logo

সাফারি পার্কের মৃত প্রাণীর নমুনা পরীক্ষা করবে সিআইডি

এফই অনলাইন ডেস্ক | Monday, 7 February 2022


গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রা-বাঘ-সিংহের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করবে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রোববার সন্ধ্যায় সাফারি পার্কের তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফা কামাল জানান, মৃত প্রাণীদের নমুনা ইতোমধ্যে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

সচিব বলেন, “দেশে সিআইডির দক্ষ একটি ল্যাব রয়েছে। তাদের নিজস্ব ল্যাবে সাফারি পার্কে মারা যাওয়া প্রাণীগুলোর মরদেহের সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিবে। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের এক্সপার্ট কমিটি করা হয়েছে, যারা আমাদের তদন্ত কমিটিকে পরামর্শ দিবে এবং সহায়তা করবে।”

সিআইডি ল্যাব ছাড়াও মৃত প্রাণীদের নমুনা ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশ ও বিদেশের কয়েকটি ল্যাবেও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, “শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক সমৃদ্ধ সাফারি পার্ক। এখানে প্রায় বাঘ, জেব্রা, হরিণ, গড়িয়ালসহ প্রায় ১৬০০ প্রাণী পার্কে রয়েছে। পার্কটির আরও উন্নয়নের প্রয়োজন আছে। আমরা এটাকে আরও সৃমদ্ধশালী করব। এর জন্য আরও কিছুর পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে।

“পার্কের যে কাজ বাকি আছে সেগুলো করতে হবে। বর্তমানে একটা প্রকল্প চলমান আছে। সেই প্রকল্পে আরও উন্নয়নমূলক কাজ বাড়াতে হবে। রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্ত করণসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। পুরো পার্কে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।”

জেব্রার মৃত্যুতে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য সরবরাহের আগে খাদ্যপরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেয়ার কথা। খাদ্য পরীক্ষা করা যার দায়িত্ব ছিল, তিনি সঠিক দয়িত্বপালন করেছেন কি-না তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।

পার্কের কর্মকর্তাদের গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তারজন্যে ইতোমধ্যে আমরা পার্কে দায়িত্বরত তিন কর্মকর্তাকে সরিয়ে নিয়েছি।তদন্ত কমিটিকে দশদিন সময় দেওয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্টে মন্ত্রণালয়ের কারও বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এরকম কোনো ঘটনা না ঘটে এ জন্য কাজ করবে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্কের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে অনেক বন ছিল। এক সময় এসব বনে বাঘ ছিল, সিংহ ছিল। এখন বন উজাড় হয়ে গিয়েছে। বাঘ, হরিণও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বন না থাকলে বাঘ থাকার তো জায়গাই নাই।

“তাই আমাদের ভবিষ্যতের প্রজন্ম প্রাণীগুলোকে যাতে দেখতে পারে, তার ব্যবস্থা রাখতেই আমরা সাফারি পার্ক স্থাপন করেছি। বনকে ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাফারি পার্ক ও ইকো পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।”

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইকবাল আবদুল্লাহ হারুন, সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী ও পার্কের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা রেজাউল করিম মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।