সড়ক যোগাযোগের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার প্রায় দুই মাস পর এর নিচতলা দিয়ে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সেতুর জাজিরা প্রান্তে এ কাজের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।
গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হলেও রেললাইন বসানোর অনুমতি মেলে ১৭ জুলাই। তারপর প্রক্রিয়া শেষে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটারের এই সেতুতে রেললাইন বসাতে সময় লাগবে ছয় মাস। আগামী জুনে সেতু দিয়ে রেল চলাচল শুরু হবে।
কাজ উদ্বোধনের আগে মন্ত্রী জাজিরা প্রান্তে পদ্মা রেলস্টেশন থেকে ডেমো ট্রেনে চেপে প্রায় চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উদ্বোধনস্থলে আসেন। এর আগে তিনি মাওয়া রেলস্টেশন ফাঁড়িতে বৈঠক করেন।
পদ্মা সেতুতে পাথরবিহীন রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করতে কয়েক দফায় সার্ভে শেষে প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর নকশা চূড়ান্ত করা হয়। পাথরবিহীন হওয়ায় নিচে রড সেট করে বসানো হচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি কংক্রিট স্লিপার। আর দুই পাশে থাকছে স্টিলের রেলপাত। রড, স্লিপার ও পাত স্থাপনের পর দেওয়া হচ্ছে ঢালাই।
সেতুর ওপরতলায় সড়কপথ চালু রেখেই নিচে রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে।
একই দিন রেলমন্ত্রী বেলা ২টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বামনকান্দা এলাকায় ভাঙ্গা জংশন স্টেশনে রেললাইনের স্লিপার স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে, রেলপথ মন্ত্রণালয়, সিএসসি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে আয়োজন করে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী বলেন, “ভাঙ্গা থেকে জাজিরা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এ পথে স্লিপার স্থাপনের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি, এ প্রতিষ্ঠান কাজের গতি বাড়িয়ে সঠিক সময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।”
মন্ত্রী বলেন, “দেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জন্য ভাঙ্গা রেলজংশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গা হয়েই ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, বরিশাল রেল যাবে। দেশের সবচেয়ে আধুনিক রেল জংশন নির্মিত হচ্ছে ভাঙ্গায়।”
পুরো প্রকল্পে ৬৫ শতাংশ অগ্রগতি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত পদ্মা সেতু হয়ে রেলপথের দূরত্ব ১৭২ কিলোমিটার। যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে গেলে দূরত্ব বাড়ে ১৯৩ কিলোমিটার।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই আলম চৌধুরী লিটনসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
