সপ্তাহজুড়ে উত্তাপ ছড়ানো ডিম ও মুরগীর দাম গত দুদিনে সামান্য নিম্নমুখী হলেও নতুন করে বেড়েছে চাল, সয়াবিন তেল, চিনি, পেঁয়াজ, আলুসহ আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, উত্তর বাড্ডাসহ বেশ কিছু খুচরা বাজার ঘুরে খাদ্যপণ্যের এমন বাজারদরের চিত্র উঠে এসেছে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
দাম কমেছে ডিম ও মুরগির
বেশ কিছু জিনিসের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। এক দিনের ব্যবধানে ফার্মের ডিম ডজনে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় নেমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া সোনালী মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
ডিম ব্যবসায়ী আমনউল্লাহ জানান, প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গতকাল ১৪০ টাকা ছিল। এছাড়া হাঁস ও সোনালী মুরগির ডিম ১৯০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং সরবরাহ বাড়ায় ব্রয়লার মুরগির দাম পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
কাপ্তান বাজারের মুরগির পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স ফারুক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, মানুষ মুরগি খাওয়া কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। একদিকে চাহিদা কমেছে, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে।
নতুন করে বেড়েছে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম
বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে গড়ে আরও তিন টাকা করে বেড়ে বেশি বিক্রি হওয়া নাজিরশাইল ৮০ টাকা ও মিনিকেট ৭৬ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বাড়ার কারণে অনেকের কাছে বাজারদরের বিষয়ে কথা বলতে গেলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, লাভ কী কথা বলে। কোনো ফল তো বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য তাদের।
দোকানিরাও জানান, প্রতি সপ্তাহেই নিত্য পণ্যের দামে হেরফের হচ্ছে। তবে কমার বদলে লাগামহীনভাবে বাড়ছেই বেশি। দুই/তিন দিন যেতে না যেতেই বাড়তি নতুন মূল্যহার দিয়ে কোম্পানি থেকে মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের মুদি দোকানি মাইদুল ইসলাম মাহিন জানান, শুক্রবার পর্যন্ত একটি ব্র্যান্ডের পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ৯১০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এদিনই নতুন করে আরেকটি ব্র্যান্ড যে তেল বাজারে ছেড়েছে সেটির দর ধরা হয়েছে ৯৮০ টাকা।
একইভাবে খোলা চিনি ৮৮ এবং প্যাকেটজাত ৯০ টাকার নতুন রেট দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সপ্তাহে চিনিতে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে।
এদিকে বাজারে আলু কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।