‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে’ চীন থেকে করোনাভাইরাসের টিকা কিনবে বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | Wednesday, 19 May 2021
‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে’ চীন থেকে সিনোফার্মের উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা কেনার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন করেছে সরকার।
বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার জানান।
সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। চীনের প্রথম টিকা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও সবুজ সংকেতে চেয়েছে এই টিকা।
শাহিদা আক্তার জানান, চীন থেকে কত দামে কী পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনা হবে তা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়নি। কতদিনের মধ্যে এই কেনাকাটা সম্পন্ন হবে তাও আলোচনা হয়নি।
সরাসরি ক্রয়ে দুর্নীতি ও অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা থাকার বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেন- দেশে দীর্ঘদিন ধরে মহামারী চললেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন সময়মত কেনাকাটা না করে পরে সরাসারি কেনার পথ বেছে নেয়?
এর উত্তরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের কাছে নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল যথা সময়ে যাথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মহামারীর এই পরিস্থিতি সারা বিশ্বেই এক নতুন অভিজ্ঞতা। সেই বিবেচনায় আমরা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি।”
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এদিন করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জরুরি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কেনার প্রস্তাব্ও অনুমোদিত হয়।
অক্সিজেন জেনারেটরগুলো কিনতে কত খরচ হবে, কোন দেশ থেকে সেগুলো আসবে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দেননি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার।
দেশের হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে ১০০-১২০ টনের মতো অক্সিজেনের চাহিদা থাকে। ওই চাহিদা পূরণ হয় দেশের উৎপাদনেই।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের স্বাসকষ্ট দেখা দেয় বলে অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। সে কারণে মহামারীতে দেশে অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়েছে।
চলতি বছর সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কায় এপ্রিলের শুরুতে অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা দাঁড়িয়েছিল সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৬০ টনে। তবে তা সঙ্কটের পর্যায়ে যায়নি।
কিন্তু পাশের দেশ ভারতে অক্সিজেনের ব্যাপক সঙ্কটে বহু মানুষের মৃত্যুর পর তারা রপ্তানি রেখেছে। বাংলাদেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অক্সিজেন ভারত থেকেই আমদানি করা হত।
এ অবস্থায় আবারও সংক্রমণ ও রোগী বেড়ে গেলে বড় ধরনের সঙ্কট এড়াতে অক্সিজেনের মজুদ ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা।