হাইতির প্রেসিডেন্টকে মেরেছে ‘বিদেশি হিট স্কোয়াড’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | Friday, 9 July 2021
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসকে যে দলটি হত্যা করেছে তাদের বেশিরভাগই কলম্বিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওই ‘হিট স্কোয়াডে’র সদস্যদের মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ার নাগরিক, দুইজন হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন হাইতির পুলিশপ্রধান লিওন চার্লস।
এদের মধ্যে ২ মার্কিনিসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে, আটজন পলাতক। দলটির বাকি সদস্যরা রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আটকদের মধ্যে কয়েকজনকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়; এসময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্রশস্ত্র এবং কলম্বিয়ার পাসপোর্ট দেখায় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
“এ বিদেশিরা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে আমাদের দেশে আসে। আমরা তদন্ত ও পলাতক ৮ ভাড়াটে সেনাকে ধরতে অভিযান আরও জোরদার করবো,” বলেছেন চার্লস।
বুধবার দিবাগত রাতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হানা দিয়ে একদল বন্দুকধারী ময়িস এবং তার স্ত্রীর ওপর গুলি চালায়।
কর্তৃপক্ষ পরে ঘটনাস্থল থেকে ময়িসের মৃতদেহ উদ্ধার করে; তার গুলিবিদ্ধ স্ত্রী মার্টিনকে ফ্লোরিডায় উড়িয়ে নেওয়া হয়।
মার্টিনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের ওপর এই হামলার পরিকল্পনা কারা করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ক্লদ জোসেফ বিবিসিকে বলেছেন, হাইতির অভিজাত ধনীদের বিরুদ্ধে ময়িসের লড়াই-ই তাকে ‘টার্গেটে’ পরিণত করতে পারে।
হাইতির তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে কলম্বিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাইতিতে তাদের কোনো নাগরিক আটক হয়েছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।
প্রেসিডেন্টকে হত্যার এ ঘটনা সহিংসতা কবলিত দরিদ্র ক্যারিবীয় দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পোর্ট-অ-প্রিন্সের বিভিন্ন সড়কে ক্ষুদ্ধ নাগরিকদের ভিড় দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি পোড়ানোরও ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
সন্দেহভাজনদের যে থানায় আটকে রাখা হয় তার বাইরেও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। দেশটিতে জরুরি অবস্থাও জারি আছে।
ময়িসকে হত্যার ঘটনা হাইতিকে এক ধরনের সাংবিধানিক সংকটের দিকেও ঠেলে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি কোভিড-১৯ এ সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টের মৃত্যু হয়েছে।
সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী অনুযায়ী এক্ষেত্রে দায়িত্বভার প্রধানমন্ত্রীর ওপর অর্পিত হওয়ার কথা; কিন্তু এখানেও গোল বেধেছে। ময়িসের মেয়াদে এরই মধ্যে ৬ প্রধানমন্ত্রী দেখেছে হাইতি; নিহত হওয়ার আগে সোমবারই তিনি নতুন আরেকজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন।
প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পেলেও এরিয়েল হেনরি এখনও শপথ নেননি; তাতে ঝামেলা আরও প্রকট হয়েছে।
হেনরি বলছেন, শপথ না নিলেও তিনিই এখন হাইতির দায়িত্বে।
অন্যদিকে তার এ মন্তব্যে ‘বিস্মিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী জোসেফ।
জাতিসংঘ বলছে, জোসেফেরই এখন পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা উচিত। চলতি বছরের শেষদিকে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা।
জোসেফ জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন না।
“আমি এখানে বেশি সময় থাকছি না। নির্বাচনটা হওয়া দরকার। আমার ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য নেই,” বলেছেন তিনি।
Editor : Shamsul Huq Zahid
Published by Syed Manzur Elahi for International Publications Limited from Tropicana Tower (4th floor), 45, Topkhana Road, GPO Box : 2526 Dhaka- 1000 and printed by him from City Publishing House Ltd., 1 RK Mission Road, Dhaka-1000.
Telephone : PABX : 9553550 (Hunting), 9513814, 7172017 and 7172012 Fax : 880-2-9567049
Email : editor@thefinancialexpress.com.bd, fexpress68@gmail.com