মুরাদের পদত্যাগপত্রেও ভুল
Tuesday, 7 December 2021
অডিও কেলেঙ্কারির জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইমেইল করে যে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন, সেখানেও বেরিয়েছে ভুল।
পদত্যাগপত্রে মুরাদ লিখেছেন, তাকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০২১ সালের ১৯ মে, যদিও ওই দায়িত্বে তিনি এসেছিলেন ২০১৯ সালের ১৯ মে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেছেন, “ইমেইলে পদত্যাগপত্র পাঠালেও কেবিনেট বিভাগ হার্ডকপি পাঠাতে বলেছে। তাই প্রতিমন্ত্রীর পার্সোনাল অফিসারকে (পিও) হার্ডকপি ও সঠিক তারিখ লিখে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেটা সংশোধন করে পাঠানো হচ্ছে।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে ‘বর্ণ ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্যেরর কারণে মুরাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনা চলছিল কয়েক দিন ধরে।
এর মধ্যে এক চিত্রনায়িকাকে টেলিফোনে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার পর ইমেইলে মুরাদের পাঠানো পদত্যাগপত্র তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায়’ তিনি পদত্যাগ করতে চান।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তখন বলেছিলেন, ওই পদত্যাগপত্র তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।
কিন্তু ঘণ্টা দুই পর জানা যায়, ভুল ধাকায় তা সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘হার্ড কপি’ আকারে তা আবার জমা দিতে বলেছে।
জামালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান তালুকদারের ছেলে মুরাদ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।
২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ওই বছর মে মাসে তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রিধারী মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসনের এমপি। নিজের এলাকা জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক’ তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মুরাদ হাসানের প্রতিক্রিয়া জানা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি যদি কোন ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।”