logo

‘উদ্বিগ্ন’ বাংলাদেশ ইউক্রেইন পরিস্থিতি ‘পর্যবেক্ষণ’ করছে

এফই অনলাইন ডেস্ক | Friday, 25 February 2022


রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউক্রেইনের যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশ ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে আজকের তফাৎ হল, মিলিটারি মুভমেন্ট দেখা গেছে।

”তবে আমরা এখন পর্যন্ত এমন অবস্থানে নেই যে, বিশেষ কোনো বিষয়ের উপর কমেন্ট করতে পারি।”

ইউক্রেইন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশ নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ‘আলোচনার ভিত্তিতে’ সমস্যার সমাধান করতে সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর এর মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মত ইউরোপে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের বড় ধরনের কোনো যুদ্ধের সূচনা হল। 

বৃহস্পতিবার আরেক বিবৃতিতে ইউক্রেইনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

সেখানে বলা হয়, ”ইউক্রেইনে সম্প্রতি সংঘাত বাড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ধরনের সংঘাত পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

”এ কারণে আমরা সবপক্ষকে সর্বোচ্চ মাত্রার সংযম, দ্বন্দ্ব নিরসন এবং সংকট সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপের পথ ফেরার প্রচেষ্টা নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও বাংলাদেশ পর্যালোচনা করছে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হওয়া ইউক্রেইন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোতে যোগ দিতে চায়, যা নিয়ে রাশিয়ার ঘোর আপত্তি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ইউক্রেইনকে সমর্থন দিচ্ছে, তাতে ওই অঞ্চলের উত্তেজনার উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বিশ্বময়। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউক্রেইনের উপর স্থল, নৌ ও আকাশ পথে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের বাহিনীও লড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বৃহস্পতিবার শাহরিয়ার আলম বলেন, “যে কোনো রিজিওয়নে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং সেটা কেবল ওই অঞ্চলের জনগণের জন্যই নয়।

”এটাকে নিশ্চিত করতে পারে ডায়ালগ। এবং দুইপক্ষে বা বহু পক্ষ হলে তাদের যে প্রত্যাশা, তার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে।”

ইউক্রেইন সংঘাতে বিবাদমান বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান সরকারের কাছে ব্যাখ্যা করেছে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “লার্জলি আমাদের পজিশন হল, নন ইন্টারফেয়ারেন্স। এবং বিশ্বে যখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, দুটি পক্ষ তৈরি হয়ে যায়, তখন দুইপক্ষ এসে শুধু বাংলাদেশ নয়, সবদেশের কাছে তাদের অবস্থানগুলি স্পষ্ট করবেন।

“বিশেষ করে যে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ পজিশন মেইনমেইন করে, তারই ধারাবাহিকতায় তারা কথা বলেছে, নাথিং রং। আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি পহেলা ফেব্রুয়ারির স্টেটমেন্টের আলোকে।”