যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেইন ছেড়েছে ৩০ লাখ মানুষ
এফই ডেস্ক | Wednesday, 16 March 2022
ইউক্রেইনে চলমান যুদ্ধ তিন সপ্তাহে গড়িয়েছে, রুশ বাহিনীর হামলা থেকে রেহাই পেতে এরইমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ ৩৮১ জন ইউক্রেইন ছেড়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর ৪০ লাখ শরণার্থীর জন্য সহায়তার পরিকল্পনা করলেও ইউক্রেইন ছাড়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা।
লিভভের কাছে ইয়াভোরিভ সামরিক ঘাঁটিতে রোববার রুশ হামলার পর পশ্চিম ইউক্রেইনের কিছু বাসিন্দা সীমান্তে ঘরছাড়া মানুষের দলে যোগ দিয়েছেন।
খারকিভের ৪০ বছর বয়সী এক মা কয়েকদিন আগে ইউক্রেইন ছেড়ে যাওয়া তার ‘ধর্মমাতার’ সঙ্গে মিলিত হতে পোল্যান্ড রওনা হয়েছেন।
ইউক্রেইন-পোল্যান্ডের ব্যস্ততম সীমান্ত ক্রসিংয়ের নিকটতম শহর প্রজেমিসলের ট্রেন স্টেশনে তিনি বলেন, লিভভে আক্রমণের আগ পর্যন্ত প্রত্যেকে মনে করেছিল পশ্চিম ইউক্রেইন যথেষ্ট নিরাপদ।
“তারপর তারা (রুশ বাহিনী) কিরোভোহরাদে হামলা চালাল, লিভভেও হামলা করল। ছোট বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে বোমা হামলা এড়ানো খুবই কঠিন।”
তার স্বামী এখনও ইউক্রেইনেই রয়ে গেছেন জানিয়ে ওই নারী বলেন, “আমরা কিরোভোহরাদের উদ্দেশে খারকিভ ছেড়েছি। আমরা এখানে থাকতে চাই। আমরা ভিনদেশে যেতে চাই না।”
ইউক্রেইনের রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বিশাল সংখ্যক শরণার্থী ইউক্রেইন-পোল্যান্ড সীমান্ত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া এবং মলদোভায় আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের অর্ধেকের বেশি বা ১৮ লাখ মানুষ কেবল পোল্যান্ডেই রয়েছে।
বুধবার ইউএনএইচসিআর বলেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শরণার্থী আরও পশ্চিমের দেশগুলোতে রওনা হয়েছেন। পশ্চিম ইউরোপে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা ইলভা জোহানসন বলেছেন, “যদি আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সংহতি দেখাই, তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব।”
এর আগে ২০১৫-২০১৬ সালে সিরিয়ার যুদ্ধে ১ লাখ মানুষ ইউরোপে শরণার্থী হয়েছিলেন; সেসময় শরণার্থী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল বলেছিলেন, ‘উইর শ্যাফেন দাস’ বা ‘আমরা এটি সামলাতে পারি’।
ইউক্রেইন যুদ্ধে শরণার্থী সংকটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইইউর শীর্ষ কর্মকর্তা জোহানসনের বক্তব্য মেরেকেলের সেই ব্ক্তব্যেরই প্রতিরূপ।