নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে না গিয়ে বিএনপি ইভিএম প্রত্যাখ্যান করায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেছেন, তাদের মনে তবে কোন খেলা?
বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ- স্বাচিপ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনাসভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা একদিকে বলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে নির্বাচনে আসবে না। আবার বলে, ইভিএমে আসবে না, ইভিএম চান না। তাহলে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে কেন গেলেন না? ওখানে গিয়ে বলতেন।
“তাহলে আপনাদের মনে কী? আপনাদের মনে কোন খেলা? কোন চক্রান্তের খেলা? কী চান আপনারা?
দলটির পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নির্বাচন চান না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালতের রায়ে বিদায় নিয়েছে, আবার সেখানে যেতে চান?
“দুনিয়ার অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় এখানেও রুটিন দায়িত্ব নিয়ে সরকার নির্বাচনে সহযোগিতা করবে। আর নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।”
সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নির্বাচন কমিশন ইভিএম পদ্ধতি বেছে নিয়েছে বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন ছাড়া এমন সুযোগ নেই।
“মির্জা ফখরুল সাহেব সরকারের পরিবর্তন যদি চান সোজাসুজি কথা হলো, পরিষ্কার বক্তব্য হলো নির্বাচনে আসতে হবে, নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই।
“এ কথা সে কথা বলে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন, নির্বাচনের আধুনিক পদ্ধতি, টেকনোলজিতে বিশ্বাস করেন না। স্থানীয় সরকারের অনেকগুলো নির্বাচন পরীক্ষামূলকভাবে এই ইভিএমে হয়েছে।
“এগুলো কি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল? বলুন? সিটি করপোরেশন গুলোতেও হয়েছে, সিলেটে হয়েছে, বরিশালে হয়েছে, কুমিল্লাতে হয়েছে। কেউ কি কোনো প্রশ্ন করেছে?
সেতুমন্ত্রী বলেন, “আমরা জালিয়াতি মুক্ত, কারচুপি মুক্ত। সিল মারামারির নির্বাচন চাই না, সে জন্যই ইভিএম চাই।
“যারা সিল মারামারি নির্বাচনে অভ্যস্ত, যারা নির্বাচন বলতে কেন্দ্র দখল, যারা নির্বাচন বলতে ব্যালট পেপারে সিল মারা... এটা বোঝে, যারা নির্বাচন বলতে ভোট কারচুপি বোঝে, ভোট জালিয়াতি বোঝে তাদের অনেকেই ইভিএমকে সমর্থন করে না। আমি বিএনপির কথাই বলছি।”
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিএনপি নির্বাচনে আসবে আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আসবেন (নির্বাচনে), আসতে হবে, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইলে আসতে হবে।
“জনগণ আমাদের ক্ষমতার উৎস। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত না করলে আমরা বিদায় নেব। আমরা কারও দয়ায় বা নির্বাচন কমিশন ইভিএম দিয়েছে এইসব দেখে আমরা রাজনীতি করি না।”
বর্তমান সরকারের কাছ থেকে জনগণ মুক্তি চায় বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “জনগণ মুক্তি চায় না, মুক্তি বিএনপি...। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
“একটা পদ্মা সেতুতেই কাত হয়ে গেছে। একটা পদ্মা সেতুতেই আপনাদের বুকের ব্যাথা বেড়ে গেছে। সামনে মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কর্ণফুলি টানেল, সামনে এলিভেটেড এক্সপ্রেস, আরও কত প্রকল্প।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাচিপের সভাপতি আবু নাসার রিজভীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিএমএ-এর সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, সাধারণ সম্পাদক এম এ আজিজ বক্তব্য দেন।
