logo

সুন্দর সিদ্ধান্তের পথে

সঞ্জয় দত্ত | Wednesday, 30 June 2021


জীবনকে ঠিকঠাক ছন্দে রাখতে চাইলে, প্রতিটি মানুষেরই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আর তা হবে এমন একটি পদক্ষেপ, যা শতভাগ না হোক, বেশিরভাগ সময়ই সফল হতে সক্ষম। তাই আমরা আমাদের আজকের আয়োজনে, ভালো সিদ্ধান্তে পৌঁছুনোর কিছু কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করবো।

এক মনে দুই কথা

মানুষের মন যে এত এত কথা বলে, তার সবটাই কি উড়িয়ে দেবার মতো? নিশ্চয়ই না। যেকোনো ভালো পদক্ষেপ নিতে মনের এমন দ্বিচারিতা নিয়ে প্রথমে বিপদে পড়লেও পরে তা বেশ কাজে আসে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রারম্ভে আমাদের ভেতরে দু'টো বিশেষ জায়গা তৈরি হয়। একটি হয়তো এমন- যেখানে সমস্ত কিছুই সহজ আর সম্ভব বলে মনে হয়, আর অন্যটিতে থাকে বাস্তবতা। সহজ কথায়, এদের আবেগ এবং যুক্তি বলে ধরা যায়।

কথা হচ্ছে, ভালো সিদ্ধান্তে পা রাখতে, কোনটা বেশি শ্রেয়? আবেগ নাকি যৌক্তিকতা? নিদেনপক্ষে প্রতিটি ভালো সিদ্ধান্তে, আবেগ এবং বাস্তবতা উভয়েরই খুব দরকার। শুধুমাত্র সব সম্ভব বলে পথ চললেই আমরা সব সম্ভব করতে পারি না, বরং এ বিশ্বাস বুকে ধারণের পাশাপাশি বাস্তবে আরও যা কিছু করা প্রয়োজন, তা বুঝতে পারলেই সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।  

শেষ পরিণতি

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, শেষ পরিণতি নিয়ে ভাবা। আমরা যা-ই করি না কেন, তার অবশ্যই একটা শেষ থাকে। সেই ‘অন্তিম’ সম্পর্কে স্বচ্ছ হতে পারলে, আদতেই যা আমাদের জন্য ভালো, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। সিদ্ধান্তের আগে থেকে যদি সর্বোচ্চ ভালো ফলাফলকে লক্ষ্য ধরে নিই, তবে প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হবে।

সক্ষমতা জানা

পদক্ষেপ গ্রহণে আরও একটি মূল্যবান বিষয় হচ্ছে, নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা। ব্যক্তি এমন কাজ থেকেই সর্বোচ্চ আশা করতে পারে, যে কাজটিতে সে ভালো সক্ষম। তাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের শক্তিমত্তা সম্পর্কে ধারণা রেখে; সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারলে, প্রতিটি মানুষই নিজের জীবনকে উপভোগ্য করে তুলতে পারে।

আমার কী করা উচিত

বন্ধু বা অন্য কারো কাছে গিয়ে— ‘আমার কী করা উচিত’ অথবা ‘কী করলে ভালো হয়’, এমনটা বলে অনেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের চিন্তা করে। এই গুরুতর সমস্যার সূত্রপাত মূলত, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং নিজের সম্পর্কে না জানা থেকে ঘটে থাকে। ভেবে দেখুন, একটি সিদ্ধান্ত কিন্তু তা-ই, যার দ্বারা  মানুষ হয় সফল হয়, নয়তো ব্যর্থ। অথচ, এমন মহামূল্যবান ব্যাপারে যখন আমরা অন্য কারো মতামতের পরোয়া করি, তা কি আদতেই আমাদের ঠিক পথে রাখতে পারে?

কখনো কখনো হয়তো অন্য কারো মতামতে আপনার উপকার হতে পারে, কিন্তু তা-ই বলে, আপনার জীবনে কী করা উচিত বা কী করা অনুচিত, তার সবটাই অন্য কেউ বলে দিতে পারে না। আবার অন্যদিকে, কেউ যখন, বিভিন্নজনের কাছে মতামত প্রত্যাশা করে, তখন নানাজনের নানা কথায় বরং সে আরও বেশি দ্বিধায় পড়ে যায়, যা কিনা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিপরীত। তাই, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, পরনির্ভরশীলতা বিষয়টি থেকে সরে আসতে পারা, সত্যিকার অর্থেই উত্তম বয়ে আনে।   

সিদ্ধান্তের প্রকৃতি

একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরবর্তী ধাপ আসলে কী? শুধু কি এ নিয়ে ভাবতে থাকা— কেমন সিদ্ধান্ত, ভালো কি মন্দ, কাজের কি অকাজের? সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, সম্পূর্ণ মনযোগ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে সেটি এগিয়ে নেয়াই অর্থবহ হতে পারে। আত্মবিশ্বাস আর একাগ্রতায় হয়তো খুব বেশি ভালো না হওয়া সত্ত্বেও, যেকোনো সিদ্ধান্ত জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠতে পারে৷

কাজ না থামুক

কোনো কোনো ব্যক্তি অনেকগুলো কাজই কমবেশি ভালো জানে। কিন্তু, বহু কর্মে পারদর্শিতা কখনো কখনো মানুষকে দিশেহারা করে তোলে। ঠিক কোন কাজ তার জন্য ভালো, কিংবা কোনটাকে প্রাধান্যের তালিকায় উপরে রাখা যায়, সে সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে অনেকসময় কিছুই করা হয়ে ওঠে না।

উত্তরণের পথ হতে পারে এমন— খুব না ভেবে, যথাসম্ভব সবগুলোই করার চেষ্টা করা। কেননা, কাজের ময়দানে নেমে পড়লে, প্রায় সবাই-ই বুঝতে পারে, কোনটা তার জন্য বেশি ভালো। এবং তখন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হয়।

একটি ভালো সিদ্ধান্ত একটি ভালো জীবনের জন্য সবসময়ই দায়ী। ভুলভ্রান্তি, উদাসীনতা যা কিছুই ঘটুক, সেসব পরবর্তী কাজের জন্য স্মরণে রাখা ভালো। নিজের মস্তিষ্ক ও জীবনের উর্বরতার দায় নিজেরই থাকুক। আমাদের জীবন হোক ফুলের মতো, কাঁটা থাকলেও থাকুক সুবাস!

সঞ্জয় দত্ত বর্তমানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com