সাম্প্রতি চীনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরও এক আইনপ্রণেতা তাইওয়ান সফর করছেন। এবার তাইওয়ানে গেছেন মার্কিন সেনেটের ‘কমার্স অ্যান্ড আর্মড সার্ভিসেস কমিটিস’ এর এক আইনপ্রণেতা।
বৃহস্পতিবার তিনি তাইওয়ানে পৌঁছান। এ নিয়ে চলতি মাসে তৃতীয় দফায় কোনও উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তা তাইপে সফরে গেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানে করে তাইওয়ানে যান সেনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারে তাকে সংশান বিমানবন্দরে নামতে দেখা গেছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডগলাস তাকে স্বাগত জানান বলে জানিয়েছে ব্ল্যাকবার্নের দপ্তর।
এক বিবৃতিতে এই মার্কিন সেনেটর বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাইওয়ান আমাদের শক্তিশালী অংশীদার। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তাইপে সফর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির হুমকি-ধামকিতে আমি এই দ্বীপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব না।”
চীন তাইওয়ানকে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অংশ মনে করে। যা পুনরায় একদিন মিলিত হবে। এজন্য প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে রেখেছে বেইজিং।
তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সফর দ্বীপটির বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘উস্কানি’ দেবে বলে মনে করে চীন। এ কারণে তারা প্রথম থেকেই মার্কিন কর্মকর্তাদের সফর নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।
এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের জেরে ‘কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে’ তাইওয়ান ঘিরে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন।
মহড়ায় তারা ‘লাইভ ফায়ার’ করেছে। তাইপের দাবি, তাইওয়ানে উপর দিয়ে চীন কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে। তার মধ্যেও পেলোসির তাইপে সফরের ১২ দিনের মাথায় গত ১৪ অগাস্টে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দলের তাইওয়ান সফরে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
তাইওয়ানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডি ফ্যাক্টো দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানোও হয়। ক্ষুব্ধ চীন এখনও তাইওয়ান প্রণালীর কাছে তাদের নিয়মিত সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্নের তাইওয়ান সফরের খবর প্রকাশ পেল। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে শুক্রবার সাক্ষাৎ করেছেন ব্ল্যাকবার্ন।
তাইওয়ানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। এরপর শনিবার এ মার্কিন আইনপ্রণেতার তাইওয়ান সফর শেষ করার কথা রয়েছে।
ব্ল্যাকবার্নের এ সফরের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিয়ু পেংয়ু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উসকানির জবাবে ‘দৃঢ় পাল্টা ব্যবস্থা’ নেবে বেইজিং। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
