দিন, মাস, বছর আসে তা আবার মিশে যায় অনন্তকালের মাঝে। তবুও কিছু স্মৃতি রয়ে যায় হৃদয়ের মণিকোঠায়, বাঁচতে শেখায় নতুন করে, প্রেরণা জোগায় হাজার বছর ধরে, পথ দেখায় নতুন স্বপ্নের । কিন্তু সেই স্বপ্ন ও গৌরবের ইতিহাস যখন কলঙ্কিত করার চেষ্টায় মাতে একদল পথভ্রস্ট মানুষ, আর ঠিক তখনই তাদের নির্মমতায় রচিত হয় ইতিহাসের জঘন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় — ১৫ ই আগস্ট, ১৯৭৫।
স্তব্ধ গোটা জাতি, স্তব্ধ মানবতা !!!
হ্যাঁ, বলছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের কথা, যার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি একটি রাষ্ট্র, একটি ঠিকানা, সর্বোপরি স্বাধীনতা । কবির ভাষায়, “স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে কে বাঁচিতে চায়” । সেই স্বাধীনতার রূপকারের হারানোর দিন আজ যার জন্ম না হলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না । ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করি ইতিহাসেরসেই মহানায়ককে ।
আমি প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের আরো ১৬ জন সদস্য, তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও সৈনিকসহ মোট প্রায় ২৮ জনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সেইসাথে শ্রদ্ধা জানাই এই দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করতে এতোটুকু কুণ্ঠাবোধ করেননি ।
শেখ মুজিবুর রহমান একজন কীর্তিমান, একজন মহান নেতা, একজন সংগঠক যার সংগ্রাম আর ত্যাগের কারণে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল,
সেই ছোট্ট খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠাটা এতটা সহজ ছিলনা, অনেক কঠিন পথ তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে, মোকাবেলা করতে হয়েছে দেশি-বিদেশি বহু ষড়যন্ত্র । তবুও তিনি দমে যাননি দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন আমৃত্যু। স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম সবই পরিচালনা করেছেন অসীম দক্ষতা ও যোগ্যতায়। তাঁর ছিল মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার মতো অসাধারন বজ্রকণ্ঠ। তিনি ছিলেন অনলবর্ষী বক্তা তাঁর উদাত্ত আহ্বানে একদিন জেগে উঠেছিল সমগ্র বাঙালি জাতি। তিনি হয়ে উঠেছিলেন মুক্তির প্রতীক ও বাঙালির প্রেরণার উৎস। যোজন যোজন দূরের স্বাধীনতার স্বপ্নকে তিনি বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
জেল-জুলুম ও অত্যাচারে তিনি এতটুকু দমে যাননি। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী বারবার চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাণে মারতে পারেনি । কিন্তু আফসোস !!! যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন, সেই স্বাধীন দেশেই কিছু মানুষরূপী উশৃংখল সেনা কর্মকর্তার বুলেটের আঘাতে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ছোট্ট রাসেলও সেই ঘাতকদের নির্মমতার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
ওরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল ঠিকই, কিন্তু হত্যা করতে পারেনি তার আদর্শকে। তার সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে । বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল্, কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় বড় প্রকল্পগুলো আজ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে ।
ইতোমধ্যে, প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের কাজ শেষ হয়েছে এবং তাদের বেশ কয়েকজনের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে । এই মহান নেতার ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণীয় হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ।
তাইতো বলতে চাই, “উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার, ক্ষয় নাই।“
jalam.dew@gmail.com
