ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে ‘কোনো অনুরোধ করা হয়নি’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, বাইরের কেউ ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারে না।
শুক্রবার রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে অনুরোধ করতে ‘সরকারের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভারত সফরে গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলে থাকলে, তা তার ‘নিজস্ব বক্তব্য’। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
আগের দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, “শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা অনুরোধ করেছি।”
শুক্রবার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, আমাদের সরকারের কারও বক্তব্য নয়। বন্ধু, বন্ধু আছে। অহেতুক কথা বলে সম্পর্কটা নষ্ট করবেন না।”
কাদের বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে ‘সংশয়, অবিশ্বাস’ তৈরি হয়েছিল, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দিয়েছে।
“শেখ হাসিনা সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে আমি বলতে চাই, ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। একাত্তরের রক্তের বন্ধনে আমরা আবদ্ধ। কিন্তু তাই বলে আমরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে অনুরোধ করব- এ ধরনের কোনো অনুরোধ আওয়ামী লীগ করে না।
“আর শেখ হাসিনা সরকারেরও কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের সমর্থন, ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। বাইরের কেউ আমাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থনেই ক্ষমতায় টিকে আছে, ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, “ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। ভারতের সঙ্গে আমরা বৈরিতা চাই না। ভারতের সঙ্গে বৈরিতা করে ৭৫ এর পর নিজেদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।”
সাম্প্রদায়িক শক্তিকে চিনে রাখার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর সরকার ছিল মাইনোরিটিবান্ধব সরকার। শেখ হাসিনার সরকার মাইনোরিটিবান্ধব সরকার। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। কেউ আপনাদের বাধা দেয়নি।“
