ঘুরতে কে না ভালোবাসে! দেশ-দেশান্তরে যেখানেই ঘুরতে যান না কেন, বাহন ছাড়া তো আর যাত্রা সম্পন্ন হবে না। বাহনের কথা আসলে বাস, ট্রেন, কার, প্লেন-এসবের বাইরে সাধারণত অন্যকিছু নিয়ে আমাদের ভাবনা আসে না। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু যানবাহন রয়েছে যা বেশ চমকপ্রদ এবং বাহন চিত্রে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
জার্মানির সাসপেনশন রেলওয়ে
১৯০১ সালে জার্মানির ভুপ্যাটাল শহরে এই রেলওয়েটি নির্মিত হয়েছে। সাধারণত রেলপথের উপর দিয়ে ট্রেন যায় কিন্তু এর বিশেষত্ব হচ্ছে এই রেলপথে ঝুলন্ত অবস্থায় ট্রেন চলে। নিঃসন্দেহে এই রেলপথটি অদ্ভুত খেয়ালের এক অদ্ভুত সৃষ্টি। এই ট্রেনটি ভুপ্যাটাল শহরের আশেপাশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৫,০০০ যাত্রী বহন করে থাকে।
কিউবার কোকো ট্যাক্সি
কোকো ট্যাক্সি, কিউবা ছবি: ট্রিপএডভাইজার
এই ট্যাক্সিগুলো দেখতে অনেকটা ফাঁপা নারিকেলের মতো। কিউবার হাভানা ও ভ্যারুড্যারো শহরে গেলে খুব সহজেই এর দেখা মিলবে। সাধারণত যে ট্যাক্সিগুলোতে চড়ে আমরা অভ্যস্ত তার তুলনায় এগুলো অনেক দ্রুতগামী এবং ভাড়াও তুলনামূলক কম। তবে হলুদ রঙের এই কোকো ট্যাক্সিগুলো শুধুমাত্র ট্যুরিস্টদের ভ্রমণের কাজে ব্যবহার করা হয়।
পর্তুগালের মন্ট টবোগ্যান
মন্ট টোবোগ্যান, পর্তুগাল ছবি: ট্রিপএডভাইজার
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দ্রুত নীচে নেমে আসার জন্য উনিশ শতকের দিকে পর্তুগালে এই বাহনের যাত্রা শুরু হয়। ইউক্যালিপটাস কাঠ ও বেতের সমন্বয়ে তৈরি ঝুড়ি আকৃতির এই বাহনে করে এক ধরনের রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে মান্টি ও ফানশ্যাল পাহাড়ের ঢালে প্রায় ২ কিমি আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করা যায়। এই পথ পাড়ি দিতে প্রায় ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে। দুইজন ব্যক্তি এই ঝুড়ি আকৃতির বাহনটিকে ঠেলে নিয়ে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেন।
কম্বোডিয়ার বাঁশের ট্রেন 
বাঁশের ট্রেন, কম্বোডিয়া ছবি: টেম্পলসিকার
ধাতব পদার্থের তৈরি ঝক ঝকাঝক শব্দে চলা লম্বা ট্রেনের সাথে আমরা পরিচিত। কিন্তু কম্বোডিয়ায় ইলেকট্রিক জেনারেটর ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এক ধরনের ট্রেন পাওয়া যায়। এতে নেই কোনো বিশেষ ধরনের অপারেটিং সিস্টেম। চালক বাদে প্রায় ৪ জন যাত্রী একেকবারে এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারে। এই ট্রেনটি রেললাইনের উপর দিয়ে প্রতি ঘন্টায় ৪০ কিমি বেগে চলে।
লন্ডনের ডাক ট্রাক
ডাক ট্রাক, লন্ডন ছবি: ড্রিমসটাইম
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার সামরিক বাহিনী এমন একটি ট্রাকের নকশা তৈরি করেছিল যা জলে ও স্থলে উভয় জায়গায় চলতে পারে। এই ট্রাকের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডাক ট্রাক’। বর্তমানে টেমস নদীতে এবং লন্ডনের ভূমিতে বিশেষ বিশেষ জায়গা পরিদর্শনের জন্য এই ট্রাক ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্লেজ গাড়ি
স্লেজ, আলাস্কা ছবি: আল্টিমেট ওন্টারিও
আলাস্কার সুমেরুবৃত্তের কাছাকাছি বছরে একবার এই বিশেষ স্লেজ গাড়িতে ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪ থেকে ৬ টি কুকুর এই গাড়ি টেনে নিয়ে যায়। এনকারেজ থেকে ন্যোম প্রায় ১,১৫০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় সেই সময়।
পেরুর বারকো দে টোটোরা নৌকা
টোটোরা নৌকা, পেরু ছবি: ফেসবুক
পেরুর টিটিকাকা হ্রদের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের ক্ষেত্রে এই নৌকা যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করে। টোটোরা নামের এক ধরনের শুকনো নলখাগড়া দিয়ে অনেকটা ড্রাগনের আদলে এই নৌকাগুলো বানানো হয়।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com
