বিনোদিনী রাই এসো গো
এসো নীল যমুনার ধারে,
তোমায় ছাড়া, তোমার শ্যাম,
বাঁশিতে সুর তুলবে কেমন করে?
বাঁশির সুরের মোহে মুগ্ধ হয়নি এমন লোক খুব কমই আছে। শুধু বাঁশির সুরেই নয়, বাংলার সাহিত্যে, গানে, কবিতায়, পঙক্তিতে বাঁশি উঠে এসেছে অজস্রবার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ সহ অনেক গুণীজনের লেখায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আগের মতো বাঁশি বাজানোর চল না থাকলেও তা একেবারে মুছে যায়নি। এখনো দেখা যায়, বংশীবাদক হিসেবে জীবন চালাচ্ছে অনেকেই। আবার কেউ শখের বসেই শিখছে।
এই বাংলায় বাঁশি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন - মুরালি, মোহন বাঁশি, বংশী বা বাঁশরি, সরল বাঁশি, আড় বাঁশি, টিপরাই বাঁশি, কদ বাঁশি, তালপাতার বাঁশি, লয়া বাঁশি ইত্যাদি। এই বাঁশিগুলো বানানোর ধরনের তারতম্য অনুসারে বিভিন্ন রকমের সুর তোলে। বাঁশির ব্যাস যদি কম করে বানানো হয় তাহলে সুর সুক্ষ্ম ও তীক্ষ্ণ হয়। ব্যাস যদি বেশি হয় তাহলে সুর হয় গম্ভীর, ভরাট।
সরল বাঁশি
সরল বাঁশি মুখে পুরে সরাসরি বাজানো হয়। এই বাঁশিতে মুখের ছিদ্র ছাড়াও মুখের ছিদ্রের কাছে আরও একটি ছিদ্র থাকে যা বাঁশি বাজানোর সময় সুরের উপর প্রভাব ফেলে।
আড় বাঁশি
বাংলায় আড় বাঁশির আরেক নাম মুরলী। আড় বাঁশির জনপ্রিয়তা সব থেকে বেশি। এই বাঁশিতে মোট ৭টি ছিদ্র থাকে এবং এটি আড়াআড়িভাবে মুখের সামনে ধরে শুষি দিয়ে বাজানো হয়। আড় বাঁশিতে আঙ্গুলের মাধ্যমে সুর নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
টিপরাই বাঁশি
টিপরাই বাঁশিতে বাঁশির উপরের ছিদ্রে শুষি দিয়ে বাজাতে হয়। টিপরাই এর দুই পাশই উন্মুক্ত থাকে যে কারণে সবাই এই বাঁশি বাজাতে পারে না। বিশেষ কৌশলে এই বাঁশি বাজাতে হয়। টিপরাই দেখতে হয় নলের মতো।
কদ বাঁশি
কদ বাঁশি অনেকটা হুইসেলের মতো। এই বাঁশিতে ফু দেওয়ার ছিদ্র থাকে মাথায়। এতে ছয়টি করে ছিদ্র থাকে। বিভিন্ন এলাকায় কদ বাঁশি বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন - কলম বাঁশি, মুখা বাঁশি, খিলা বাঁশি ইত্যাদি।
তালপাতার বাঁশি
গ্রাম অঞ্চলে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের এই বাঁশি বানিয়ে খেলা করতে দেখা যায়। পাতা পেঁচিয়ে শুষি দিলে একধরনের পোঁ পোঁ আওয়াজ হয়।
তুবড়ি
সাপুড়েরা তাদের খেলা দেখাতে যে বীণের ব্যবহার করে, তা সাধারণত তুবড়ি নামে পরিচিত। এই বীণে যে খোল ব্যবহার করা হয় শুষি দেওয়ার সময় বাতাস সেখানে গিয়ে জমা থাকে যে কারণে অন্যান্য বাঁশির মতো এখানে ফু দেওয়া বন্ধ করলেও সুর বন্ধ হয় না। খোলের মধ্যে যে বাতাস জমা থাকে সেই বাতাসেই তুবড়ির আওয়াজ কিছুক্ষণ চলতে থাকে। এই তুবড়ির আওয়াজ শুনলে সাপ অনেকটা আচ্ছন্নের মতো হয়ে যায় এবং সাপুড়ে সাপের খেলা দেখায়।
আরেকটি নিত্যদিনের সঙ্গী বাঁশি যার সাথে সকলেই পরিচত তা হলো শঙ্খ বা শাঁখ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শঙ্খ একটি মঙ্গলজনক জিনিস হিসেবে দেখা হয়। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা কোনো শুভ কাজের শুরুতে শঙ্খ বাজানোর রীতি আছে।
সুরাইয়া ফাতিমা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
s-14th-2019918686@mcj.du.ac.bd
