Loading...

তাসমানিয়ান টাইগার কি আবার ফিরে আসবে?

| Updated: August 24, 2022 19:39:21


তাসমানিয়ান টাইগার কি আবার ফিরে আসবে?

আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে তাসমানিয়ান টাইগার! গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে একে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল৷ তবে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার বিজ্ঞানীরা আবারও একে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন পৃথিবীতে। আর এর জন্য মাল্টি মিলিয়ন ডলার প্রকল্পও হাতে নিয়েছেন তারা।

পৃথিবীর শেষ তাসমানিয়ান টাইগারটির মৃত্যু হয় ১৯৩৬ সালে, হোবার্ট চিড়িয়াখানায়৷ এই প্রাণিটি ছিল 'মারসুপিয়াল' ধরনের। অর্থাৎ, জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় মায়ের পেটের সাথে থাকা থলিতে অবস্থান করত।

তাসমানিয়ান টাইগারের আসল নাম থাইলাসিন। একসময় অস্ট্রেলিয়াজুড়ে এদের ছিলো অবাধ বিচরণ। তবে যখন সেখানকার দ্বীপপুঞ্জে শুরু হলো মানুষের বসবাস, তখন থেকে বন উজাড়ের ফলে তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ল। পাশাপাশি 'ডিনগোস' নামে এক বিশেষ প্রজাতির শিকারি কুকুরের আগমনও তাদের ক্রমে বিলীন হওয়ার জন্য দায়ী ধরা হয়।

একসময় সংখ্যা কমতে কমতে তারা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাসমানিয়া দ্বীপপুঞ্জেই৷ গায়ে চিতাবাঘের মত ডোরাকাটা দাগ থাকায় তারা পরিচিতি লাভ করে 'তাসমানিয়ান টাইগার' বা তাসমানিয়ার বাঘ বলে। তবে বাঘের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই প্রাণিটি মূলত ছিলো একরকম নেকড়ে ধরণের প্রাণিএকে তাসমানিয়ান উলফও বলা হতোনিউ গায়ানাতেও এদের উপস্থিতি মিলত।  

এরা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে ৮৬ বছর আগে। তবে তাদের আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন এখন থেকে চেষ্টা করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই আবার তাদের ফিরিয়ে আনা যাবে। এজন্য তাদের স্টেম সেল ব্যবহার করে ও জিন সম্পাদনার মাধ্যমে আবার তাদের দেখানো যেতে পারে পৃথিবীর আলো।  

এজন্য অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী ঠিক করেছেন বর্তমানে টিকে আছে এমন কোনো মারসুপিয়াল প্রজাতির প্রাণির শরীর থেকে একই রকম ডিএনএ আছে, এমন স্টেম কোষ সংগ্রহ করে জিনগত সম্পাদনা কৌশল ব্যবহার করে বিলুপ্ত প্রজাতিটি ফিরিয়ে আনবেন। আর একেবারে হুবহু না হলেও মূল প্রাণির যতটা সম্ভব কাছাকাছি একটি প্রাণি তারা ফিরিয়ে আনবেন৷

যদি সত্যি এটি সম্ভব হয় তবে তা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, এর হাত ধরে পরবর্তীতে আরো বিভিন্ন প্রাণিকে ফিরিয়ে আনা যাবে৷

গবেষণা প্রকল্পটির নেতৃত্বে আছেন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পাস্ক। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি এখন বিশ্বাস করি আর দশ বছরের ভেতরেই আমরা আবার জীবন্ত শিশু থাইলাসিন পেতে পারি। তারা হারিয়ে যাবার পর থেকে প্রায় একশ বছরের কাছাকাছি সময় চলে আসবে ততদিনে।”

এরকমটা সত্যিই ঘটলে তা হবে পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো প্রাণির প্রথমবারের মত বিলুপ্তাবস্থা থেকে আবার প্রত্যাবর্তনের ঘটনা। তবে এর সাফল্য নিয়ে সংশয় আছে অনেক গবেষকের।

যেমন - অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর এনসিয়েন্ট ডিএনএ তে সহযোগো অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত জেরেমি অস্টিন মনে করেন এসব হলো 'রূপকথার গল্প।' তার ভাষ্যে ‘এসব কিছু সত্যিকারার্থে যতটা না বিজ্ঞানের জন্য, তারচেয়ে বেশি বিজ্ঞানীদের মিডিয়ার নজর কাড়ার চেষ্টা।'

তবে এ ধারণা আজকেই যে নতুন এল - এমন নয়। প্রায় দুই যুগ আগে - ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান জাদুঘর তাসমিয়ান টাইগারের ক্লোন তৈরির চেষ্টা করতে শুরু করেছিল। এর ভেতর ডিএনএ সংগ্রহ করে প্রাণিজ আকৃতি দানের আরো কিছু চেষ্টা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রজেক্টটি মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানি কলোসাল এর জোটবদ্ধ হয়ে করছে।

কলোসাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি ফার্ম। গতবছর থেকেই জিন সম্পাদনা কৌশল ব্যবহার করে এই প্রাণিটিকে আবার জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা উঠে এসেছে শিরোনামে। তবে তারা কতটুকু সফল হবে, তাদের কাজের ফল কতটা ইতিবাচক হবে - তার উত্তর সময়ই দেবে।

মাহমুদ নেওয়াজ জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী

mahmudnewaz939@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic