মেরিলিন মনরোর অজানা ১০!
মোজাক্কির রিফাত | Thursday, 2 June 2022
জনপ্রিয় মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল ও সঙ্গীতশিল্পী মেরিলিন মনরো, অভিনয় করেছেন ৩০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে। ‘৫০ এর দশকের স্বর্ণকেশী লাস্যময়ী এ অভিনেত্রীর ঝলমলে জীবনের পেছনে ছিল এক অস্পষ্ট রহস্যময় জীবনচারণ। অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত মানুষটিকে নিয়ে তাই এখনো শেষ নেই কৌতূহলের; রয়েছে কত প্রশ্ন।
তিনি যদি ১৯৬২ সালে ৩৬ বছর বয়সে মারা না যেতেন, তাহলে এখন তিনি কী করতেন? তিনি কি অভিনয় চালিয়ে যেতেন? দ্বিতীয়বারের মতো মিসেস জো ডিমাগিও হয়ে উঠতেন, যেমনটি তিনি দাবি করেছিলেন? এমন কি হতে পারত নিজের জন্য জিতে নিতেন একটি অস্কার? কী হতে পারত, তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে, অনেকটা মনরোর মতো। কিন্তু রহস্যের মেঘের মধ্যেও সূর্যের মত অনেক কিছু লুকিয়ে ছিলো যা ধীরে ধীরে আসে জনসমক্ষে। মেরিলিন মনরোর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে তার সম্পর্কে থাকছে কিছু অজানা দিক।
১. মেরিলিন মনরো তার জন্মগত নাম নয়
চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে স্বীকৃতি পায়। মেরিলিন মনরোকে অভিনয় জীবন শুরু হওয়ার পরে এ নামে নামকরণ করা হয়। জন্মের সময় তার নাম ছিল নর্মা জীন মর্টেনসন। মেন্টালফ্লসের তথ্য মতে, মেরিলিন নামটিও তার প্রথম পছন্দ ছিল না। তিনি মডেলিং শোতে তার জন্মগত নাম নরমা জীন নিয়েই আত্মপ্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তবে প্রযোজকের আগ্রহে তা সম্ভব হয় নি।
২. ১৬ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়
মেরিলিনের শৈশব কাটে পালক পরিবারের কাছে। যখন তার বয়স ১৫ বছর, তখন তাকে দত্তক নেওয়া পরিবার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তাকে সাথে নিয়ে যাওয়ার মত সামর্থ্যবান তারা ছিলো না। এ সময় মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রতিবেশী জেমস ডোপার্টিকের সাথে মেরিলিনের বিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।
৩. মেরিলিন তোতলাতেন!
বলিষ্ঠ কণ্ঠে অভিনয় করা মেরিলিনের এ তথ্য বেশ অবাক করা! ছোটবেলা থেকে বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মেরিলিন কথা বলার সময় তোতলাতেন। পরবর্তীতে তোতলামি কেটে যায়। কিন্তু সামথিংস গট টু গিভ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় মানসিক চাপের কারণে ফের তিনি তোতলাতে শুরু করেন।
৪. মেরিলিন মনরো ক্যামেরার সামনে থাকতে পছন্দ করতেন না
ত্রিশটির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করা মেরিলিনের ক্যামেরাভীতি ছিল! সহঅভিনেতা ডন মারের ভাষ্যে, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না মেরিলিন। এমনকি অঙ্গসজ্জার ব্যাপারেও খুব সতর্ক ছিলেন না। ক্যামেরা আর লাইটের কারণে র্যাশের মত সমস্যাতেও ভুগেছেন বারবার।
৫. গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে মেরিলিন মনরোর নামে একটি ফাইল ছিল!
জনপ্রিয় লেখক আর্থার মিলারের সাথে তার সম্পর্কের কারণে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনে মেরিলিনের উপর একটি ফাইল ছিল। মিলারের কমিউনিস্ট পার্টিকেন্দ্রিক ওঠাবসার কারণে তিনি এফবিআইয়ের রাডারে ছিলেন। মিলার ১৯৫৫ সালে মেরিলিনকে সোভিয়েত ইউনিয়ন পরিদর্শনের জন্যও অনুরোধ করেছিলেন। যদিও গুঞ্জন ছিলো তবে আদতে মেরিলিন সেখানে যাননি।
৬. তিনি প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন
মনরোর মেডিকেল রেকর্ড বলে, তার চিবুক ও নাকে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছিল। এই মেডিকেল রেকর্ডটি ২৫ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে নিলামে বিক্রি হয়।
৭. ন্যুড ফটোগ্রাফের জন্য মাত্র ৫০ ডলার পেয়েছিলেন
প্লেবয় ম্যাগাজিনে মনরোর আলোচিত ন্যুড ফটোসেশনের জন্য তাকে মাত্র ৫০ ডলার দেওয়া হয়। আসলে ১৯৪৯ সালে আলোকচিত্রী টম কেলি ছবিগুলো ক্যালেন্ডারের জন্য তোলেন। পরে প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রকাশক হিউ হেফনার ৫০০ ডলারে কিনে নেন মনরোর ছবিগুলো।
৮. ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা তাকে একটি কুকুর উপহার দিয়েছিলেন
বিখ্যাত আমেরিকান গায়ক ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা, মেরিলিনকে একটি মাল্টিজ টেরিয়ার কুকুর উপহার দিয়েছিলেন। মেরিলিন এ কুকুরের নাম রেখেছিলেন মাফিয়া হানি। মেরিলিন মারা যাওয়ার পরে, কুকুরটিকে সিনাত্রার ব্যক্তিগত সচিব আশ্রয় দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন।
৯. মনরোর শেষ ইচ্ছা ছিল তার কবরে যেন নিয়মিত ফুল দেওয়া হয়
তার প্রেমিক ডিমাগিওর কাছে তার শেষ ইচ্ছা ছিল যে তিনি মারা যাওয়ার পরে প্রতি সপ্তাহে যেন তার কবরে গোলাপ পাঠান। দুই দশক ধরে তিনি এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। মনরো মারা যাওয়ার পরে ডিমাগিও আর কখনও বিয়ে করেননি। তার শেষ কথা ছিল তিনি মনরোকে ছাড়া আর কাউকেই ভালোবাসতে পারবেন না।
১০. প্রায় এক ডজন পালক বাবা - মা ছিল মনরোর
একেবারে ছোটবেলায় অনাথাশ্রমে থেকেছেন মেরিলিন। এরপর ভিন্ন ভিন্ন ধাপে সর্বমোট ১১ জন পালক বাবা -মা য়ের কাছে বড়ো হন তিনি।
অত্যন্ত প্রশংসিত এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও মেরিলিন মনরো কখনো একাডেমি এওয়ার্ড বা অস্কার জেতেননি। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউডে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন মনরো। ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।
মোজাক্কির রিফাত বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা করছেন।
anmrifat14@gmail.com