Loading...
The Financial Express

অতিরিক্ত রূপচর্চাই কাল হয় রাণী প্রথম এলিজাবেথের

| Updated: August 24, 2022 13:49:08


অতিরিক্ত রূপচর্চাই কাল হয় রাণী প্রথম এলিজাবেথের

নারী মানেই রূপচর্চা, নারী মানেই প্রসাধনী। নারী মাত্রই সাজতে ভালোবাসে। একজন নারীর কাছে সাজগোজ ঠিক কতটা প্রিয় তা বোঝাতে জনৈক লেখক তার লেখনীতে মজার ছলে বলেছেন, “যদি কোনো নারীর ফাঁসি হয়, ফাঁসিতে যাওয়ার আগেও সে তার প্রসাধন ঠিক করার জন্য সময় চাইবে।”

তবে অতিরিক্ত কিছুই কিন্তু ভালো নয়। মেকআপের ব্যবহার সেই অতীতকাল থেকেই চলে আসছে, তবে আধুনিকতার সাথে সাথে সেসবের উপাদান বা ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এসেছে মাত্র। অতিরিক্ত রূপচর্চা কখনো কখনো এতটাই হানিকর হয়ে উঠতে পারে যে তা একজনের মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। অবাক করার মতো তথ্য হলেও এটাই সত্যি যে অতিরিক্ত রূপচর্চা করার কারণেই মৃত্যু হয়েছিল রাণী প্রথম এলিজাবেথের।

সেসময় নারীদের সাদা ধবধবে ত্বককে ইংরেজদের অভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। এটা সকলেরই জানা রয়েছে যে রাণী প্রথম এলিজাবেথ দেখতে অনেকটা তুষারের ন্যায় শুভ্র ছিলেন। আর এরজন্য তিনি তার চেহারায় মেকআপের পুরু আস্তর তৈরি করতেন। শুধু ত্বকের জ্যোতি বাড়ানোর জন্য নয় একসময় তার চেহারায় ফুটে উঠা স্মল পক্সের অসংখ্য দাগ ঢাকতে তিনি প্রচুর সময় ব্যয় করে ত্বকে ভারী মেকআপ করতেন।

১০ অক্টোবর, ১৫৬২ সালে রাণী এলিজাবেথ ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হলেন। পরবর্তীতে সেই জ্বর স্মল পক্স পর্যন্ত গড়াল। কিছুদিন বাদে স্মল পক্স তো সেরে গেল, কিন্তু পুরো মুখ জুড়ে মারাত্মক ক্ষতের চিহ্ন রয়ে গেল।

এর ফলে একদিকে যেমন রাণীর শারীরিক সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হলো, অপরদিকে জনসাধারণের তীর্যক সমালোচনা ও মন্তব্যে পরিস্থিতি বেশ প্রতিকূল হয়ে উঠল। বিষয়টি এতোটাই অপ্রীতিকর হয়ে উঠছিল যে ১৫৮৬ সালে পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক অধিবেশনে সকলের উদ্দেশ্যে তিনি এ নিয়ে কিছু আক্ষেপের কথাও বলেছিলেন।

একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তাকে এই ক্ষত ঢাকতে হবে এবং এর জন্য মেকআপের বিকল্প আর কি বা হতে পারে!

তিনি সাদা সীসা ও ভিনেগারের সংমিশ্রণে তৈরি এক ধরনের প্রসাধন ব্যবহার শুরু করলেন। মুখে ও গলায় তিনি এই প্রসাধন ব্যবহার করতেন।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, সীসা ত্বকের ব্যবহারের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ নয় এবং ব্যবহারের ফলে চুল পড়ে যাওয়া, ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়া এমনকি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সহজ কথায় সীসা ব্যবহারের ফলে ত্বক ক্ষয় হয়।

আর ঠোঁট দুটোকে লাল রঙে রাঙিয়ে তোলার জন্য রাণী এলিজাবেথ পারদের প্রধাণ আকরিক সিনাবার ব্যবহার করতেন।

যেখানে দিনশেষে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করা আবশ্যক সেখানেরাণী একদিন মেকআপ করলে তা পরবর্তী এক সপ্তাহের জন্য রেখে দিতেন। এক সপ্তাহ পেরোলে ডিমের খোসা চূর্ণ, ফিটকিরি ও পারদ-এই তিনটি উপাদান একত্রে মিশিয়ে তৈরি এক ধরনের মিশ্রণ দিয়ে মেকআপ তুলতেন। টানা এক সপ্তাহ ধরে একনাগাড়ে ত্বকের উপর মেকআপ থাকার কারণে ত্বকের মধ্য দিয়ে সীসা শরীরে প্রবেশ করত।

কথিত আছে যে, ত্বকের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলে তা আড়াল করার জন্য রাণী ত্বকের উপরে এতো পুরু করে মেকআপ করতেন যে তা ত্বক থেকে প্রায় এক ইঞ্চি মতো উঁচু হয়ে যেত।

দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে ক্ষতিকর মেকআপ পণ্য ব্যবহারের কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে স্মৃতিশক্তি লোপ, চিড়চিড়ে ভাব এবং বিষাদগ্রস্ততায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

পারদ ধীরে ধীরে তার শরীরের মাংস খেয়ে ফেলেছিল-এমন কথা বলা হলে তা কি খুব অযৌক্তিক হবে!

১৬০৩ সালে রাণী প্রথম এলিজাবেথ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু ঠিক কী কারণে হয়েছিল তা সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তবে অনেকেই ধারণা পোষণ করেন যে, শেষ জীবনে প্রিয় মানুষদের হারানোর গভীর শোক নয় বরং ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল।

এটা ঠিক কতটা সত্য সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সীসা ও পারদের ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী ব্যবহার তার শারীরিক জটিলতা ও মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার জন্য যে অনেকাংশেই দায়ী সেটা বেশ জোর দিয়েই বলা যেতে পারে।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com

Share if you like

Filter By Topic