বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ব্যানারে সাবেক নেতাকর্মীদের এক আলোচনাসভা পণ্ড হওয়ার পর সেখানে ফের ছাত্র রাজনীতি চালুর দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এক মানববন্ধনে তিনি বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা’ যারা মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।
“ছাত্ররাজনীতি আবারও সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বুয়েটের প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে আপনারা কী বোঝাতে চান? আপনারা কি বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করতে পারবেন? পারবেন না। আপনাদের জন্য অশনি সংকেত, এই জঙ্গি চক্র আপনাদেরকেই প্রথমে হত্যা করবে।”
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে ১১ অক্টোবর বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় বুয়েটের সেমিনার অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েট এর সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ খবরে বুয়েটের কয়েকশ শিক্ষার্থী মিলনায়তনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তোপের মুখে তড়িঘড়ি করে কর্মসূচি শেষ করে ক্যাম্পাস ছাড়েন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।
রোববার দুপুরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বুয়েটের প্রসঙ্গ ধরে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, “যারা যারা বঙ্গবন্ধুর শোকের প্রোগ্রাম বানচাল করার প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে, তাদেরকে আপনারা খুঁজে বের করুন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা উচিত। তারা রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের মত একটা কাজ করেছে।
“দেশের জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক নেতৃবৃন্দ কাজ করেছে, কিন্তু জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের সাথে কি বেয়াদবিটা করল দেখেছেন? এ ধরনের বেয়াদবদের থেকে ভালো কিছু আসবে- কখনও তা আমি মনে করি না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।

বুয়েট ক্যাফেটারিয়ার সামনে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, রোববার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটারিয়ারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বলেন শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় শোক দিবসের বিরোধীতা নয়, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির পুনরুত্থানের আশঙ্কায় ‘ছাত্রলীগের ব্যানারে কর্মসূচির’ প্রতিবাদ করা হয়েছে।
তাদের প্রতিবাদকে 'ভিন্ন খাতে' প্রবাহিত করতে 'অপপ্রচার' করা হচ্ছে দাবি করে শিক্ষার্থীরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে অপপ্রচার তাদেরকে ভীত ও ব্যথিত করেছে। শনিবারের কর্মসূচি কোনোভাবেই শোক দিবসের অনুষ্ঠান বিরোধী ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে 'উজ্জীবিত' দাবি করে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সেমিনার কক্ষের অনুষ্ঠান যথারীতি সমাপ্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখানে কোনোরূপ বাধা দেয়নি। বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, “অতীতে বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিরাজমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বলি হয়েছে, যাদের সর্বশেষ ছিল আবরার ফাহাদ। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবায় নিরাপদ ক্যাম্পাস যেন আবারও ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না হয়, সেই আশঙ্কা থেকে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়েছিল।"
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার ১৫ অগাস্ট বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে একটি স্মরণসভা হবে।
এছাড়া উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
