একটা সময় নির্ভুল গণনাযন্ত্র হিসেবে পরিচিতি ছিল এই কম্পিউটারের। সময় যেতে না যেতেই যন্ত্রটি বুদ্ধিমত্তায়ও মানুষকে টেক্কা দেয়ার চ্যালেঞ্জে অংশ নিল। সম্প্রতি মিডজার্নি এআই এর ওয়েবসাইট ঢুকলেই চোখে পড়বে কম্পিউটারে কাজ করা দৃষ্টিনন্দন, গতিশীল সব ডিজাইন যার সৌন্দর্য ও পরাবাস্তবতা চমকে দিতে বাধ্য।
মিডজার্নি এআই মেশিনের সূক্ষরূপের আরেকটি উদাহরণ। ব্যবহারকারী প্রদত্ত টেক্সট থেকে মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে আর্ট তৈরী করার নজির অনেকটা চমকপ্রদ এবং চিত্তাকর্ষক। কোনো বস্তু, কেন সেই বস্তু সেটি সিস্টেমের অ্যালগরিদম নির্ধারণ করে কোনো পূর্বপ্রদত্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই। অনেকটা এমন যে মানুষের মস্তিস্ক বিড়াল দেখলেই শনাক্ত করে সেটি বিড়াল। আগে থেকে একে বলে দেয়া হয়নি যে কখন কোনো প্রাণীকে বিড়াল হিসেবে শনাক্ত করা যাবে।
মিডজার্নি কাজ করছে এটির মূল চালিকাশক্তি অ্যালগরিদম এর সাহায্যে। কৃত্রিম উপায়ে এমনভাবে আর্ট তৈরী করাটাও একটি চলমান প্রক্রিয়া যেটি কিনা এখনো উন্নয়নশীল অবস্থায় আছে এবং থাকবেও। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত বেশি ডেটা পেয়ে থাকে, ততো বেশি সক্ষম হয়ে ওঠে। তার উপর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং গবেষকরা সময়ের সাথে সাথে তাদের বানানো অ্যালগরিদম - এ আরো পূর্ণতা দিতে পারেন।
ছবি তৈরীর জন্য আগে সিস্টেম কে বুঝতে হয় যে কেন একটি ছবিকে ছবিই বলা হবে। অর্থাৎ ছবিতে কী কী উপকরণ থাকতে পারে সেগুলো।
এসব ছবিতে রকমারি শৈল্পিক কাজ করা হয়। সেই কাজগুলোকে শনাক্ত করা এবং সেই অনুযায়ী কোন ছবিতে কেমন শৈল্পিক ছোঁয়া ভালো লাগবে সেটির উপর ভিত্তি করে ছবি উৎপাদনের কাজটিও করতে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে।
বেশ জটিল প্রক্রিয়া সেটা বলাই বাহুল্য। তবুও মিডজার্নি একটি সফলতার নাম, কারণ যন্ত্রবিলাস কে এটি নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। শিল্পীর কাছে নয়, এখন কম্পিউটার ও এনে দেবে মনের মতো চিত্রকলা। তৈরী হওয়া চিত্রগুলি অনন্যসুন্দর।
প্রতিটি যন্ত্র কম্পিউটার সিস্টেমের বৈশিষ্টগুলো তুলে আনছে একে একে। মিডজার্নি এআইও এক্ষেত্রে ভিন্ন নয়। ব্যবহারকারী থেকে নেয়া টেক্সট এর সাহায্যে ইন্টারনেট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ছবি খুঁজতে থাকে এটি। এরপর অ্যালগরিদম এর সহায়তায় টেক্সট এর বর্ণনা অনুযায়ী তৈরী করে চিত্র।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পৃথিবীতে সাড়া জাগিয়ে তুলছে একের পর এক। জটিল কম্পিউটারভিত্তিক কাজ করতে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কোনো সিস্টেম বা যন্ত্র কে দাঁড় করাতে। তবুও কম্পিউটার প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, এবং গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্টার পর একেকটি সিস্টেম বা যন্ত্র বাস্তব রূপ ধারণ করে। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবার জন্য জানতে হয় জটিল সব কম্পিউটার অ্যালগরিদম - বা কম্পিউটারকে নির্দেশনা দেয়ার প্ৰণালী, গাণিতিক হিসেব, আর তথ্যসম্ভার বা ডেটাসেট।
মাঝে মাঝে এই অ্যালগরিদম গবেষক বা প্রকৌশলীরা তৈরী করতে করতে অনেক সময় নেন, কারণ একটি স্বয়ংক্রিয়, বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বস্তু তৈরী করা যেটি কিনা মানব মস্তিস্কের মতো জটিল সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবে - এমন কিছু তৈরী করা বাস্তবিকভাবেই কঠিন।
তবে মোটেও দুর্গম রাস্তা দমিয়ে রাখেনি মানুষের অদম্য কৌতূহল আর মেধাকে। এরই ফলাফল মিডজার্নি এআই। ব্যবহারকারী প্রদত্ত কুয়েরি বা নির্দিষ্ট ডেটা খুঁজে বের করা সম্পর্কিত বিভিন্ন নির্দেশনা নেয়ার পর মিডজার্নি এআই এটির অ্যালগরিদম এর মাধ্যমে উৎস হিসেবে রাখা ছবিগুলোর মধ্যে থেকে এবং কৃত্রিম উপায়ে শৈল্পিক বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করার মাধ্যমে একটি ছবি তৈরী করে যেটা চূড়ান্ত ছবি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মিডজার্নি এআই এটির বেটা ভার্সন নিয়ে আসার পর যেকোনো ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করার পর পঁচিশটি ছবি বিনামূল্যে পাবেন, এরপর থেকে নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে সেবা গ্রহণ করতে হবে।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ডিসকর্ড যুক্ত রয়েছে মিডজার্নি এআই এর সঙ্গে। যেই ছবিগুলি তৈরী হয় সেগুলো পাওয়া সম্ভব ডিসকর্ড একাউন্টে প্রবেশ করার মাধ্যমে। কোনো ব্যবহারকারী মিডজার্নি এআই প্রদত্ত ব্যবহার নির্দেশনা ছাড়াও ডিসকর্ডে নির্দিষ্ট চ্যানেলে যুক্ত হয়ে, মেসেজবক্স এ নির্দিষ্ট কমান্ড টাইপ করে তার ছবি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। নির্দিষ্ট কমান্ড নির্দিষ্ট সাড়া দেয়। এছাড়া একজন ব্যবহারকারী ডিসকর্ড চ্যানেল থেকে ছবিতে কি স্টাইল প্রয়োগ করবেন সেটিও দেখতে পারেন।
সোফিয়া নূর রাফা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়নরত।
sofiautilitarian@gmail.com