logo

রাজশাহী মেডিকেলের কোভিড ইউনিটে ১০ মৃত্যু

এফই ডেস্ক | Sunday, 27 June 2021


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে গত এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উত্তরের এ জেলায় গত এক দিনে আরও ১১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টার মধ্যে রাজশাহী জেলার মোট ৩৯২ নমুনা পরীক্ষা করা হয়

তাতে ১১৪ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসায় শনাক্তের হার দাঁড়াচ্ছে ২৯ শতাংশ। আগের দিন রাজশাহী জেলায় ১৭১ জন নতুন রোগী পাওয়া গিয়েছিল।

পরিচালক বলেন, গত এক দিনে যে দশজন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একজনের করোনাভাইরাস পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই দশজনের মধ্যে চারজন রাজশাহীর, দুইজন চাঁপাইনবাগঞ্জের এবং চারজন নাটোরের। তাদের সাতজন পুরুষ এবং তিনজন নারী।

মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চারজনের বয়স ছিল ৬১ বছরের বেশি। বাকিদের মধ্যে দুইজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিনজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ দিনে (১ জুন থেকে ২৭ জুন সকাল) কোভিড ইউনিটে মোট ৩০১ জনের মৃত্যু হল। এর মধ্যে কেবল ২৪ জুনই ১৮ জনের মৃত্যু হয়।

শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ জন নতুন রোগী। তাদের মধ্যে ৩৭ জন রাজশাহীর, চারজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, পাঁচজন নাটোরের, দুইজন নওগাঁর, ছয়জন পাবনার এবং একজন দিনাজপুরের। গত এক দিনে ৫৫ জন সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭ বেডের বিপরীতে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৩৪ জন। আগের দিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩১ জন। অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শামীম ইয়াজদানী বলেন, “রোগীর চাপ সামলাতে আরেকটি কোভিড ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে। ৪৮ বেডের ১৪ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে অক্সিজেন লাইন বসিয়ে কোভিড ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। আজ থেকেই সেখানে রোগী রাখা হবে।”

শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি ল্যাবে রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাগঞ্জের ১৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

গত রোজার ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে দৈনিক শনাক্তের হার ৬০ শতাংশের উপরে উঠে গেলে সিটি করপোরেশন এলাকায় গত ১১ জুন থেকে লকডাউনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়।