ঘণ্টায় হাজার কিলোমিটার গতির নতুন এক গণপরিবহনের পরিকল্পনা করছে কানাডীয় কোম্পানি ট্রান্সপড। জীবাশ্ম জ্বালানী বা বিদ্যুতে নয়, অভিনব এ যান চলবে চৌম্বক শক্তিতে।
উচ্চগতির পরিবহন প্রযুক্তি নির্মাতা এ কোম্পানি দাবি করছে, একটি প্লেন টিকেটের চেয়েও কম খরচে ভ্রমণ করা যাবে তাদের ‘প্লেন-ট্রেন হাইব্রিড’বাহনে।
ট্রান্সপড তাদের নতুন এই বাহন ‘ফ্লাক্সজেট’এর ঘোষণা দিয়েছে জুলাই মাসে। এক টন ওজনের একটি ছোট মডেল বানিয়ে সংবাদকর্মীদেরও দেখিয়েছে তারা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের ‘হাইপারলুপ’ বাহনটির সঙ্গে মিল রয়েছে ট্রান্সপডের ‘ফ্লাক্সজেট’পরিকল্পনার। একটি ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে দিয়ে প্লেনের চেয়েও দ্রুত গতিতে চলাচল করবে ফ্লাক্সজেট।
টিউবের বাইরে থেকে ফ্লাক্সজেট দেখে মনে হতে পারে রেললাইনের ওপর দ্রুত গতিতে ছুটে যাচ্ছে একটি ট্রেন। কার্যত কোনো রেললাইনের ওপর চলবে না ফ্লাক্সজেট। ট্রেনের বগির মত দেখতে ফ্লাক্সজেটকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখার পাশাপাশি ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে চলাচলের শক্তি যোগাবে চৌম্বক শক্তি।
ফ্লাক্সজেট প্রযুক্তিতে কেন্দ্রে রেখে ‘ট্রান্সপড লাইন’নামের পরিবহন নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা করছে এর নির্মাতা কোম্পানি। প্রচলিত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মতই বড় শহর আর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ট্রান্সপড লাইনের স্টেশন থাকবে।
পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে কানাডার ক্যালগেরি এবং এডমন্টন শহর দুটিকে ট্রান্সপড লাইনের মাধ্যমে যুক্ত করার অবকাঠামো নির্মাণে ১৮০০ কোটি ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করছে ট্রান্সপড।
শহর দুটির মধ্যে দূরত্ব প্রায় তিনশ কিলোমিটার, এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
নির্মাতা কোম্পানি দাবি করছে, হালের সর্বোচ্চ গতির ট্রেনের চেয়েও তিন গুণ বেশি গতি থাকবে ফ্লাক্সজেটের। যাত্রীরা ক্যালগেরি থেকে এডমন্টনে পৌঁছাবেন ৪৫ মিনিটে।
ফ্লাক্সজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ট্রান্সপড প্রয়োজনীয় তহবিলের মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার সংগ্রহের খবর দিয়েছিল এ বছরের শুরুতেই।
এখনও গবেষণা ও নির্মাণাধীন পর্যায়ে আছে প্রকল্পটি। তবে সিএনএন বলছে, আপাতত ট্রান্সপড লাইন নির্মাণের জন্য জমি কিনছে ওই কোম্পানি। এছাড়া, পরিবেশের ওপর এ অভিনব গণপরিবহন প্রযুক্তি প্রভাব বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।
ট্রান্সপডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সেবাস্তিয়ান গেনড্রন সিএনএনকে বলেছেন, নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম অংশে এডমন্টন বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। সেজন্য ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা আছে তাদের। আর ক্যালগেরি ও এডমন্টনের মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী লাইনের কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালে।
ট্রান্সপডের পরিকল্পনা অনুযায়ী একই সঙ্গে ৫৪ জন যাত্রী এবং ১০ টন কার্গো বহনের সক্ষমতা থাকবে ফ্লাক্সজেটের।
নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা মহাসড়কে যানজট কমাতে ভূমিকা রাখবে এবং বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছয় লাখ ৩৬ হাজার টন কমিয়ে আনবে বলে দাবি করছে তারা।
সমান দূরত্বের গন্তব্যে যাত্রার বেলায় প্লেনের চেয়ে ফ্লাক্সজেটের খরচ ৪৪ শতাংশ কম হবে বলেও দাবি করছে ট্রান্সপড। তবে ফ্লাক্সজেট কবে নাগাদ জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা এখনও তারা দেয়নি।
সিএনএনকে গেনড্রন জানিয়েছেন, ২০৩৫ সাল নাগাদ ফ্লাক্সজেট প্রথমবারের মতো যাত্রী পরিবহন করবে বলে আশা করছে তার কোম্পানি। ডালাস আর স্যান অ্যান্টোনিওকে ট্রান্সপড লাইনে যুক্ত করতে টেক্সাসে আলোচনা চলছে।
দুবাইয়ের সঙ্গে আবু ধাবির সংযোগ স্থাপনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং সিডনির সঙ্গে ব্রিসবেনকে যুক্ত করতে অস্ট্রেলিয়াতেও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
