শাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আসার খবর, স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
এফই অনলাইন ডেস্ক | Friday, 11 February 2022
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার খবর পাওয়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় শাবির গোলচত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন ইয়াছির সরকার এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাইমিনুল বাশার রাজ, সাদিয়া আফরিন, নাফিসা আনজুম, সুদীপ্ত ভাস্কর, শাহরিয়ার আবেদীনসহ ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ইয়াছির সরকার বলেন, "শুক্রবার আমাদের ক্যাম্পাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাচ্ছি।"
শিক্ষামন্ত্রী আসবেন এ তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জনপ্রিয় লেখক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক নিশ্চিত করেছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
মুহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, “জাফর ইকবাল স্যার ও ইয়াসমিন হক ম্যাম একসাথে আমাদের জানিয়েছেন যে শিক্ষামন্ত্রী শুক্রবার সিলেট আসবেন। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় চলামন আন্দোলনের বিষয়ে আমাদের সাথে কথা বলবেন।"
এক প্রশ্নের জবাবে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, “আমাদের মূলদাবি একটাই – উপাচার্যের পদত্যাগ। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ দাবিটিসহ আরও কিছু দাবি রাখব যেগুলো উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির সাথেই পূরণ করা সম্ভব।
“ব্যাংক, বিকাশ, রকেট, নগদ একাউন্টগুলো পুনরায় চালু করা, মামলা প্রত্যাহার করাসহ আরও কিছু দাবি রয়েছে। "
গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশের হামলার ঘটনাকে শাবির জন্য কালো দিবস উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ইয়াছির সরকার বলেন, "শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি এই উপাচার্য তো মেনে নেননি, তিনি উল্টো ওইদিন গণমাধ্যমে এসে মিথ্যাচার করেছেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করে হল খালি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আমরা হল ত্যাগ না করে এই উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।"
ওইদিন পুলিশের হামলায় অনেক আহত শিক্ষার্থী সিলেট ও ঢাকায় চিকিৎসার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশের ছোড়া স্প্লিন্টারে আহত সজল কুন্ডুর কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ইয়াছির সরকার বলেন, “তার সমস্ত দেহে ৮৩টি ধাতব স্প্লিন্টার বহন করছে। ঢাকায় তার চিকিৎসা চলছে এবং দীর্ঘ অপারেশনের পর দেশের খ্যাতনামা ডাক্তারগণ তার একটা হাত থেকে কেবল চারটি স্প্লিন্টার বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
“শিক্ষার্থীরা জানতে চায় সজলের মত অমিতসম্ভাবনাময় জীবন এভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার অধিকার ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে কে দিয়েছে?"
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বহু শিক্ষার্থী দেহে একাধিক স্প্লিন্টার বহন করে কষ্টে দিনযাপন করে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
আহত সজল কুন্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতককোত্তরে অধ্যয়নরত। ১৬ জানুয়ারির পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সময় আহত হয়ে পড়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করার সময় স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন তিনি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। এর জেরে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলা হয়।
পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন; এক পর্যায়ে তারা আমরণ অনশনে যান।
সাতদিন পর সেই অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক।