দুর্নীতি দমন কমিশনের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কাছে কেউ কোনো তদবির করেনি বা সরকার থেকে কোনো তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
তবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে আত্মচাপ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ইকবাল মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কোনো মন্ত্রী বা এমপি কখনও চাপ প্রয়োগ করেননি। শুধু একদিন একজন মন্ত্রী আমার কাছে এসেছিলেন তিনি আমার বন্ধু হন। তিনি এসেছিলেন এক কাপ চা খেতে, কোনো তদবির করতে আসেননি। আর কোনো মন্ত্রী মহোদয় আমার কাছে আসেননি। কোনো মন্ত্রী মহোদয় আমার কাছে ফোন দিয়ে এমন কিছু বলেননি। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি, আমার ওপর কোনো চাপ ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে আমার ওপর কোনো চাপ ছিল না।
একটি বিষয় স্বীকার করতে হয়, যখন আমার মনে হয়েছে যে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে, সেই ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে আমি সরে এসেছি। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সব সময় আমার কাছে প্রথম ছিল। সেই ক্ষেত্রে আমার নিজের ওপর নিজের চাপ ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে এক সময় নখদন্তহীন বাঘ বলা হলেও সেসব দিন এখন অতীত হয়েছে। দুদক এখন যথেষ্ট ক্ষমতাশালী।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের নখ-দাঁত নেই- সেটি অনেক পুরাতন ও প্রাচীন কথা। এটি এখন আর নেই। দুদক যথেষ্ট ক্ষমতাশালী প্রতিষ্ঠান। যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে দুদকের। আইনি ম্যান্ডেট রয়েছে এবং আমি মনে করি যতটুকু আইন আছে, এই আইন দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।
এরপরও এই কমিশনের পক্ষ অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু আপনারা বিশ্বাস করবেন যে আমরা চেষ্টা করেছি। এই চেষ্টার যদি কোনো ত্রুটি থাকে, সেই ত্রুটি আমার।
ইকবাল মাহমুদ বলেন, সব দুর্নীতি দুদকের আওতায় পড়ে না। তারপরও যে কোনো দুর্নীতির কথা এলেই দুদকের কথা এসেছে। তাতে তাদের বিব্রত হতে হয়েছে।
আসলে সকল দুর্নীতি কমিশনের আওতায় নই। এটি আমরা হয়ত বোঝাতে পারিনি। এক কমিশনের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না। পরবর্তী কমিশন এটাকে আরও বেগবান করবে।
২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ইকবাল মাহমুদ। তার সময়েই দুদকের ভুলে পাটকল শ্রমিক জাহালমের জেল খাটার ঘটনা বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দেয়।
এছাড়া ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের ঘুষ নেওয়ার ঘটনাও ছিল একটি আলোচিত ঘটনা।