শীতের সতর্কতায়
ফারিয়া ফাতিমা স্নেহ | Monday, 15 November 2021
কার্তিক পেরিয়ে অগ্রহায়ণ, বঙ্গদেশে শীত আসি আসি করছে। সকালের কফিটা খেতে আরেকটু ভালোলাগা, ভোরে অজান্তেই কাঁথাটা আগামাথা মুড়ে দেয়া, ঘড়ির কাঁটা সাড়ে পাঁচটা বলার আগেই সন্ধ্যে নেমে আসা- শীত বলে যাচ্ছে নিজের আগমনী বার্তা।
পিঠাপুলি, ভ্রমণ নতুন শাকসবজি, বাহারি পোশাকের আনন্দ নিয়ে শীতের অপেক্ষা করছে অনেকেই। তবে, অনেকের কাছেই এ ঋতুটা আবার লম্বা দুঃস্বপ্ন ভ্রমণ। আরামের ঘর নেই, গরম কাপড় নেই, পাশে কোনোরকমে আগুন জ্বেলে রাত কাটাতে হয় ফুটপাতে- এদের কাছে শীতের সাথে সাথে আতংকও হাজির।
তবে শুধু এসব ছিন্নমূল মানুষই নয়, শীতকালের আতংক বয়ে বেড়ায় আমাদের আশেপাশে অনেকেই। ভয়- শীতকালীন অসুখ-বিসুখকে, যা অনেক সময় হতে পারে প্রাণঘাতি।
তবে অসুখকে ভয় পাওয়া নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতন থেকে শীতকালকে উপভোগ করা যাবে কিছু নিয়ম মেনে- এমনটাই জানালেন ডা. কে. এম. নাজমুল আহসান। “আবহাওয়ার দিক দিয়ে বাংলাদেশকে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বলা হলেও এতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রাধান্য রয়েছে। তাই শীতকালের হঠাৎ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেখা যায়। শীতকালের শুষ্ক ও নিম্ন তাপমাত্রার কারণে শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো বৃদ্ধি পায়।
এর মধ্যে শীতকালে চেনাজানা স্বাস্থ্য সমস্যা হলো এলার্জিক রাইনাইটিস; হাঁচি, কাশি, এলার্জি ইত্যাদি এর লক্ষ্মণ। ধূলাবালি এড়িয়ে চলুন এবং আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ মতো এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে,” বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “শীতকালে অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের প্রকোপ খুবই বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকে হাঁপানির প্রবণতা রয়েছে শীতের শুষ্ক আবহাওয়া এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। ফলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি- এ সমস্যা গুলো বেড়ে যায়। তাই এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ এবং ধূলাবালি ও ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা উচিত।
এছাড়াও শীতকালে চর্মরোগ হতে দেখা যায়।‘একজিমা’বা এ জাতীয় কিছু সমস্যা শুষ্কত্বকে বেশি দেখা দেয়। তাই শীতের শুষ্কতা হতে রক্ষাপেতে ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজিং লোশন বা নিদেনপক্ষে তেল ব্যবহার করা উচিত।
শীতকালে হৃদরোগের প্রকোপও বেড়ে যায়। কম তাপমাত্রায় রক্তনালির সংকোচনের কারণে শীতকালে হার্ট এটাক বা অন্যান্য হৃদরোগ জনিত সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
তাই যাদের বয়স ৪০ এর বেশি এবং যাদের পূর্ব থেকেই হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত।
নিউমোনিয়া- শীতে বিশেষ করে বাচ্চাদের এই রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়; সময় মতো চিকিৎসা না নিলে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই বাচ্চাদের গরম কাপড় দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।”
তবে এই-ই শেষ নয়, ২০১৯-এর ডিসেম্বরে করোনাভাইরাসের প্রকোপে যেমন পাল্টে গেছে পৃথিবী, তেমন ঋতু বিশেষের স্বাস্থ্য সচেতনতায় এসেছে পরিবর্তন। বিশেষত শীতকা্ল-যা কিনা মরণঘাতি এ ভাইরাস বিস্তারের আদর্শ সময়, সে সময় সতর্কতাও দরকার বেশি বেশি।
এ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ড. ফাহিম আহমেদ এর পরামর্শ, “অবশ্যই মাস্ক পড়ুন, টিকা নিন। সম্ভব হলে ভীড় এবং গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। যদি গণপরিবহন ব্যবহার করতেই হয় তবে যথাসম্ভব স্পর্শ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। আর, করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অন্তত র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) পরীক্ষা করুন।”
যদিও আগের তুলনায় কিছুটা কমে এসেছে করোনার প্রকোপ, কিন্তু এখনো বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। প্রতিকার বিহীন এ রোগের প্রতিরোধ হোক তাই সর্বোচ্চ সতর্কতায়।
স্বাস্থ্য সচেতনতাকে সঙ্গী করে শীত উপভোগ করুন প্রাণ খুলে- নিজের সাথে, প্রিয়জনের সাথে, সম্ভব হলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে।
ফারিয়া ফাতিমা বর্তমানে পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে।
fariasneho@gmail.com