logo

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের রক্তাক্ত প্রথম ‘মাইল ফলক’

এফই অনলাইন ডেস্ক | Monday, 14 February 2022


বছর ঘুরে আবার এল ১৪ ফেব্রুয়ারি, গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলনের যে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মাইল ফলক’ হয়ে আছে; যার পথ ধরে সামরিক শাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের পতন ঘটেছিল। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।  

ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেনের ভাষায়, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দশটি প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সেদিন এক ‘গৌরবজনক অধ্যায়’ রচিত হয়েছিল।

সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদের সময়ে প্রণীত মজিদ খান কমিশনের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কলা ভবনের সামনে বটতলায় মিলিত হন।

তারা মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনের দিকে এগোলে গুলি চালানো হয়। এই আন্দোলনে জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দিপালী সাহা, মোজাম্মেল, আইয়ুবসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থী নিহত হন। দুর্বার আন্দোলনের মুখে ১৮ ফেব্রুয়ারি সেই শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয় এরশাদ সরকার।

সেসব দিনের কথা স্মরণ করে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুশতাক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামরিক শাসক হিসেবে এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও দল বিক্ষুব্ধ আন্দোলন করে আসছিল। আমরাও তখন হতাশায় ছিলাম, বিক্ষুব্ধ ছিলাম।”

১৯৮২ সালের ৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ মিছিল করে; ছোট ছোট মিছিল করে আরো অনেকেই। তবে তখনও সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিল না।

“৮ নভেম্বর পুলিশের হামলার পর মিছিল থেকেই ছাত্রসংগাম পরিষদের স্লোগান দেওয়া হল। ১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে ‘মজিদ খান শিক্ষানীতি’ বাতিল করার পক্ষে ছাত্র সংগঠনগুলো একমত হল। ১৭ ডিসেম্বেরেও একটা প্রোগ্রাম ছিল, এর পরে ১১ জানুয়ারি পোস্টার করা হল। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের মানা করেছিল, ১৯৮২ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।”

 

১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩, ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলি।

মুশতাক বলেন, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গণসাক্ষরতা অভিযান চলে। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

“সেদিন অনেকে নিহত হন। পুলিশ সেদিন শুধু হত্যা করেই স্থির থাকেনি, ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি করেছিল সেনাবাহিনী। শাহবাগ, টিএসসি চত্বর, কলাভবনের সামনে, নীলক্ষেত, কাঁটাবনের রাস্তা ধরে পুরো অঞ্চল ঘেরাও করে ফেলে পুলিশ, বিডিআর, সেনাবাহিনী। সেদিন বহু ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এই দিনটি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।”

১৯৮২-৯০ স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিবস উদযাপন পরিষদের এবারের আহ্বায়ক তখনকার জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি মুনির উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য সচিব তখনকার ছাত্রমৈত্রীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুম মনির।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সিরাজুম মনির বলেন, “১৪ ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যময় ও স্মরণীয় দিন। ৬২ এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুথান এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, এর পরেই ৮২ সালের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যা এ দেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। আমরা মনে করি এই দেশে এখনও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই লক্ষ্যেই প্রতিবছরের মত এবারও আমরা দিবসটি উদযাপন করতে যাচ্ছি।”

দিনটি স্মরণে ১৯৮২-৯০ স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র নেতৃবৃন্দের ব্যানারে সোমবার সকালে কার্জন হল ও শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষা ও গণতন্ত্র স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে শহীদদের স্মরণে।

সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভা হবে। এছাড়া সেই সময়ের ছবি নিয়ে প্রদর্শনী হবে বলে কমিটির সদস্য সালেহ আহমেদ জানান।