সাফারি পার্কে ২৭ দিনে ১১ জেব্রার সাথে একটি বাঘও মারা গেছে
Sunday, 30 January 2022
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রার মড়কের মধ্যে একটি বাঘেরও মৃত্যু হয়েছে; যা কর্তৃপক্ষ গোপন রেখেছিল।
পার্কের বেষ্টনীতে একটি বাঘ বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় ছিল; গত ১২ জানুয়ারি বাঘটি মারা যায় বলে ১৮ দিন পর রোববার দুপুরে জানিয়েছেন সাফারি পার্ক প্রকল্পের পরিচালক মো. জাহিদুল কবীর। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৭ দিনে পার্কের মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়। সবশেষ শনিবার সকালে ও সন্ধ্যায় অসুস্থ দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়।
পার্কে জেব্রাগুলোর মৃত্যুর জন্য প্রাণঘাতী ‘ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণ ও নিজেদের মধ্যে মারামারিকে’ কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
তবে আরও তদন্ত ও করণীয় ঠিক করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
রোববার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পার্কের অসুস্থ জেব্রাগুলোর বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফল দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হয়েছে ‘উন্নত চিকিৎসা ও অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে’।
এর মধ্যেই বাঘের মৃত্যুর খবরটি জানা গেল।
সাফারি পার্ক প্রকল্পের পরিচালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পার্কের জন্য নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. শহীদুল ইসলাম ও অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বাঘটির মৃত্যুর জন্য অ্যানথ্রাক্স জীবাণুকে চিহ্নিত করেছেন।”
বাঘের মৃত্যুর তথ্যটি কেন গোপন রাখা হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদুল কবির বলেন, “যে কারণটির কথা বলা হয়েছে, সেটি বাঘের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। তবে বাঘের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি; তাই তা কাউকে জানানো হয়নি। এ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।
“ওই দুই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই বাঘটির চিকিৎসা চলছিল। তার মধ্যেই ১২ জানুয়ারি হঠাৎ বাঘটি মারা যায়।”
পার্কের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাঘটির পায়ে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। পরে বাঘটির চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। দিন দিন বাঘটি দুর্বল ও খাবার গ্রহণ না করতে করতে মারা গেছে। ১২ জানুয়ারি সকালে বাঘ বেষ্টনীতে বাঘটির মরদেহ দেখা যায়।”
এদিকে পার্কে জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় ঘটিত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা রোববার পার্কে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর বর।
এই সাফারি পার্কে ৩১টি জেব্রা ছিল। ১১টি জেব্রা মৃত্যুর পর এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০টিতে। এর আগে অল্প সময়ে এ পার্কে এতোগুলো প্রাণী আর কখনও মারা যায়নি।