স্বাস্থ্য-পুষ্টির কর্মসূচিতে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা
এফই অনলাইন ডেস্ক | Wednesday, 9 February 2022
মহামারীর অভিঘাত সামলাতে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিতের চলমান একটি কর্মসূচিতে ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়েছে সরকার। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
ব্যয় বাড়াতে ‘৪র্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (৪র্থ এইচপিএনএসপি)’ কর্মসূচি সংশোধনের প্রস্তাব মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদন পায়।
ঢাকার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৭ সালে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এই কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
এ বছরের জুনের মধ্যে এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন ব্যয় ৩০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে তা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। মেয়াদও এক বছর বেড়েছে।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তারসঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন-আল- রশিদ, আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম এবং শিল্প শক্তি বিভাগের সদস্য শরীফা খান।
এই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এই খাতে নতুন করে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়েছে।
“এছাড়াও মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ কক্সবাজার জেলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবা প্রদানে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়েছে।”
তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় ১৭টি ‘অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি)’ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় এই কর্মসূচির লক্ষ্য সেবা, স্বাস্থ্য খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, পুষ্টি সেবা প্রাপ্তিতে সমতা নিশ্চিত করা।
কর্মসূচির আকার এত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিমা বলেন, “ব্যয়ের পুরোটা আমাদের উন্নয়ন ব্যয় নয়। স্বাস্থ্য খাতের যে পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে বলেই এই কর্মসূচির ব্যয় এত বড় দেখা যাচ্ছে।”
এই কর্মসূচির মধ্যে ৯৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন ব্যয়। এটি এডিপি বাজেটের মধ্যে নেই। কিন্তু অর্থায়নের সঙ্গে অনেক বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা জড়িত। তাদেরকে দেখানোর জন্য স্বাস্থ্য খাতের রাজস্ব বাজেটসহ এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই এর ব্যয় এত বড় দেখা যাচ্ছে।
“এই কর্মসূচিতে ১৯৯৮ সাল থেকে বিদেশি সংস্থাগুলো জড়িত আছে। তারা চায় পুরো খাতের সকল ব্যয়ই এই কর্মসূচিতে দেখানো হোক।”
এই কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭টি দাতা সংস্থা ঋণ ও অনুদান মিলে ১৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে। বাকি অর্থায়ন হচ্ছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।
এই কর্মসূচি সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নিপোর্ট।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বৈঠকে এই প্রকল্পটিসহ ৩৭ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা ব্যয়ের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ২৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে এবং ৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে জোগান দেওয়া হবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্প
>> ‘মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট (কমফ্লোট ওয়েস্ট) এর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প। ব্যয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
>> ‘চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) মিলিটারি ফার্ম আধুনিকায়ন’ প্রকল্প। ব্যয় ২৬৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
>> ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। ব্যয় ২ হাজার ২২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
>> ‘বাংলাদেশের ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা)’ প্রকল্প। ব্যয় ৫৫৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
>> ‘ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। ব্যয় ৫৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
>> ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধিভুক্ত এলাকায় বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, সড়ক মেরামত ব্যবহৃত আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ম্যাকানাইজড্ পার্কিং স্থাপনের মাধ্যমে যানজট নিরসনকরণ’ প্রকল্প। ব্যয় ৩৩৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
>> ‘গোপালগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। ব্যয় ৭০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
>> ‘ঢাকার আজিমপুরস্থ মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তার, কর্মকর্তা সিনিয়র নার্স ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য হোস্টেল-ডরমেটরী নির্মাণ’ প্রকল্প। ব্যয় ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
>> ‘শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রনটিয়ার টেকনোলজি এর প্রাথমকি অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প। ব্যয় ১ হাজার ৫০৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং
>> ‘স্মার্ট কৃষি কার্ড ও ডিজিটাল কৃষি (পাইলট)’ প্রকল্প। ব্যয় ১০৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা।