logo

ম্যালিগনেন্ট মেলানোমা: তিল থেকে যখন ক্যান্সারের শুরু

শবনম জাবীন জেবা | Tuesday, 14 June 2022


শরীরে থাকা একটি তিলের স্বাভাবিক আকার, আকৃতি, রং বা তিলের কিনারের পরিবর্তন থেকে ম্যালিগন্যান্টমেলানোমা শুরু হয়। মেলানোমা মাথা ও ঘাড়, নখের নীচের ত্বক, যৌনাঙ্গ এমনকি পায়ের বা হাতের তালু অর্থাৎ শরীরের যেকোনো জায়গাতেই হতে পারে। ত্বকের ক্যান্সারগুলোর মধ্যে ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা সবচেয়ে ভয়াবহ।

ত্বকের পিগমেনটেশন মেলানোসাইটস থেকে তৈরি হয়। এই কোষগুলো এপিডার্মিসের সবচেয়ে ভেতরের স্তর এবং ডার্মিসের ঠিক উপরে থাকে। যখন সুস্থ মেলানোসাইটসগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে ক্যান্সারাস টিউমারে রূপান্তর হতে থাকে তখন থেকে মেলানোমা বিস্তার শুরু করে।

ধারণা করা হয়, প্রতি বছর ১০০,৩৫০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (পুরুষের সংখ্যা ৬০,১৯০ জন এবং নারীর সংখ্যা ৪০,১৬০ জন) ত্বকের মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। আক্রান্তের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে, ম্যালিগনেন্ট মেলানোমা পুরুষদের ক্যান্সারের জন্য পঞ্চম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ দায়ী কারণ।

ঝুঁকির কারণ

সূর্যালোকের আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসা, রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া,তিল, ধবল ত্বক, পূর্বপুরুষদের কারো মেলানোমা হয়ে থাকলে, পরিবারে কারো মেলানোমা থাকলে (সিডিকেএনটিএ, সিডিকেফোর, পিফিফটিথ্রি ও এমআইটিএফ - এ মিউটেশন), বংশগতভাবে প্রাপ্ত উপসর্গ (জেরোডার্মা পিগমেনটোসাম, রেটিনোব্লাসটোমা, লি-ফ্রউমেনি সিনড্রোম, ওয়েরনার সিনড্রোম), পূর্বে ত্বকের ক্যান্সার হয়ে থাকলে, জাত বা সম্প্রদায় (কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে অধিক), বয়স (৬৫ বছরের অধিক), দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

লক্ষণ

লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে রক্তশূন্যতা, প্লাটিলেটের লেভেল কমে গিয়ে ত্বক ফেটে যাওয়া ও রক্তপাত, রক্তজমাট ও ক্ষতপূরণ বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, শ্বেতরক্তকণিকার লেভেল কমে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট ইনফেকশন, জ্বর, রাতে ঘেমে যাওয়া, অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস এবং অবসাদ, দূর্বলতা, ক্লান্তি ও অবসাদ, জ্বর এবং বারবার ইনফেকশন হওয়া, অল্পতেই রক্তপাত ও ক্ষতের সৃষ্টি হওয়া যেমন দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তপাত, রক্তপাতের পর সেখানে দাগ হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে সমস্যা, ঘাড়, বগলের নীচে, পাকস্থলি ও কুঁচকিতে অবস্থিত লিম্ফনোডগুলো ফুলে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়ার কারণে খুব অল্প খেলেও উদরপূর্ত অনুভব করা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, হাড় এবং হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, এবং মহিলা রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘসময় বা অতিরিক্ত ঋতুস্রাব।

প্রতিকার

বাহিরে প্রমোদের উদ্দেশ্যে রোদ পোহানো এড়িয়ে চলা, বাড়ির মধ্যে রোদ পোহানোর ব্যবস্থা করা, সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচার জন্য তৈরি পোশাক ব্যবহার করা এবং ব্রড স্পেকট্রাম সান্সক্রি ব্যবহার করা।

চিকিৎসা

চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে টার্গেটেড থেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি যেমন ইন্টারলিউকিন-২, ইন্টারফেরন, অ্যাডপটিভ টি সেল থেরাপি (এসিটি), ভ্যাক্সিন, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এবং উচ্চমাত্রার সাইটোকাইনস থেরাপি।

শরীরেযেকোনোতিলেঅস্বাভাবিককোনোপরিবর্তনদেখাদিলেসাথেসাথেইবিশেষজ্ঞডাক্তারেরশরণাপন্নহওয়াউচিত। অতিরিক্ততিলদেখাদিলেওতাঝুঁকিরকারণহয়েউঠতেপারে। তাইসচেতনতাইএক্ষেত্রেসাবধানতারপরিচায়ক।

 

শবনম জাবীন চৌধুরী ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

zabin860@gmail.com