logo

‘কঠোর লকডাউনে’ উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো খোলা থাকতে পারে

Sunday, 11 April 2021


করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে ‘সর্বাত্মক ও কঠোর লকডাউনের’ মধ্যে উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো খোলা রাখার পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে।

রোববার বিকালে সরকারের কয়েকটি দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, “বিজিএমইএ নেতারা আজকে (রোববার) কেবিনেট সেক্রেটারিসহ সরকার পক্ষের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে লকডাউনের মধ্যে উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো খোলা রাখার পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে। আমি এমনটাই শুনেছি। এখন হয়তো দুয়েকদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।”

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছিলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সব কিছুই বন্ধ থাকবে। কিন্তু পোশাক শিল্প মালিকরা ‘লকডাউনের’ মধ্যেও কারখানা খোলা রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রোববার ঢাকায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকেও এ দাবি তুলে ধরেন।

রোববার বৈঠকের পর বিজিএমইএর নব নির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান কারখানা মালিকদের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, “লকডাউনের সময় কারখানা বন্ধ রাখলে যে সঙ্কট হবে, তা মোকাবেলায় গত ৯ এপ্রিল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ব্যবসায়ী নেতা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সালাম মুর্শেদী, বিকেএমইএ সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকনসহ একটি বৈঠক হয়। এই টিম কারখানা খোলা রাখার পক্ষে যুক্তিগুলো সফলভাবে মুখ্য সচিব, মন্ত্রি পরিষদ সচিব এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও বোঝাতে সক্ষম হন।

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, “লকডাউনে শিল্প কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এ মুহূর্তে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পক্ষে বলা কঠিন।”

তিনি বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এরপরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানবেন আপনারা। দুয়েকদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। সিদ্ধান্তগুলো প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।”

তবে বৈঠকে উপস্থিত ফজলে শামীম এহসান বলেছেন, “কঠোর লকডাউন আসছে, এ সময় কেবল রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা নয়; অন্যান্য শিল্প কারখানা এবং নির্মাণ শিল্পের কাজও চালু থাকবে। আর এসব শিল্পের জন্য পণ্য পরিবহনও চালু থাকবে।”

এসব কারখানা চালু রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব খাতে ঢাকা ও এর আশপাশে এক কোটির বেশি শ্রমিক কর্মরত। কারখানা বন্ধ করলে এরা গ্রামে ছুটতে শুরু করবে, যা ঠেকানো কঠিন হবে। তাই ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে রাখার কৌশল হিসাবে কারখানা চালু রাখা হবে।”