logo

যদি ভয়কে করি জয়

সঞ্জয় দত্ত | Tuesday, 10 August 2021


আমরা ঝুঁকিহীনভাবে বাঁচতে চাই। চাই, কোনোরকম ঝক্কিঝামেলা ছাড়া টিকে থাকতে। ফলে, জীবনের একটা সময় এসে মনে হয়, আমার কতকিছু করার ছিল! এমন ভাবনা থেকে মুক্ত থাকতে প্রথমেই যা দরকার, তা হলো- ভয় না পাওয়া এবং নিজের জীবনের নিরাপদ চক্র থেকে বেরিয়ে আসা। আজকের লেখায় আলাপ হবে, ভয় জয়ের কিছু কৌশল ও ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতা নিয়ে।

লিখে ফেলুন

যা কিছু নিজের জন্য নিরাপদ বলে মনে হয়, তা লিখে ফেলুন। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন, দেখুন, নিরাপদ মনে হওয়া বিষয়গুলো সত্যিই নিরাপদ কি না অথবা এর বাইরে আর কী এমন বাকি থাকে, যা সত্যিই আপনার জন্য ভালো।

স্পষ্ট হওয়া

ভয় লাগে, এমন ব্যাপারগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট হোন। তালিকা করুন৷ স্মরণে রাখুন, যেকোনো বিষয়ে আপনি যত স্পষ্ট হতে পারবেন, সে বিষয়ে আপনার দুর্বলতা তত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।

অস্বস্তিতে স্বস্তি

চলার পথে সবকিছুই নিজের চাওয়া মতো হয় না। সবারই কিছু কিছু ব্যাপারে মন্দ লাগা থাকতে পারে। আবার, মন্দ লাগা ব্যাপারগুলো যে নিতান্তই অদরকারি, এমনটা ভাবারও অবকাশ নেই। যেমন, কারো কারো মানুষের সাথে কথা বলা অপছন্দ বা অস্বস্তিদায়ক মনে হয়। কারো কারো সহকর্মীদের সাথে ঠিক জমে ওঠে না। এসব ক্ষেত্রে শুধু অস্বস্তিকে দায়ী করা বরং অন্যায়, কেননা নিজের ভয়ও এখানে সমান দায়ী। মানুষের সাথে মিশতে গেলে সাহস তো থাকতেই হয়।

এক্ষেত্রে সাহস উদয়ের পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানে অন্যতম পন্থা হতে পারে, কায়দা করে অস্বস্তিতে স্বস্তি খোঁজা। কাজটা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু অভ্যস্ততা ও চিন্তায় সচেতনতা আনতে পারলে উত্তরণ কঠিন নয়।                     

ব্যর্থতা থেকে শিখুন

ভয় পাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে গেলে, প্রথমদিকে ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিক ইস্যুতে আমরা অনেকসময় খেই হারিয়ে ফেলি। ব্যর্থতাই যে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষক, এ কথা কারো অজানা নয়। কোনো কাজে আজ ব্যর্থ হওয়ার মানে, কাল সে কাজটিতে আরও বেশি সঠিক করার পথে আপনি এগিয়ে। কিন্তু, আপনি যদি ব্যর্থতার ভয়ে কোনো কাজ শুরু না করেন, সেক্ষেত্রে ভালো মন্দ কোনোকিছুই জানা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ভাবনায় স্থাপন করুন-  ফলাফল যাই হোক, তা আমাকে শেখাবে নয়তো জয়ী করবে।

ধীরে হাঁটুন

ভয় তাড়ানোর পথে, নিজের ত্রুটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া এক ধরনের অর্জন, যা সবাই পারে না। কিন্তু, নিজের ত্রুটি জানতে পেরে তাড়াহুড়ো করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার প্রয়াস ক্ষতির পাল্লাই ভারি করে। যেমন, আপনার জনপরিসরে কথা বলা নিয়ে ভীতি থাকলে যথেষ্ট পরিকল্পনা করে মাঠে নামুন। প্রথমে পরিবার, তারপর বন্ধুমহল, তারপর মাঠে-ময়দানে মানুষের সান্নিধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করা ভালো। এতে ধীরে ধীরে ভেতরগত শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং আত্মবিশ্বাসও যথেষ্ট বাড়ে।

সৎ হওয়া

বেশিরভাগ সময় আমরা নিজেরাই নিজেদের ঠকাই। নানা অজুহাতে সবসময় নিজেদের পক্ষে কথা বলি। দিনশেষে আমাদের অসততাই আমাদের কাল হয়। কোনো বিষয়ে ঘাটতি থাকলে অজুহাত নয়, বরং ‘আমি ভয় পাই’ বা ‘ঝুঁকি নিতে চাই না’— এমন সত্য বয়ান বুকে ধারণ করুন, এতে খুব সহজেই ভয়কে জয় করা সম্ভব।

সুফল সম্পর্কে জানা

কাজের প্রারম্ভে প্রাপ্তি সম্পর্কে জানা সবসময়ই অনুপ্রেরণাদায়ক। আজ আপনার যে বিষয়টিতে ভয় লাগছে কিংবা ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা জেনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ জোটাতে পারছেন না, তার সমাধান হয়ে গেলে আপনার অর্জন কী হতে পারে, কী এমন পেতে পারেন, যা আজ আপনার হাতে নেই- এমন নিখুঁত ‘পোস্টমর্টেম’ ভয়কে জয় করতে খুব সহায়ক হয়।

উপভোগ করুন

যেকোনো ব্যাপারে ‘উপভোগ’ শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভয় জয়ের লক্ষ্যে আপনি যে মুহূর্তে আছেন, সে মুহূর্তটিকে উপভোগ্য করে তুলুন। হ্যাঁ, সবসময় হয়তো সব বিষয় উপভোগ্য হয় না, কিন্তু মানুষ চাইলে যেকোনো বিষয় থেকেই আনন্দ খুঁজে নিতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে আপনার ইতিবাচক চিন্তা। যেমন, আপনার ব্যর্থতায় কেউ হেসে উঠলে, ভড়কে না গিয়ে, আপনি বরং ভাবতে থাকুন, যাক, আমি অন্তত কাউকে হাসাতে পারি।

সবকিছুই বুদ্ধি, শ্রম, ঝুঁকি নেয়া, ইত্যাদির সহযোগিতায় পাওয়া যায়। আজকের অবস্থানে থেমে থাকতে চাইলে, আজ যা কিছুর ঘাটতি আছে, তা নিয়েই বাকি জীবন পার করতে হবে। তাই, ঝুঁকি নিন, জয় করুন আপনার ভয়। প্রভাত হাসবেই, জীবনের মুখে মুখে।

সঞ্জয় দত্ত ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

sanjoydatta0001@gmail.com