logo

সময় আর স্রোতের মত নির্বাচনও কারও জন্য অপেক্ষা করবে না: ওবায়দুল কাদের

Wednesday, 3 November 2021


নির্বাচনে বিএনপি এল কি এল না, তা নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, কোনো সংলাপেও বিএনপিকে ডাকছে না সরকার, আর নির্বাচনে তাদের আসার অপেক্ষাও করা হবে না।

বিএনপির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন কাদের, খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাদ দেওয়ার পর ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে এলেও তারা বলছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।

নতুন জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন কিংবা সংলাপ কোনোটাতেই তারা যাবে না।

এর জবাবেই ওবায়দুল কাদের বলেন, “আপনাদেরকে কে ডেকেছে সংলাপে?

“শেখ হাসিনা এত উদার, গতবার সংলাপ ডেকেছিল। সেটায় আপনারা কী জবাবটা দিয়েছেন? সেই সংলাপের পর আপনাদের ভূমিকা কী ছিল? আপনাদেরকে কেউ সংলাপে ডাকছে না। নিজেরাই আগ বাড়িয়ে সংলাপের কথা বলেছেন।”

বিএনপির নির্দলীয় সরকারের আশাও পূরণ হওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

“তত্বাবধায়ক সরকার কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশে জাদুঘরে। নির্বাচন সময়মতো সংবিধান অনুসারে হবে। সময় আর স্রোত যেমন কারও জন্য অপেক্ষা করে না, নির্বাচনও কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। বিএনপি নির্বাচনে এল কি এল না, সেটার ওপর নির্বাচন নির্ভর করে না।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, যতই হাঁক-ডাক করুন, জাদুঘর থেকে তা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আর ফিরবে না। নির্বাচনে অংশ নেবেন কি নেবেন না, সেটা আপনাদেরন ব্যাপার।”

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর চার জাতীয় নেতাকে কারাগারে হত্যার ঘটনাটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে দাবি করে কাদের।

তিনি বলেন, “তেসরা নভেম্বরের হত্যা সংগঠিত করে ১৫ অগাস্টের খুনিদের বিদেশে পাঠিয়েছিল তৎকালীন সেনাপতি জিয়াউর রহমান। বিদেশি দূতাবাসে তাদের চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন তিনি। তাহলে কি তিনি এমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন?

“বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে মোশতাক যে অডিন্যান্স করেছিলেন, সংবিধানে তার বৈধতা দিয়েছিল তারই সেনাপতি জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের এমন নির্মম সত্যকে কি মির্জা ফখরুল অস্বীকার করতে পারবেন?”

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের জন্য জিয়া এবং তার দল বিএনপিকে দায়ী করেন ওবায়দুল কাদের।

 “আজকে সাম্প্রদায়িক শক্তি যে তাণ্ডব চালাচ্ছে, কিছুদিন আগেও চালিয়েছে। তার বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে বিএনপি। বিএনপির ছাতাতলেই আজকে এরা আস্ফালন করছে।”

তিনি বলেন, “আজকে জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম কথা বলেন। ১৯৮১ সালের মে মাসে সেনাসদস্যেরই একটি বিদ্রোহী গ্রুপ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে কীভাবে সেই লাশ গেল, তারপর আর সেই লাশের খবর নেই। ঢাকার কফিনে লাশ ছাড়া জিয়াউর রহমান!”

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করে কাদের বলেন, “১৯৮৮ সালের অগাস্ট মাসে জিয়াউল হক নিহত হন বিমান দুর্ঘটনায়। আর জিয়াউর রহমানকে তার নিজস্ব লোকেরা হত্যা করে। একটা কফিন ঢাকায়, আর একটা কফিন ইসলামাবাদের ফয়সাল মসজিদের সামনে। দুটি কফিনই ফাঁকা, লাশ নেই।

 “এখানে জিয়া ক্ষমতার মঞ্চকে নিষ্কণ্টক করতে কর্নেল তাহেরসহ অসংখ্য অফিসারকে হত্যা করেছে। আর ওখানে জিয়াউল হক জুলফিকার আলী ভুট্টোর পথ রুদ্ধ করতে ফাঁসি দেন। পরিণতি দেখুন।”

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন।