কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা আবুল কালাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন।
১৪ এপিবিএন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, শুক্রবার ভোরে উপজেলার কুতুপালং ২-ওয়েস্ট নম্বর ও কুতুপালং ২-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন-উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২-ওয়েস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-১১ ব্লকের বাসিন্দা মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে সামসু আলম (৪৬) ও কুতুপালং ২-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ হোসেন ওরফে মো. ছৈয়দের ছেলে আব্দুল (২৬)।
৬০ বছর বয়সী আবুল কালাম কুতুপালং ২-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ডব্লিউ-৫ ব্লকের বাসিন্দা মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং ক্যাম্পটির বি-ডব্লিউ-৫ ব্লকের সাব-মাঝি বা উপ-সর্দার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে কুতুপালং ২-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ডব্লিউ-৫ ব্লকে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় আইওএম হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
পরে চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কালাম মারা যান।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার নাইমুল বলেন, “রোহিঙ্গা নেতা আবুল কালাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের অবস্থানের খবরে এপিবিএন পৃথক অভিযান চালায়। এ সময় আসামিদের সন্দেহজনক বসতঘর ঘিরে ফেললে তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।”
গ্রেপ্তার আসামিদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলার ১-ইস্ট নম্বর লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বলে পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছিল।
এরপর একই বছরের ২২ অক্টোবর ভোররাতে পালংখালী ইউনিয়নের ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায়’ একদল লোক হামলা চালায়। এতে মাদ্রাসাটির ছাত্র-শিক্ষকসহ ছয় রোহিঙ্গা নিহত হন।