সোয়েটারের যত্ন
শবনম জাবীন চৌধুরী | Monday, 27 December 2021
প্রকৃতি জুড়ে চলছে এখন শীতের রাজত্ব। শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দাদী-নানী থেকে শুরু করে কোলের সদ্য নবজাতকের গায়েও জড়ানো থাকে হরেক রঙের আর বাহারি ডিজাইনের সব সোয়েটার।
খানিকটা যত্ন নিলে আর কিছু পন্থা অনুসরণ করলেই প্রিয় সোয়েটারগুলো আগামী বছরেও নিশ্চিন্তে পরিধানের জন্য উপযুক্ত ও নতুনের মতো থাকবে।
ধৌতকরণ
পরিধেয় বস্ত্রের উপর সাধারণত সোয়েটার পরা হয়ে থাকে, তাই প্রতিদিনই সেগুলো ধোয়ার প্রয়োজন হয় না। কটন, সিল্ক ও কাশ্মিরি সোয়েটারগুলো তিন থেকে চারবার পরার পর ধুতে হবে। আবার উল বা উলমিশ্রিত সোয়েটারগুলো পাঁচ বা এর অধিকবার পরিধানের পর ধোয়াই শ্রেয়।
সোয়েটার ধোয়ার পূর্বে অবশ্যই এর গায়ে সংযুক্ত লেবেলের নির্দেশাবলীতে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে হবে।
যেগুলোতে লেখা রয়েছে ‘ড্রাই ক্লিন অনলি’ সেগুলো কখনোই ওয়াশিং মেশিনে বা হাতে ধোয়া যাবে না। যদি লেখা থাকে ‘ওয়াশ অন ডেলিকেট সাইকেল,’ সেক্ষেত্রে উল্লিখিত সময় পর পর ধৌত করতে হবে।
কখনো কখনো লেখা থাকে ‘ফ্ল্যাট টু ড্রাই’ যার অর্থ - সাধারণত কাপড় ধোয়ার পর যেভাবে পানি নিংড়ে নেওয়া হয় তা কোন অবস্থাতেই করা যাবে না; সোয়েটারটিকে রোল করে পানি ঝরে গেলে কোন সমতল স্থানে রেখে দিতে হবে শুকানোর জন্য।
সোয়েটার ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের চেয়ে হাতে ধোয়া ভালো। কুসুম গরম পানিতে মৃদু ক্ষারবিশিষ্ট ডিটারজেন্ট বা শ্যাম্পু মিশিয়ে মিনিট দশেক ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
সুতি বা সুতি মিশ্রিত সোয়েটারগুলো ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায়। তবে কাশ্মিরি সোয়েটার অবশ্যই হাতে ধুতে হবে বা ড্রাই ক্লিনিং করতে হবে।
ভুসকো অপসারণ
অনেক সময় সোয়েটারে ভুসকো উঠে থাকে যা দেখতে অনেকটা সুতো বা তুলোর বলের মত দেখায়। এটি সোয়েটারের সৌন্দর্য নষ্ট করে থাকে। একটি রেজারের সাহায্যে আলতো করে এই ভুসকোগুলো খুব সহজেই অপসারণ করা যায়।
নমনীয়তা
কিছু কিছু সোয়েটার পরিধান করলে যেন গায়ে কাঁটার মত বিঁধে আর অস্বস্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা দূরীকরণে ঠান্ডা পানিতে খানিকটা লিকুইড ফেব্রিক সফটেনার মিশিয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে; সোয়েটারটি নরম ও তুলতুলে হয়ে উঠবে।
সংরক্ষণ
সোয়েটার কখনোই ঝুলিয়ে রাখা উচিৎ নয়। কেননা এতে করে এগুলো ঝুলে যেতে পারে এবং এর সঠিক আকার-আকৃতিতে বিকৃতি ঘটতে পারে। তাই সোয়েটার সবসময় ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখতে হয়।
শীত শেষে পরের বছরের জন্য সোয়েটারগুলো বাক্সবন্দী করার পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে তারপর তুলে রাখতে হবে। বাক্সবন্দী অবস্থায় পোকামাকড়ের হাত থেকে সেগুলোকে নিরাপদ রাখার জন্য ন্যাপথলিন বা এ জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করতে হবে।
শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
zabin860@gmail.com