logo

শ্রমিক-মালিকের একটা সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Wednesday, 8 December 2021


প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে শিল্প কলকারখানা, উৎপাদন এবং রপ্তানি যেন সঠিকভাবে চলতে পারে, সেজন্য মালিক শ্রমিকের সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ প্রদান এবং কর্মজীবী নারীদের হোস্টেলসহ আটটি স্থাপনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধান। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

তিনি বলেন, “শ্রমিক-মালিকের একটা সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। কারণ মালিকদের সব সময় মনে রাখতে হবে, এই শ্রমিকরা শ্রম দিয়েই কিন্তু তাদের কারখানা চালু রাখে এবং অর্থ উপার্জনের পথ করে দেয়।

“আবার সেই সাথে সাথে শ্রমিকদেরও মনে রাখতে হবে, এই কারখানাগুলো আছে বলেই কিন্তু তারা কাজ করে খেতে পারছেন, তাদের পরিবার পরিজনকে পালতে পারছেন বা তারা নিজেরা আর্থিকভাবে কিছু উপার্জন করতে পারছেন। কারখানা যদি ঠিক মত না চলে, তাহলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “যে কারখানা আপনার রুটি রুজির ব্যবস্থা করে, অর্থাৎ আপনার খাদ্যের ব্যবস্থা করে, বা আপনার জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে, সেই কারখানার প্রতি যত্নবান হতে হবে।”

অনেক সময় ‘কিছু কিছু শ্রমিক নেতা বা কোনো কোনো মহল বাইরে থেকে উসকানি দিয়ে’ কলকারখানায় অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।   

তিনি বলেন, “এখন বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক। এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে যদি শিল্প কলকারখানা এবং উৎপাদন এবং রপ্তানি, এটা যদি সঠিকভাবে চলতে হয়, তাহলে কিন্তু কারখানাগুলো যথাযথভাবে চলার ব্যবস্থা নিতে হবে।”

আর অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে রপ্তানির পাশাপাশি কাজের পরিবেশও যে নষ্ট হবে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তখন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে। সেই কথাটা মনে রেখে শ্রমিকদের দায়িত্ববান ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মালিক ও শ্রমিক- দুই পক্ষের সঠিক উদ্যোগেই যে একটি কারখানা সফলভাবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে, সে কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “মালিকদের দেখতে হবে শ্রমিকদের অসুবিধা কি বা তাদের জীবন জীবিকা সুন্দরভাবে যাতে চলে সেই ব্যবস্থা করা। শ্রমের ন্যায্য মূল্যটা যেন তারা পায় এবং শ্রমের পরিবেশ যেন সুন্দরভাবে থাকে।

“আবার শ্রমিকদেরও কিন্তু দায়িত্ব থাকবে কারখানাটা সুন্দরভাবে যেন চলে, উৎপাদন যেন বাড়ে, সেই বিষয়টাও দেখতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কিন্তু আপনাদের কাজ করতে হবে।”

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশপাশি স্বাধীনতার পর দেশের উন্নয়নে তার নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ এবং শিল্প উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, ভবিষ্যতের যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, সেসব কথাও তিনি বলেন।

নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং দক্ষ শ্রমশক্তি ব্যবহারের জন্য এ অনুষ্ঠানে ৩০টি কারখানাকে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।