সুদানে সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি
এফই অনলাইন ডেস্ক | Monday, 25 October 2021
সুদানে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যকে গ্রেফতারের পর সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান সার্বভৌম কাউন্সিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক অভ্যুত্থানের সমর্থনে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে বন্দি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।
এই মন্ত্রণালয়টি এখনও দৃশ্যত হামদকের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণাধীনে আছে। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধীরা এরই মধ্যে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে। রাজধানী খার্তুমে সামরিক সদরদপ্তরের কাছে তারা গুলির মুখে পড়েছে এবং কয়েকজন আহতও হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের একটি কমিটি ফেইসবুকে অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি।
জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের প্রধান। সামরিক ও বেসামরিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির যৌথ কাউন্সিল এটি।
বিবিসি জানায়, বুরহান দেশের ক্ষমতা দখলের জন্য রাজনৈতিক কোন্দলকে দায়ী করেছেন। টিভিতে এক ভাষণে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে কোন্দল, উচ্চাকাঙ্খা এবং সহিংসতায় উস্কানির কারণে তাকে বাধ্য হয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
বুরহান আরও বলেন, সুদান এখনও আন্তর্জাতিক সব চুক্তি এবং বেসামরিক শাসনে ফিরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নির্র্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তা করা হবে।
কিন্তু রাস্তায় রাস্তায় ইতোমধ্যেই ‘সামরিক শাসন চাই না’ আওয়াজ উঠেছে। এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, “বেসামরিক সরকার ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খার্তুমজুড়ে ইন্টারনেট বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সেনা ও আধাসামরিক সেনারা শহরজুড়ে মোতায়েন রয়েছে। খার্তুম বিমানবন্দরও বন্ধ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।
সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। সুদান এবং দক্ষিণ সুদানে যুক্তরাজ্যের বিশেষ দূত অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ইইউ এবং আরব লিগও অভ্যুত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সুদানের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ২০১৯ সালে সরিয়ে দেওয়ার পর সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলোর নড়বড়ে এক ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির মধ্য দিয়ে গত দুই বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল পূর্ব আফ্রিকার দেশটি।
সেপ্টেম্বরে বশিরের অনুগত সেনাদের ব্যর্থ এক অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেসামরিক নিয়ন্ত্রিত জোট ফোর্সেস অব ফিডম অ্যান্ড চেইঞ্জের (এফএফসি) সংস্কার এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে, বেসামরিক নেতারা এ দাবিগুলোকে দেখে আসছিলেন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের ‘ক্ষমতা দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ হিসেবে।
শুক্রবার এক বক্তৃতায় দেশটির বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদক চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে একটি রোডম্যাপ দিয়েছিলেন এবং সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তা দেশের ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে বলে হুঁশিয়ার করেছিলেন।
এর মধ্যেই এফএফসি জোটে থাকা সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি অংশ গত শনিবার বিক্ষোভের ডাক দেয়। তাতে সাড়া দিয়ে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী খার্তুমে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুখা সরকারের’ অপসারণের দাবিতে স্লোগান দেয় এবং সশস্ত্র বাহিনী ও সুদানের যৌথ সামরিক-বেসামরিক সার্বভৌম পরিষদের প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ অল-বুরহানকে ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে’ ক্ষমতা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
কয়েক ডজন বাসে চেপে খার্তুমের কেন্দ্রস্থলে আসা এ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেদিন বেসামরিক নেতৃত্বের সমর্থকদের সংঘর্ষও হয়।