পর্যটন খাতের বিকাশে যৌক্তিক পর্যায়ে কর আরোপ চায় সংসদীয় কমিটি। অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলে কমিটি তাদেরকে আন্তঃসভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
বুধবার সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যটন শিল্প বিকাশে দেশে প্রচলিত ভ্যাট ও ট্যাক্স অন্তরায় হিসেবে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে আন্তঃসভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যটন সারা বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। খাদ্য, পরিবহন, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, বাসস্থান, ট্রাভেল এজেন্সি, উৎসব এবং অনুষ্ঠান, খেলাধুলা প্রভৃতি পর্যটন খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অথচ পর্যটন খাতে জড়িত সেবামূলক উপখাতে (যেমন হোটেল-মোটেল-রেস্তোরা-বিনোদন পার্ক, ইত্যাদি) বিভিন্ন পর্যায়ে অধিক হারে ভ্যাট ও ট্যাক্স ধার্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একই সেবা প্রদানের সেবা প্রদানকারী ও সেবা গ্রহীতাদের দ্বৈত কর আরোপের বিষয়টিও দেখা গেছে। এজন্য পর্যটন খাতে জড়িত বিভিন্ন সেবামূলক উপখাতসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রায় ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপের বিষয়ে যৌক্তিক সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
ভ্যাট-ট্যাক্স বিষয়ে পর্যটন করপোরেশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, করপোরেশনের সেবামূল্যে ১৫ শতাংশ, সেবার মালামাল ক্রয়ে ৫ শতাংশ ও রাজস্ব প্রাপ্তিতে ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। এছাড়া সংস্থাটির সার্বিক আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব রক্ষা দূরহ হয়ে উঠেছে।
পর্যটন করপোরেশন ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করপোরেট ট্যাক্স ৪৩ কোটি ৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, লভ্যাংশ বাবদ ৮ কোটি ২০ লাখ ২১ হাজার টাকা, ভ্যাট বাবদ ৩৪ কোটি ৭৩ লাখ ১৬ হাজার পরিশোধ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটি কক্সবাজার বিমানবন্দর এলাকার ভাঙ্গনপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে তা রক্ষায় জেলা প্রশাসন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।
উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আশেক উল্লাহ রফিক, আনোয়ার হোসেন খান ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার অংশ নেন।