অনুশীলনে কোনো ঘাটতি না রাখা, নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো, এসব দিক থেকে বিরাট কোহলিকে মনে করা হয় আদর্শ একজন। সেই তিনিই টানা ১ মাস ব্যাট স্পর্শ করেননি! মানসিক অবসাদ এমনভাবে জাপ্টে ধরেছিল যে নিজের সঙ্গে লড়াইয়ে আর পেরে উঠছিলেন না ভারতীয় ক্রিকেটের মহাতারকা। তাই বেছে নিয়েছিলেন সবকিছু ছেড়েছুড়ে ক্রিকেট থেকে দূরে নির্ভার থাকার পথ।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
স্টার স্পোর্টসের শো বিরাট: হার্ট টু হার্ট-এ কোহলি খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন মানসিক অবসাদের সঙ্গে তার লড়াই নিয়ে। একটা সময় পর্যন্ত যদিও তিনি নিজেই এটা মেনে নিতে পারছিলেন না, তবে পরে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে মুখোমুখি হন বাস্তবতার।
ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে ২২ গজে রাজত্ব করা ব্যাটসম্যান বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের ছায়া হয়ে আছেন। একসময় যার ব্যাটে সেঞ্চুরি ছিল সবচেয়ে নিয়মিত দৃশ্য, সেই তিনি ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর থেকে আর শতরানের দেখা পাননি। একটা সময় পর্যন্ত অবশ্য সেঞ্চুরি না পেলেও রানের ধারা ঠিকই ছিল। পরে সেই স্রোতও শুকিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন অনেকটাই অচেনা।
কোহলি জানালেন, অচেনা এক পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তার নিজেরও।
স্বীকার করতে আমার কোনো লজ্জা নাই যে মানসিকভাবে আমি বাজে অবস্থায় ছিলাম। ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবার, ১ মাস ব্যাট ধরে দেখিনি। সম্প্রতি উপলব্ধি করতে পারি, তাড়নার ক্ষেত্রে নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছিলাম আমি। নিজেকে জোর করে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে, আমার ভেতর তাড়না আছে। কিন্তু শরীর আমাকে বলছিল থেমে যেতে। আমার মাথা আমাকে বলছিল একটু পিছু হটতে ও বিরতি নিতে।
কোহলির ব্যাটসম্যানশিপ, হাজার হাজার রান, অবিশ্বাস্য সব সংখ্যা, রেকর্ডের পর রেকর্ড, এসব ক্ষেত্রে তার ক্রিকেটীয় স্কিলের পাশাপাশি মানসিক শক্তিরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। স্নায়ুর চাপ তাকে কাবু করতে পেরেছে কম সময়ই। সেই কোহলির মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার খবর অনেকের কাছেই বিস্ময় হয়ে আসতে পারে।
কোহলি নিজেও এটা মানতে প্রস্তুত ছিলেন না বলেই জানালেন। তবে পরে কঠিন এই বাস্তবতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েই মোকাবেলা করেন তিনি।
আমাকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হয় এবং আমি আসলেও তা। কিন্তু সেটিরও একটি সীমা আছে এবং সেই সীমা মেনে নেওয়া উচিত। নইলে তা (মানসিক) স্বাস্থ্যের জন্য আরও খারাপ হতে পারে।
এই সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে, যেসব আমি আসতে দিতে চাইনি। তবে শেষ পর্যন্ত যখন তা এলো, আমি আলিঙ্গন করেই নিয়েছি।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কোহলির উপলব্ধি, মানসিক অবসাদের মতো ব্যাপার আড়াল না করে কিংবা জোর করে চাপা না রেখে সরাসরি মোকাবেলা করাই উচিত।
এরকম কিছু সবার সঙ্গেই হতে পারে। কিন্তু আমরা এসব প্রকাশ করি না কারণ দ্বিধায় থাকি। আমরা চাই না লোকে মনে করুক যে আমরা মানসিকভাবে দুর্বল। কিন্তু বিশ্বাস করুন, মানসিক দুর্বলতা স্বীকার করে নেওয়ার চেয়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকার ভান ধরা আরও অনেক বেশি খারাপ।
সেই সময়কে পেছনে ফেলে কোহলির চ্যালেঞ্জ এখন নিজেকে সেরা রূপে ফেরানোর। এশিয়া কাপে ভারতের হয়ে তিনি রোববার মাঠে নামবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে।