Loading...

বাংলাদেশের স্মারকনোট ও মুদ্রাকথন

| Updated: August 12, 2022 12:25:35


বাংলাদেশের স্মারকনোট ও মুদ্রাকথন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা, স্থান ,ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো জয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঝেমধ্যে কিছু প্রতীকী নোট বা মুদ্রা অবমুক্ত করে। এগুলো স্মারক নোট বা মুদ্রা হিসেবে অভিহিত। স্মারক নোটেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাক্ষর থাকে। অন্যান্য ব্যাংক নোটে ‘চাহিবামাত্র ইহার......দিতে বাধ্য থাকিবে', লেখা থাকলেও স্মারক নোটে থাকে ‘বিনিময় যোগ্য নয়'। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট স্মারক নোট বা মুদ্রা প্রকাশ করে থাকে। প্রচলিত ব্যাংক নোটের মান যেখানে ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ প্রভৃতি সেখানে স্মারক নোট বা মুদ্রার মান ১০, ২৫, ৪০, ৬০, ৭০ ইত্যাদি। বাজারে প্রচলিত মুদ্রার থেকে স্মারক মুদ্রা বা নোটকে আলাদা করতে সাধারণত এর মান অনিয়মিত রাখা হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি প্রচলিত মানের স্মারক নোটও অবমুক্ত করেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম স্মারক মুদ্রা অবমুক্ত করে ১৯৯১ সালে। বিজয়ের ২০তম জয়ন্তী উপলক্ষে ১ টাকার রূপার মুদ্রা অবমুক্ত করা হয়। এটি ছিল ১ টাকার (ফাইন সিলভার) কয়েন। পরের বছর ’৯২ সালে অলিম্পিক গেমসের ২৫তম আসর উপলক্ষে একই মানের রূপার মুদ্রা অবমুক্ত করা হয়েছিল। 

এরপরে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আলাদা আলাদা স্মারক মুদ্রা ১০ টাকার (ফাইন সিলভার) কয়েন প্রকাশ করা হয়। ১৯৯৮-তে বঙ্গবন্ধু সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০ ও ২০ টাকা মূল্যের স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রথমটি ছিল একশ শতাংশ নিকেলের। পরেরটি ৯০ শতাংশ ফাইন সিলভার এবং ১০ শতাংশ নিকেলের।  

২০০০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের স্মারক মুদ্রা অবমুক্ত করে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০ টাকার মুদ্রা প্রকাশ করা হয়। এরপরে প্রায় এক দশক বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো স্মারক নোট বা মুদ্রা প্রকাশ করেনি। ২০১১ তে মোট ৫টি স্মারক নোট বা মুদ্রা প্রকাশ করা হয়।  

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশের ৯০তম বছর উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যের (ফাইন সিলভার) আলাদা আলাদা মুদ্রা প্রকাশ করা হয়। বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৪০ টাকার (ফাইন সিলভার) মুদ্রা এবং ৪০ টাকার কাগুজে নোট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

পরের বছর ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৬০ টাকার নোট প্রকাশিত হয়। ২০১৩ সালে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড-এর ২৫ বছর এবং জাতীয় জাদুঘরের শতবছর পূর্তি উপলক্ষে ২৫ ও ১০০ টাকা মূল্যের স্মারক নোট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৮-তে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া উপলক্ষে ৭০ টাকার নোট এবং ২০২০-য়ে জাতির পিতার শততম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ১০০ টাকার নোট প্রকাশ করা হয়। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ৫০ টাকার নোট এবং সর্বশেষ এ বছর ২০২২-য়ে পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকার স্মারক নোট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

স্মারক নোট বা মুদ্রার অভিহিত মূল্য এবং বাজার মূল্য কিন্তু সবসময় এক নয়। ১০ টাকা মূল্যের ফাইন সিলভার কয়েনগুলো সাধারণ ৩৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সোনার কয়েনগুলোর বিক্রয়মূল্য বাজারে সোনার দামের সাথে ওঠানামা করে। স্মারক নোট ফোল্ডার হিসেবে বিক্রি হলে খানিকটা বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল শাখার ক্যাশ বিভাগের নির্দিষ্ট কাউন্টারসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে স্মারক নোট বা মুদ্রা নগদ অর্থের বিনিময়ে সংগ্রহ করা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এর টাকা জাদুঘর পরিদর্শনে আসা অতিথিদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্মারক নোট বা মুদ্রা উপহার দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন মুদ্রা জাদুঘরে বাংলাদেশের স্মারক নোট ও মুদ্রা প্রদর্শিত হয়।

সব স্মারকনোট ও মুদ্রা অবিনিময়যোগ্য। তাই এদের স্থান শুধু শৌখিন সংগ্রাহকের সংগ্রহশালায়। 

মেহেদি হাসান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

mahedi.bcpsc.2016@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic