চলতি বছর রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেইনের প্রধান প্রধান কৃষিপণ্যের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে।
সোমবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া তাদের ভাষায় ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ নামে; ওই লড়াইয়ের কারণে ইউক্রেইনের সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ফসল হয় সংগ্রহের বাইরে থেকে যায় না হয় ধ্বংস হয়ে যায়।
রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর দিন থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ইউক্রেইন এক কোটি টন কৃষিপণ্য রপ্তানি করেছে; গত বছর একই সময়ে এই রপ্তানিপণ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ টন।
২০২২ সালে ইউক্রেইনের ফসল উৎপাদনের পরিমাণ কমে ৫ কোটি টনের কাছাকাছি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৮ কোটি ৬০ লাখ টন।
ইউক্রেইনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত তারা ৩৮ লাখ টন ভুট্টা, ১৪ লাখ টন সূর্যমুখী বীজ, ১০ লাখ টন সূর্যমুখী তেল এবং প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টন গম রপ্তানি করতে পেরেছে।
এর বাইরে তারা যব, সয়াবিন তেল এবং পশুখাদ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত অনেক শস্যও রপ্তানি করে।
দেশটি যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করে, তা দিয়ে ৪০ কোটি লোককে খাওয়ানো সম্ভব বলে ভাষ্য দেশটির সরকারের।
জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় মস্কো-কিইভ চুক্তির আওতায় জুলাইয়ের শেষ দিকে কৃষ্ণসাগরীয় তিনটি বন্দর উন্মুক্ত হওয়ার পরও ইউক্রেইনের কৃষিপণ্য রপ্তানি সংঘাতের আগের তুলনায় অনেক কমই হচ্ছে। ইউক্রেইন প্রতি মাসে ৬০ লাখ টন পর্যন্ত খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে পারে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেইনের কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২২-২৩ মৌসুম শুরুর পর ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত তাদের শস্য রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২৯ লাখ ৯০ হাজার টন হয়েছে।
রাশিয়ার আক্রমণের আগে বিপুল পরিমাণ শস্য রপ্তানি করতে পারায় ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ মৌসুমে ইউক্রেইনের রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছিল।
