logo

৫৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান বন্যার কবলে: কৃষিমন্ত্রী

Tuesday, 21 June 2022


সিলেটসহ উত্তরাঞ্চলের ৫৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান বন্যাকবলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। ক্ষতি পোষাতে সরকার বিনামূল্যে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মালদ্বীপের হাই কমিশনার শিরুজিমাথ সামিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এখন মাঠে বড় ধরনের ফসল নেই। তারপরেও, চলমান বন্যায় সুনামগঞ্জে ও সিলেটে ২২ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে।

“বন্যা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, মৌলভীবাজারসহ অনেক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে্। এতে এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে।”

বন্যায় ধান ছাড়াও শাক-সবজির ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “বন্যায় শাকসবজি, তিল, বাদাম প্রভৃতি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী না হলে এখন পর্যন্ত যতটুকু ক্ষতি হয়েছে, সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেজন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছে।”

আমন মৌসুমের ধান থেকে এক কোটি ৫০ লাখ টন চালের যোগান আসে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমন ধানের উৎপাদন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এখন রোপা আমনের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বন্যা আর না বাড়লে বীজতলা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।রতবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমনের বীজতলা তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেসব বীজতলা করা হয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার করা হবে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বীজ সংরক্ষিত আছে, সেগুলো চাষীদের দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে নাবী জাতের (লেইট ভ্যারাইটি) ধান চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “বন্যার কারণে যদি আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা চাষ না করা যায়, তাহলো রবি মৌসুমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সেজন্য, ক্ষতি পোষাতে কৃষকদেরকে বীজ, সেচ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।”

এদিকে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হাই কমিশনার সামির বাংলাদেশ থেকে আম নিতে মালদ্বীপের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্পদের আহরণে সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে মালদ্বীপ।