শিশু আরাফ হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চান মা-বাবা
এফই অনলাইন ডেস্ক | Tuesday, 29 March 2022
ভবনের সামনে গাড়ি রাখার জায়গায় খেলছিল দু’বছরের শিশু আবদুর রহমান আরাফ। সেখান থেকে আদর করার ছলে ভবনটির ছাদে নিয়ে পানির ট্যাংকে ফেলে হত্যা করা হয় তাকে; উদ্দেশ্যে বাড়ির মালিককে ফাঁসানো।
তবে সন্দেহভাজনদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি পুলিশ এ খুনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করলে।
২০২০ সালের ৬ জুন চট্গ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর নয় মাস পর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখনও কাঁদছেন মা-বাবা। বিচার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় তাদের প্রত্যাশা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির।
বিচারের পুরো প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৩০ মার্চ বুধবার এ হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিন।
আবদুল কাইয়ুম ও ফারহানা ইসলাম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল আরাফ, বয়স মাত্র ২ বছর ৭ দিন। ছেলে হারানো মা-বাবার দাবি, সন্তান হারানোর এমন কষ্ট যেন আর কাউকে পেতে না হয়।
“আমরা চাই খুনিদের ফাঁসি হোক। যাতে আর কোনো মা-বাবার বুক যাতে খালি না হয়।”
এ মামলার তিন আসামি নগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগরের বাসিন্দা মো. ফরিদ, শিশু আরাফের পরিবার যে বাড়িতে ভাড়া থাকত সেই ভবনের দারোয়ান মো. হাসান ও হাসানের মা নাজমা বেগম।
এদের মধ্যে ফরিদ ও নাজমা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। হাসান উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পিপি প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের পক্ষে ২০ জন সাক্ষী দিয়েছেন। আসামি পক্ষে ১০ জনের সাফাই সাক্ষ্য হয়েছে।
চট্টগ্রামে শিশু খুনে আরও দুজন গ্রেপ্তার
“আদালত ৩০ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজাই প্রার্থনা করেছি।“
এটা একটা ‘সামাজিক অপরাধ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, একজন শিশু যদি ঘরের সামনে নিরাপদ না থাকে- তাহলে সমাজে কারও শিশুই তো নিরাপত্তা পাবে না। আশাকরি সর্বোচ্চ সাজাই হবে।
এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি।
বাড়িওয়ালাকে মামলায় ফাঁসাতে হত্যাকাণ্ড?
আরাফের বাবা একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির কর্মচারী আবদুল কাইয়ুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘটনার দিন বিকেলে আমার স্ত্রী ছেলেকে ঘরের সামনের পার্কিংয়ে চানাচুর খাওয়াচ্ছিল। চানাচুর খাওয়ার পর ছেলে পানি খেতে চায়। পানি আনতে ওর মা ঘরের ভেতর যায়। ফিরে এসে দেখে সেখানে ছেলে নেই।”
হত্যার পর ভবনটির বাসিন্দা নাজমা বেগম, তার ছেলে বাড়ির দারোয়ান হাসান ও তাদের পাশের ভবনের বাসিন্দা ফরিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তখন নাজমা বেগম আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, বাড়িওয়ালাকে ফাঁসাতে প্রতিবেশীর শিশুকে আদর করার ছলে ঘটনার দিন বিকালে ভবনের ছাদে নিয়ে গিয়ে পানির টাংকিতে ফেলে হত্যা করা হয়।