৯৮ শতাংশের পর আরও ১.০ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে চীন

দুই দেশের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়েও চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তোলা হয়েছে


এফই অনলাইন ডেস্ক | Published: August 07, 2022 13:56:20 | Updated: August 07, 2022 20:36:29


৯৮ শতাংশের পর আরও ১.০ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে চীন

নতুন করে আরও ১ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে চীন; সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ পণ্য ও সেবা বিনাশুল্কে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে প্রবেশাধিকার পাবে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নতুন এই সুবিধা দেওয়র কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া সফরের অংশ হিসাবে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোববার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। পরে তাদের উপস্থিতিতে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় দুই দেশের মধ্যে।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি রপ্তানিনির্ভর। তার জন্য একটা সুসংবাদ।

সেটি হচ্ছে ৯৮ শতাংশ আইটেমে (চীন) ডিউটি ফ্রি করেছিল। বাকি যে ২ পারসেন্ট, এটা সব সময় তাই হয় যে কোনো দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, দেখা যায় এটাতে সবচেয়ে বেশি সেনসিটিভিটি ও গুরুত্ব থাকে। উনারা ১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও অতিরিক্ত ১% শতাংশে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দেবেন।

ওই ১ শতাংশের আওতায় বাংলাদেশের কোন কোন পণ্য বা সেবা থাকতে পারে সেই ধারণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের বিশেষ করে গার্মেন্টস এবং উভেন প্রডাক্টসে কিছু লিমিটেশনস ছিল, আরও বেশি কিছু প্রডাক্টে লিমিটেশনস ছিল, আমরা বিকাল নাগাদ তালিকাটা পাব।

(চীনের) কমার্শিয়াল কাউন্সিলর দূতাবাসে ফিরে গেলে তালিকাটা প্রেসকে দেবেন বলেছেন। সুতরাং আপনারাও পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাড়তি এই ১ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চীনা মন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ পণ্যে চীন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬৮০ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য চীনে রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে চীন থেকে আমদানি করেছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দুদেশের মধ্যে একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকে প্রস্তাব তোলা হয়েছে বলে জানান শাহরিয়ার আলম।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে আনোয়ারায় যে চায়নিজ ইকোনমিক জোন তৈরি হচ্ছে, সেখানে অধিক পরিমাণ চীনা কারখানা, প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে তারা সহায়তা করবেন।

তিনি বলেন, আনোয়ারায় ওই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত চালু করার জন্য বাংলাদেশের তরফ থেকে যাতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেজন্য বৈঠকে তাগাদা দিয়েছে চীনা পক্ষ।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ক্ষেত্রে নতুন করে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তোলা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এটা নতুন প্রস্তাব। শুধু উল্লেখ করেছেন। আমরা পরে এটা নিয়ে আরও আলোচনা করব।

এটা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সাথে সম্পৃক্ত কি-না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, না বোধহয়।

চীনের সঙ্গে ৪ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বৈঠকে, সে কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এফডিআই বাড়ানোর জন্য একসাথে আমরা কাজ করব, এটা বাংলাদেশের তরফ থেকে, শেখ হাসিনা সরকারের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উনি বলেছেন, আমাদের বাণিজ্যিক ভারসাম্য কমিয়ে আনা প্রয়োজন, এটা একটা বড় ইস্যু।

চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা-কুংমিং ও ঢাকা-গুয়াংঝু রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিয়েছে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, সরাসরি এ ফ্লাইট চালু হলে তা দুই দেশের নাগরিকদের সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও বিস্তারিত আলাপ হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা (চীন) চেষ্টা করছে। মিয়ানমারের ভেতরের চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে শুধু বাংলাদেশ না, অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে। আপনারা বুঝতে পারছেন, এই ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো কী। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে চীন অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা খুব জোরালোভাবে বলেছেন, যে চীনের সহযোগিতা এক্ষেত্রে প্রয়োজন এবং চীন অনেক দূর এগিয়ে ছিল। এই এগিয়ে যাওয়াটার একটা কনক্লুশন দরকার। তিনি সেটা বলেছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাইওয়ান ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং চীনের গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভের বিষয়টিও বৈঠকে এসেছে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত তারা বলেছেন। এটা আলোচনার বিষয় নয়। কারণ আমাদের প্রায়োরিটিতে অন্যান্য জিনিস আছে। মিটিংয়ের সময়, সংক্ষিপ্ত সময়।

এটা তারা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের যে অবস্থান, এক চীন নীতি আমরা যে পুনর্ব্যক্ত করেছি, এটার কারণে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

Share if you like