিল না’ বলে দাবি করছেন।
হাসান মাহমুদ জুয়েল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমপি সাহেব এমন কোনো কথাই তার বক্তব্যে বলেননি। একটি কুচক্রি মহল সুপার এডিট করে ভিডিওটি ফেইসবুকে একটি ফেইক আইডি থেকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আমরা তাকে খুঁজছি; তাকে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিজেদের করা কোনো ভিডিও বা অডিও আছে কিনা জেজ্ঞেস করা হলে হাসান মাহমুদ জুয়েল বলেন, তাদের কাছে কোনো ভিডিও নেই; আংশিক আছে। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন ভিডিও করে সেটাকে সুপার এডিট করেছে।
সম্মেলনে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক বাহার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বকর ছিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আজিজুল ইসলাম, স্থানীয় চেয়ারম্যান মোছা. তাসলিমা আক্তার ও যুবলীগ নেতা মো. শাহজাহানও উপস্থিত ছিলেন বলে হাসান মাহমুদ জুয়েল জানান।
