logo

যমুনা পার্কের সামনে চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়েই মারা যায় শিশুটি: র‌্যাব

Saturday, 13 November 2021


ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে এক শিশুর লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে র‌্যাব জানিয়েছে, বাসচালক ও তার সহকারীর কারণে চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়েই মারা গেছে শিশুটি। 

খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর।

গত ৯ নভেম্বর সকালে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ১০/১১ বছরের এই শিশুটিকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে তাকে বাঁচানো যায়নি।

শিশুটির মাথার পেছনে জখমের চিহ্ন থাকার কথা জানিয়ে তখন ভাটারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, কোনো গাড়ির ধাক্কায় শিশুটি মারা গেছে বলে তারা ধারণা করছেন।

শিশুটির মৃত্যু নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা দেখে ঘটনাটি তদন্তের উদ্যোগ নেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

শুক্রবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এবং পাশের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাইদা পরিবহনের বাসের চালক রাজু মিয়া (২৫) এবং সহকারী ইমরান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসে র‌্যাব।

নিহত শিশুটি কখনও রাস্তায় ফুল বিক্রি, কখনও লিফলেট বিলি, কখনও সাহায্য চেয়ে চলত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। থাকত খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী এলাকায় বাবা-মার সঙ্গে।

কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার আল মঈন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে অর্ধ শতাধিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও তারা দেখেছেন।

র‌্যাব দেখেছে, ঘটনার দিন ৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় শিশুটি তার বাসা থেকে বের হয়ে হেঁটে প্রগতি সরণিতে (কুড়িল বিশ্বরোড) আসে। সেখান থেকে একটি বাসে উঠে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এসে নামে। সেখানে ফুটব্রিজ দিয়ে ফিউচার পার্কের বিপরীত (পশ্চিম) পাশে আসে।

আল মঈন বলেন, শিশুটি ফুটব্রিজের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পোস্তগোলা থেকে দিয়াবাড়ি রুটে চলাচলকারী রাইদা সিটিং সার্ভিসের একটি বাস উত্তর দিক থেকে আসতে দেখা যায়।

“তার একটু পরেই অন্য একটি সিসিটিভির ফুটেজে সেই বাসটিকে থামার জন্য একজন পথচারীকে হাত দিয়ে ইশারা করতে দেখা যায়। এই সিসিটিভি ফুটেজের ‘ফ্রেম’র ঠিক পেছনে শিশুটিকে আহত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।”

সিসি ক্যামেরার অবস্থান এবং সময় বিবেচনা করে শিশুটি অর্থ সাহায্যের জন্য রাইদা বাসটিতে উঠেছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় র‌্যাব। এরপর বাসটির চালক ও সহকারীকে ধরতে শুরু হয় অভিযান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাসে ওঠার কথা রাজু ও ইমরান স্বীকার করেছেন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন।

তিনি বলেন, “বাসটি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে পৌঁছালে শিশুটি অর্থ সাহায্য চাইতে বাসে উঠে। এসময় সহকারী ইমরান যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছিল। পরে তাকে দেখে নামিয়ে দিতে চালককে গাড়ির গতি কমাতে বলে। হেলপার গাড়ি থামাতে বলায় বিরক্ত হয়ে চালক গাড়ির গতি কিছুটা কমালে শিশুটি তাড়াহুড়া করে নামছিল। তখনেই চালক জোরে চালাতে শুরু করে। এসময় শিশুটি বাসের দরজার থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়।”

রাজ ও ইমরান র‌্যাবকে বলেছেন, যাত্রীরা তখন বাসটি থামার জন্য বললেও ঠিক পেছনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী বাস ছিল ছিলে বলে ‘ভয়ে’ তারা থামায়নি। এরপর তারা বাসটি গ্যারেজে রেখে তারা পালিয়ে যান।

শিশুটির বাবা ইতোমধ্যে একটি মামলা করেছেন। বাসচালক রাজু এবং তার সহকারী ইমরানকে সড়ক পরিবহন আইনের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা আল মঈন।

আটক করা বাসটি এবং গ্রেপ্তার দুজনকে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।