দুই দিন জ্বলতে থাকা ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলা সাহায্যকারী দল পাঠিয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
কিউবার মাতানজাসের একটি ডিপোতে জ্বালানি সংরক্ষণ করা একটি ট্যাংকে বজ্রপাত আঘাত হানার পর সৃষ্ট ভয়াবহ আগুনে অন্তত একজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার দ্বিতীয় দিন ধরে জ্বলতে থাকা এই ‘তেলখেকো’ আগুন নিয়ন্ত্রণে মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলা সাহায্যকারী দলও পাঠিয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হাভানার ৬০ মাইল পূর্বের স্থাপনাটিতে থাকা ৮টি ট্যাংকের একটিতে বজ্রপাত আঘাত হানে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার সকালে দ্বিতীয় আরেকটি ট্যাংকও বিস্ফোরিত হয়।
বাতাসের সাহায্য নিয়ে বিস্তৃত হওয়া আগুন তৃতীয় আরেকটি ট্যাংক থেকেও বিপজ্জনক দূরত্বে অবস্থান করছে।
“জটিল এ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করার প্রস্তাব দেওয়ায় মেক্সিকো, ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া, চিলির সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র যে কারিগরি পরামর্শ দিতে চেয়েছে, তাকেও স্বাগত জানাচ্ছি আমরা,” টু্ইটারে বলেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল।
কিউবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিস্ফোরণে অন্তত ১২১ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি, ৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
আগুনে এখন পর্যন্ত নিহতের তালিকায় একজনের নাম উঠেছে। ১৭ দমকলকর্মীর খোঁজ মিলছে না। ওই এলাকাটি থেকে এরই মধ্যে হাজারেরও বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
“গতকাল রাতে ৮টার দিকে বড় একটি বিস্ফোরণ হয়েছে, এরপর আজ ভোর ৫টার দিকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ এত জোরে হয়েছিল যে তা এলাকাকে সূর্যের মত আলোকিত করে তুলেছিল,” বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আলফ্রেডো গনজালেজ।
দিয়াস-কানেল মধ্যরাতে আগুন লাগার স্থান পরিদর্শন শেষে শনিবার থেকে দুর্যোগ মোকাবেলা কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।
সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের পানি নিয়ে এসে আগুনের বিস্তৃতি থামানোর চেষ্টা করছে; ধোঁয়া এরই মধ্যে হাভানায় পৌঁছে গেছে, সেখানকার বাসিন্দাদেরকে এসিড বৃষ্টি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
কিউবা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জ্বালানির ঘাটতি ও দৈনন্দিন লোডশেডিংয়ে ভুগছে। আগুনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও সংরক্ষণের সক্ষমতা নষ্ট হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
দেশটিতে গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয়দের ছোটখাট বিক্ষোভও হয়েছে।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্টিনস ল্যাটিন আমেরিকা অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট কর্মসূচির পরিচালক জর্জ পিনন বলছেন, ওই জ্বালানি ডিপোতে থাকা ৮টি বড় বড় ট্যাংকের প্রত্যেকটিতে ৩ লাখ করে ব্যারেল রাখার সক্ষমতা আছে।
“কেবল কাছের একটি নয়, বেশ কয়েকটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি পাঠানোর পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতো এটি। যে কারণে বজ্রপাতে আগুন ধরে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বড়সড় দুঃসংবাদই হতে পারে,” বলেছেন তিনি।
