logo

সফলদের অভ্যেস

সঞ্জয় দত্ত | Wednesday, 18 August 2021


সুশৃঙ্খল অভ্যাস মানুষকে সফল হতে উসকে দেয়। জীবনের বিশুদ্ধ নির্যাস পেতে গেলেও আমাদের হাত পাততে হয় তার কাছে। আজকের আয়োজনে তাই বিশ্ব ইতিহাসে সফল কয়েকজন ব্যক্তির এমন কিছু অভ্যাসের গল্প জানব; যার ফলে ইতিহাস হয়েছে সমৃদ্ধ, পৃথিবী হয়েছে আলোকময়। 

প্রথমেই চোখ রাখব বিল গেটসের জীবন পাতায়, যা ‘গো ব্যাংকিং’ ওয়েবসাইটের কল্যাণে সম্ভব হয়েছে।

ব্যবসা করার লক্ষ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিরতি নেয়া গেটস সাহেব, হাতের কাছে যা পেতেন তা-ই পড়তেন৷ এতে পরিবার পড়লো বিস্তর ঝামেলায়। খাওয়ার টেবিল কিংবা আলাপচারিতায়, বইময় গেটসের দুনিয়া। ফলে, বাবা-মা আঁকলেন ভিন্ন ছক। পরিবারে নিয়ম করা হলো, নৈশভোজে পড়া বন্ধ। এ তো গেলো পড়ার অভ্যাসের কথা। ভদ্রলোককে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত কীভাবে নিতে পারেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন— “আমার সাথে জড়িত মানুষগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে।”

বর্তমানে বিশ্বের ধনী তকমা পাওয়া লোকটা, অনাগত ভবিষ্যতের ভাবনায় সবসময়ই কিছু না কিছু অর্থ সঞ্চয় করতেন। এবং সবসময়ই বিভিন্ন মাধ্যমে একটি বাক্য খরচ করতেন— “তুমি জানো না, আগামীকাল তোমার জন্য কী রয়েছে।”

অসংখ্য কাজের তালিকা পকেটে নিয়ে ঘুরলেও, তিনি যখন যে কাজ করতেন, তার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতেন। হাজারো ব্যস্ততায় কিংবা তরতাজা ব্যর্থতা কাঁধে নিয়েও, মাইক্রোসফটের জন্মদাতা ঘুমের রুটিনটিকে কখনো কষ্ট দেননি।             

গোলকাস্ট ডট কমের সূত্র ধরে এবার আমাদের গন্তব্য, মার্ক জাকারবার্গের জীবন পৃষ্ঠায়।

রোজ ভোরে চোখ কচলাতে কচলাতে ফেসবুকে ঢুঁ মারা তার একটি নিত্যদিনের কাজ। তবে তা আবার আমাদের মতো আনাড়ি ঘোরাফেরা অবশ্য নয়। ফেসবুকের শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেয়াই মার্ক সাহেবের মূল উদ্দেশ্য। তারপর নিজের প্রিয় কুকুরছানা নিয়ে প্রাতভ্রমণ।

তবে কি জাকারবার্গ চিকিৎসাশাস্ত্রের সে গবেষণাটি পড়েছেন? হয়তো পড়ছেন। অথবা না পড়েও তার সুফল ঠিকই ধরে ফেলেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর বদৌলতে ব্যক্তি তার মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি আত্মার শান্তিতেও বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। সে যা-ই হোক, ফেসবুক স্থপতি যে পোশাক-আশাকের বেলায় বিরাট ‘কৃপণ’, সে খবর কি কেউ রাখেন? কেন, দেখেননি? রোজ রোজ স্পোর্টস জিন্স আর ধূসর রঙা টি-শার্ট পড়ে মঞ্চ কিংবা কর্মরত অবস্থার ছবিগুলো? অবশ্য পোশাক প্রসঙ্গে আমরা তাকে যা-ই বলি, এক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি কিন্তু জুতসই। তিনি আলমারির কাছে দাঁড়িয়ে আজ সাদা পরবো না নীল পরবো- এমন ভাবনা খরচের চাইতে মানুষকে কী করে আরও ভালো সেবা দেয়া যায় এমন ভাবনায় অধিক গুরুত্ব দেন।

এছাড়া সপ্তাহে পঞ্চাশ ঘণ্টা কাজ করলেও দু'সপ্তাহে একটি বই খতম করা এবং পরিবারকে প্রয়োজনমতো সময় দেয়ার ব্যাপারে জাকারবার্গ সবসময়ই উদার।

ঘুরতে ঘুরতে আমেরিকান এক্সপ্রেস আমাদের থামালো। জানতে সাহায্য করলো আরেক মহারথী স্টিভ জবসের চলাফেরার গল্প।  

নিজের তৈরী প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাই হওয়া নিঃসন্দেহে এক দুর্বিষহ ঘটনা। তবে এমন বিষয়কে থোড়াই পাত্তা দেয় অধ্যবসায়ী জবস। মাথার সর্বোচ্চ ব্যবহার আর যথেষ্ট ঘাম খরচা করে, আবার ফিরলেন। তিনি সবসময়ই বলেন, “জীবন বদলানোর তাগিদটা ভেতর থেকে অনুভব করা দরকার”।

স্টিভ সাহেবের অন্যতম কৌশল বা অভ্যাস যদি বলি, তিনি বোধহয় মানুষের জন্য নিত্যনতুন প্রয়োজন সৃষ্টিকেই নিজের ও নিজের উদ্যোগের সাফল্যের মূল অস্ত্র বানিয়েছেন। এই যেমন ২০০৭ সালে টাচস্ক্রিন আইফোন আনার পাশাপাশি বাজারে ছাড়লেন অ্যাপল অ্যাপ স্টোর। ফলে ডেভেলপার বাহিনী পেলো ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ তৈরির সুবর্ণ সুযোগ। আইফোন জানান দিলো, “আমি শুধু কথা বলার যন্ত্র নই, আমাকে দিয়ে ছবি এডিট করো, গেম খেলো; আর আমার স্রষ্টার পকেট করো ভারি!”

নিজের কাছে সত্য বলার অভ্যাস থাকার পাশাপাশি তিনি সবসময় নতুন কিছু তৈরির চেষ্টায় থাকতেন মশগুল। এতে বড় বড় বাজার গবেষকদের গবেষণাও নিতান্তই ফেলনা ছিল তার কাছে। যার প্রমাণ আমরা পাই, ২০১০ সালে জনসম্মুখে আইপড আনার মধ্য দিয়ে।    

অভ্যাস মানুষের দাস। তবে দাস দাবি করতে চাইলে অবশ্যই মনিব হওয়া চাই। যদিও অভ্যাস অনুকরণীয় বস্তু নয়, তবে সফল মানুষের অভ্যাস পর্যালোচনা করে এর মাহাত্ম্য বুঝতে পারলে জীবন অনেকটাই সহজ হয়।

সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন৷

sanjoydatta0001@gmail.com