‘প্রাইভেট জেটের অপেক্ষায়’ রাজাপাকসে, শ্রীলঙ্কা অপেক্ষায় পদত্যাগপত্রের
এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 14 July 2022
জনরোষ থেকে বাঁচতে শ্রীলঙ্কার সঙ্কট আরও বাড়িয়ে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে মালদ্বীপে চলে যাওয়া প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও নিয়মিত ফ্লাইট ধরেননি।
তিনি এখন সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট জেট ঠিক করার চেষ্টায় আছেন বলে খবর দিয়েছে শ্রীলঙ্কার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এদিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত স্পিকারের হাতে না পৌঁছানোয় শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক সঙ্কট আর জটিল আকার পেয়েছে।
গোটাবায়া রাজাপাকসে বিদেশ থেকে বার্তা পাঠিয়ে পুরনো মিত্র প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার পর জনরোষ এখন কেন্দ্রিভূত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তার দপ্তর দখল করে বুধবার দিনভর তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে হাজারো জনতা।
মঙ্গলবার গভীর রাতে মালদ্বীপ বিমানবন্দরে নামে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। ছবি: আভাস, মালদ্বীপমঙ্গলবার গভীর রাতে মালদ্বীপ বিমানবন্দরে নামে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। ছবি: আভাস, মালদ্বীপপরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে কারফিউ জারি করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা তার ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন দেওয়ার পর থেকে তিনি অজ্ঞাত স্থানে থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।
এখন তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন পার্লামেন্ট ভবন নিয়ে। বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে এগোলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ‘যে কোনো প্রকারে’ পার্লামেন্ট ভবন রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন বলে শ্রীলঙ্কার ডেইলি মিরর জানিয়েছে।
স্বাধীনতার পর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত শ্রীলঙ্কার মানুষ দেশের এ পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারকে দায়ী করে আসছে।
প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে বুধবার তিনি পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিলেও মঙ্গলবার রাতে তিনি একটি সামরিক বিমানে করে পালিয়ে মালদ্বীপে চলে যান। সেখান থেকে তিনি সিঙ্গাপুরে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন বলে বুধবারই খবর আসে।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যম আদাদেরানা জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বুধবার রাতেই মালদ্বীপ থেকে রওনা হওয়ার কথা ছিল গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার স্ত্রী আয়োমা রাজাপাকসের। কিন্তু ওই ফ্লাইট পৌঁছানোর পর তাদের সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি বিমানবন্দরে দেখা যায়নি।
পত্রিকাটি লিখেছে, সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার কারণে ওই ফ্লাইট ধরেননি গোটাবায়া রাজাপাকসে। তিনি এখন মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন, যাতে তার জন্য একটি প্রাইভেট জেটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
আদাদেরানার প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে মালদ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। সেখানে পৌঁছানোর পর হয়ত তিনি স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন।
রয়টার্স লিখেছে, সিঙ্গাপুরই রাজাপাকসের শেষ গন্তব্য কি না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। পার্লামেন্টের স্পিকারকে তিনি দফায় দফায় আশ্বাস্ত করেছেন যে বুধবারই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনের হাতে পৌঁছেনি বলে তার একজন সহকারী রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
দেশ ছেড়ে পালালেও পদত্যাগপত্র না দেওয়ায় গোটাবায়া রাজাপাকসেই এখনও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। তার পদত্যাগপত্র হাতে পেলে তবেই স্পিকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। অবশ্য রাজাপাকসের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তিনি প্রসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ২০ জুলাই দিন ঠিক করে রেখেছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার রাতে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। তাদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে, কাঁদুনে গ্যাসের কারণে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।
পুলিশের মুখপাত্র নলীন থালদুভা রয়টার্সকে বলেছেন, রাতে যে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হয়েছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত।