যুদ্ধের অস্ত্র অভিবাসন: হাত আছে রাশিয়ারও
সৈয়দ মূসা রেজা | Monday, 20 December 2021
অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগের একটা খতিয়ান উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ এবং লেখক কেলি গ্রিনহিলের বইতে। তার বই ‘উইপনস অব মাস মাইগ্রেশন’ থেকে জানা যায় ১৯৫০’এর দশকের পর এমন অস্ত্র অন্তত ৭৬ দফা প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনহিল বলেছেন, তার এ হিসাবকে একেবারে অভ্রান্ত মনে করার কারণ নেই। বিশ্বে অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগের আরো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যার সম্পর্কে তিনি হয়তো অবগত নন।
হালে বেলারুশের অভিবাসন অস্ত্রের মুখে অনেকটাই নাস্তানাবুদ হয়েছে পোল্যান্ড। রুশ মদদপুষ্ট দেশটি এমন অস্ত্র প্রয়োগের কথা প্রকাশ্যেই প্রায় স্বীকার করছে। আর এসব করা হচ্ছে হাইব্রিড ওয়ার বা মিশ্র কিংবা সঙ্কর যুদ্ধের রণকৌশলের ভিত্তিতে।
অভিবাসন অস্ত্রের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)কে নাকাল করে তোলার একমাত্র কারণ ভূগোল। ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই অভিবাসন অস্ত্র ইইউ’র বিরুদ্ধে শানানো সম্ভব। সম্ভব এই অস্ত্রের প্রয়োগ করে বা প্রয়োগের হুমকি দিয়ে ছাড় আদায়।
দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা কীভাবে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি নিয়ামক হতে পারে সে বিষয়কে উপজীব্য করে ‘দ্য এইজ অব আনপিস’ বইটি লেখা হয়েছে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সেরর পরিচালক মার্ক লিওনার্ড এই বইয়ের লেখক। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষরা ইইউ’র বিরুদ্ধে সেখানকার রাজনৈতিক ভিত্তিকেই ব্যবহার করছে।
বহুপাক্ষিকতা এবং অবাধ ও উন্মুক্ত বাজারকে ভিত্তি ধরে গঠিত হয় ইইউ। পরে এটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্য চুক্তিমালার পথে এ আদল(মডেল)কে দুনিয়ার বাদ বাকি অংশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চলে।
লিওনার্ড মনে করেন, “ইউরোপীয়দের জন্য একযোগে, একটি মতাদর্শ এবং সুযোগ হয়ে দেখা দেয় এটি।” তিনি আরো মনে করেন, “আমরা নিজেদেরকে বিশ্বের সাথে অনেক বেশি জড়িয়ে ফেলেছি কাজেই অনেক বেশি দুর্বল হয়েও পড়েছি।”
২০১৫-১৬ সালে ইউরোপে দলে দলে শরণার্থী ঢুকতে পেরেছিল। সে সময় প্রায় ১৫ লাখ আশ্রয়কামী এবং শরণার্থী ইউরোপে ঢোকে। তাতে ইউরোপে যে প্রতিক্রিয়া বা অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছিলে এখনো তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। ইউরোপের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগের কোশেশ যারা করছে সে কথা তাদের বেশ ভালো করেই জানা আছে।
সিরিয় শরণার্থীদের প্রায় ‘এসো, আমার ঘরে এসো’ বলেই স্বাগত জানিয়েছিল সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলো মার্কেলের জার্মানি। এ সিদ্ধান্তকে অনেকেই মহৎ মানবিক প্রয়াস হিসেবে মনে করেন। কিন্তু অন্যান্য নেতা জার্মানির এই একতরফা সিদ্ধান্তে আতঙ্ক অনুভব করেছেন। এ সিদ্ধান্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভাজনের বীজই বপন করেছিল। পূর্ব-পশ্চিমের উত্তেজনা উস্কে দিয়েছিল। প্রশাসনে অবিশ্বাসী বা প্রশাসন বিরোধী, ইইউ’র নীতিতে অবিশ্বাসী উগ্রশক্তিগুলোকে তাদের উগ্রবাদ প্রচারের মসলা এবং ইন্ধন যুগিয়েছে এটি।
এই পদক্ষেপ ব্রেক্সিটের পক্ষকে হয়তো শক্তি যুগিয়েছে। এদিকে মার্কেলের খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের ভেতরে হয়তো এক ‘গৃহযুদ্ধের’ সূচনাও করেছিল এটি। এখনো সে মুসিবত থেকে বের হয়ে আসার সংগ্রাম চলছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় সংস্কার কেন্দ্রের ক্যামিনো মর্তেরা-মার্টিনেজ বলেন, “না, এমনটা আবার ঘটতে পারে না। সবাই এ কথা ভাবছে।”
এই পর্বটি ইউরোপীয়দের গভীরভাবে বিভক্ত করেছে। তাদেরকে ভাবতে হচ্ছে, সামাজিক সংহতি বা জাতীয় পরিচয়ের ক্ষতি না করে দেশে কতোটা অভিবাসনের প্রয়োজন রয়েছে এবং কতোটাই বা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
২০১৫-১৬ সঙ্কটের একটি উত্তরাধিকার হ'ল ইইউ এর অভিবাসন “চুক্তি।” ইইউভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর প্রকল্প এবং এ বাবদ আর্থিক দায় ভাগ করে নেওয়ার বিধান অভিবাসন সংক্রান্ত “ইউ অভিবাসন সংক্রান্ত চুক্তি”তে গরহাজির ছিল। একইসাথে ইউরোপীয় সমাজের শরণার্থীদের একত্রীভূত করার এবং শ্রম বাজারের ঘাটতি পূরণে শরণার্থীদের ব্যবহার করার রূপরেখাও এতে ছিল না।
সঙ্কর যুদ্ধে মোকাবেলার সেরা পন্থার কথা বলতে যেয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সহ-সভাপতি মার্গারিটিস শিনাস বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোই হলো এ যুদ্ধ মোকাবেলার সেরা পথ। পাশাপাশি অভিবাসন বিষয়ে ইইউ সদস্যদেরকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি মনে করেন, আশ্রয়প্রার্থীদেরকে স্থানান্তর করা, আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং সীমান্ত বাহিনী ফ্রন্টেক্স (ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি সংক্ষেপে ‘ফ্রন্টেক্স’ নামে পরিচিত। এ বাহিনীর সদর দফতর ওয়ারশ’তে অবস্থিত।) ব্যবহারের ক্ষেত্রসহ অন্যান্য বিষয়ে সমন্বয় দরকার।
তিনি আরো বলেন, “অভিবাসন যে অভিন্ন ইউরোপীয় সমস্যা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সার্বভৌমত্ব, সম্পদ এবং আরও বেশি রাজনৈতিক ইচ্ছাকে সুসংহত করে একযোগে ইউরোপীয় সমস্যা হিসাবে এর সমাধান করতে হবে এ নিয়ে ইইউতে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। এর সমাধান হবেই।”
ইইউ’র সব কূটনীতিবিদ অবশ্য এমন আশাবাদী নন। সংহতি জোরদারের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ইইউ’র সীমান্তবর্তী দেশগুলো দিয়ে পিলপিল করে আশ্রয়প্রার্থীরা ঢুকছে। তাদেরকে কী করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে তা নিয়ে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। পোল্যান্ড এবং হাঙ্গেরিসহ কেন্দ্রীয় এবং পূর্বাঞ্চলীয় কোনো কোনো ইউরোপীয় দেশ এমন পরিকল্পনার বিরোধিতায় আদা-পানি খেয়েই নেমেছে। ব্রাসেলসের ইউরোপীয় সংস্কার কেন্দ্রের ক্যামিনো মর্তেরা-মার্টিনেজ বলেন যে ইইউভুক্ত কোনো দেশের মানুষের ওপর জবরদস্তি করে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা “ঘটবে না।”
অভ্যন্তরীণভাবে অভিবাসন সামাল দেওয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই বাইরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে ইইউ। ইইউ’র এ তৎপরতা সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সমালোচকরা একে “ইউরোপের দুর্ভেদ্য” নীতি অভিহিত করে নিন্দার ঝড় তুলেছেন।
অভিবাসীদের ইউরোপমুখী প্রবাহ ঠেকানোর দায়িত্ব ইইউর বাইরে দেওয়া হয়েছে। এমন সব শাসকদের হাতে এ দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে যাদের তৎপরতা মানবাধিকারের মাপকাঠিতে ফেললে কেবল উদ্বেগেই সৃষ্টি হবে। অভিবাসীকামীদের ভূমধ্যসাগর পার হওয়া ঠেকাতে, বলতে গেলে, লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে লিবিয়ার উগ্রবাদীদের মদদপুষ্ট উপকূলীয় রক্ষীদের। এ কাজের জন্য ইইউ তাদেরকে টাকাকড়ির যোগান দিচ্ছে। বিদেশে সহায়তা দেওয়ার সাথে সীমান্তে অভিবাসীকামীদের ঠেকানোর শর্তও ক্রমেই বেশি বেশি করে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
বেলারুশের সঙ্গে ঠোকাঠুকি এবং অচলাবস্থার কালো ছায়া পড়ছে ইইউতে। আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি মনোভাব পাথরের মতো শক্ত হতে শুরু করেছে বলেই বিশ্লেষকদের চোখে ধরা পড়ছে। বেলারুশ থেকে হাজার হাজার অসহায় মানুষ যখন ঢোকার চেষ্টা করছে তখনই পোল্যান্ড, লিথুনিয়া এবং লাটভিয়া আশ্রয়কামীদের অধিকার সংকোচন করছে। এ জন্য সব ধরণে আইন ব্যবহার করছে, এমনকি সাময়িক ডিগ্রিও জারি করতে দ্বিধা করছে না। মাত্র ক’দিন আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষার কয়েকটি বিধিকে সাময়িক বাতিলের অনুমোদন দিয়েছে ইইউ কমিশন।
গ্রিসসহ অনেক দেশের বিরুদ্ধেই আশ্রয়কামীদের জোর খাটিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরণের তৎপরতা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী। সেনজেন নীতিকে কঠোর করতে ইউরোপীয় কমিশনকে গ্রিস, পোল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়াসহ সদস্য দেশগুলো চিঠি দিয়েছে। অক্টোবরের প্রথম দিকে এ চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে দাবি করা হয়, ইইউভুক্ত দেশগুলোকে বর্হিসীমান্তে “সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা” গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে কাঁটাতারের বেড়া এবং প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে এবং ইইউ অবকাঠামো খাতের অর্থ এ কাজে খরচ করতে হবে। তবে বেড়া ও প্রাচীর নির্মাণের খরচ ইইউ অর্থ থেকে মেটানোর দাবি নাকচ করে দেন কমিশন সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেইন।
ইউরোপের চিন্তা আধার বা থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউটের পরিচালক হ্যান বেইরেন্স মনে করেন, “তৃতীয় দেশগুলোর কর্ম-তৎপরতার ঝুঁকির ধকল কম মাত্রায় যেন ইউরোপের ওপর বর্তায় সে লক্ষ্যে ইউরোপে যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা চলছে তারই অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন পুনর্বিবেচনা বিষয়টি। বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংগ্রামে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার বিষয়টিও এতে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শেনজেন সীমান্ত নীতি পর্যালোচনা করা হলে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হলে তাতে একটা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু যে সব কারণে অভিবাসীরা ইউরোপের পথে ছোটে তা থামানো যাবে না।”
ক্রেমলিনের হাত রয়েছে: অভিবাসন নিয়ে ইউরোপ পুরোপুরি কঠোর ভূমিকা নিলে তাতে পোল্যান্ড-বেলারুশের মধ্যকার উত্তেজনা হয়তো কম আসতো। আইনের শাসন পুরোপুরি অনুসরণ না করায় পোল্যান্ডের সঙ্গে ইইউ’র টানাপড়েন রয়েছে। এরপরও ইইউ সরকারগুলো পোল্যান্ডকে সমর্থন করেছে।
লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়া সঙ্গে বেলারুশ সীমান্তের উত্তেজনা দ্রুতই মিটে গেছে। কিন্তু ওয়ারশর জাতীয়তাবাদী আইন ও বিচার বিশ্বাসী সরকার ইইউ’র সহায়তা নিতে অস্বীকার করেছে। বরং দেশটি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাচীর গড়ে তোলার একক পথকে বেছে নেয়। এ সমস্যাকে দেশটি রাজনৈতিক উপহার হিসেবে দেখছে। “এতে তাদের আরেকটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে” বলে জানান মর্তেরা-মার্টিনেজ৷
মার্কিন শিক্ষাবিদ গ্রিনহিল নিজ গবেষণার উপসংহারে স্বীকার করেন যে অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে অন্য ধরনের হস্তক্ষেপ, জবরদস্তি বা আগ্রাসনের চেয়ে বেশি সুফল মেলে।
ওয়ারশতে জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ফেলো মিশাল বারানভস্কি জানান যে, গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চুরি-চামারির জেরে বেলারুশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপই হচ্ছিল। কিন্তু অভিবাসন পর্ব এ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে লুকাশেঙ্কোকে সাহায্য করেছে।
বেলারুশে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার পর থেকেই পশ্চিমা নেতারা লুকাশেঙ্কোকে মোটামুটি এক ঘরে করেছিলেন। কিন্তু অভিবাসন সংকটের সূত্র ধরে গত মাসে দু’বার তিনি সরাসরি কথা বলেন মার্কেলের সঙ্গে। বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমে পাত্তা পাওয়ার বা তাদের মনোযোগ টানার যে প্রচেষ্টা তিনি করছেন তা একেবারে বৃথা যায়নি।
অভিবাসনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে লুকাশেঙ্কো আর যা কিছু করার চেষ্টা করেছেন তা তেমন সফল হয়নি। তিনি এ উছিলায়, পোল্যান্ডে রাজনৈতিক সংকট চাগিয়ে দেবেন। কিংবা পোল্যান্ডকে ইইউ থেকে একঘরে করে ফেলবেন। পাশাপাশি বেলারুশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো আছে তা এবারে তুলবেন। কিন্তু তার সে সব ইচ্ছার একটাও বাস্তব হয়ে দেখা দেয়নি।
ইউরোপের অন্যান্য অনেকের মতো, লুকাশেঙ্কোর উস্কানির পিছনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতের দেখা মিলছে বলে মনে করেন পোল্যান্ডের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন প্রজিডাকজ। ক্রেমলিনের সমর্থনের উপর বেলারুশীয় স্বৈরশাসকের নির্ভরশীলতাই এর কারণ। এরপরও রাশিয়ার সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেনি।
প্রজিডাকজ বলেন, “লুকাশেঙ্কোর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল পোল্যান্ডকে অমানবিক এবং মৌলিক নীতিমালার তোয়াক্কা করে না এমন এক দেশ হিসাবে উপস্থাপন করা।” . . . এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিন আমাদের মানবতার পাঠ দিচ্ছেন। আমি মনে করি প্রত্যেক ইউরোপীয় বা আমেরিকান পাঠক তফাৎটি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছেন।”
তা সত্ত্বেও, বেলারুশে জমায়েত হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মানুষ, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ফিরে যাওয়ার পরও অনেকেই এখনো পোল্যান্ড সীমান্তে আটকা পড়ে আছে। ইউরোপের হাড় জমানো দুর্দান্ত শীত আসার সাথে সাথে এটি এক মানবিক দুর্দশার পরিণত হয়েছে। এ ঘটনা অনেক ইউরোপীয়কে গভীর অস্বস্তিতে ফেলেছে। তারা সঠিক প্রতিক্রিয়া জানানোর দিকে ঝুঁকছে।
রোমের ইন্সটিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর এবং হার্ভার্ডের ভিজিটিং প্রফেসর নাটালি তোকি বলেন, পুতিন তার বেলারুশিয়ান পুতুলের মাধ্যমে “বিশ্বের চোখে ইউরোপকে লজ্জা পাওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”
[ফাইনান্সিয়াল টাইমস অবলম্বনে]
আরো পড়ুনঃ
অভিবাসন যখন হয়ে উঠে যুদ্ধের অস্ত্র
অভিবাসন হলো যুদ্ধের অস্ত্র: শিকড় রয়েছে অতীতে