মুন ট্রি: মহাকাশের ‘স্মৃতি’ নিয়ে জন্মেছে যে গাছগুলো
এফই অনলাইন ডেস্ক | Thursday, 17 February 2022
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কোনো এক প্রান্তে জানালার পাশে রাখা ধূসর টবে একটি আমেরিকান সিকামোর গাছ বড় করার চেষ্টা করছেন ‘রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি (আরএএস)’ ব্যবস্থাপক রিচার্ড ও’সালিভান। সম্ভবত পৃথিবীর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ উদ্ভিদের সঙ্গেই বড় পার্থক্য রয়েছে এই গাছটির। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বীজ থেকে গাছ বড় করার অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা ভালো করেই জানেন কতো বড় অর্জন এটি। কিন্তু, এটি কোনো সাধারণ সিকামোর গাছের চারাও নয়। এর উৎস খুঁজলে পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৭১ সালের চন্দ্রযাত্রায়। সেবার নিজের অ্যাপোলো ১৪ মহাকাশযানে পাঁচশ বীজ নিয়ে গিয়েছিলেন নভোচারী স্টুয়ার্ট রুসা। সেই বীজগুলো থেকে বড় হওয়া গাছগুলো পরে পরিচিতি পেয়েছিল ‘মুন ট্রি’ নামে। টিকে থাকলে আর বড় হলে ও’সালিভানের চারা গাছটি হবে সেই ‘মুন ট্রি’র তৃতীয় প্রজন্ম।
ব্যাখ্যা দিয়ে ও’সালিভান বললেন, “ব্যক্তিগত বাগানে বড় করা দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রাপ্তবয়স্ক একটি গাছ থেকে ৪০টি বীজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে অঙ্কুর এসেছিল কেবল তিনটিতে আর আমার কাছে রয়েছে তার একটা – তাই কিছুটা হলেও চাপ আছে।”
রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি’র দুই শতক পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে তৃতীয় প্রজন্মের ‘মুন ট্রি’ বড় করার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নিজের উপর নিয়েছেন ও’সালিভান।
গাছের বীজ চাঁদে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র আছে রুসার পেশাদারী জীবনের শুরুর দিনগুলোর। ৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেস্ট সার্ভিস’-এর হয়ে কাজ করতেন রুসা। প্রথম প্রজন্মের বেশিরভাগ নভোচারীর মতো রুসাকেও বলা যেতে পারে বাস্তব জীবনের অ্যাকশন হিরো। অনেকের মতেই সামরিক জেট পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগেই আরো বিপজ্জনক পেশায় ছিলেন তিনি।
বন বিভাগের ‘স্মোকজাম্পার’ ছিলেন রুসা। বনে আগুন লাগলে পিঠে প্যারাসুট বেঁধে আগুনে ঝাঁপ দিতেন ‘স্মোকজাম্পার’রা। উদ্দেশ্য, যে কোনো ভাবে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা।
“প্যারাসুট বেঁধে বনের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তেন স্মোক জাম্পাররা। ট্রেঞ্চ খুঁড়ে বা নিজেদের পক্ষে যা করা সম্ভব, তাই করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তবেই হাঁটা ধরতেন সবচেয়ে কাছের বন বিভাগের ক্যাম্পের দিকে– বেশ যন্ত্রণাদায়ক ছিল বিষয়টা,” বাবার পেশাজীবন নিয়ে বললেন রুসা’র কন্যা রোজমেরি।
“আমার বাবা প্রকৃতিকে ভালবাসতেন, কিন্তু আমার এটাও মনে হয় যে এই পেশা তাকে অ্যারোপ্লেনের আশপাশে নিয়ে গিয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি জানতেন তিনি একজন পাইলট হতে চান।”
প্রথমে সেরা ফাইটার পাইলটদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন রুসা, তারপর টেস্ট পাইলট হিসেবে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীতে। নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন ১৯৬৬ সালে। আর প্রথম মহাকাশযাত্রাতেই অ্যাপোলো ১৪-এর কমান্ড মডিউলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ, কমান্ড মডিউলে বসে চাঁদকে ঘিরে চক্কর দেন তিনি আর তার দুই সঙ্গী নেমে যান চন্দ্রপৃষ্ঠে।
সে মিশনের জন্য রুসাকে নির্বাচন করেছিলেন অ্যালান শেপার্ড নিজে – মহাকাশে যাওয়া প্রথম মার্কিন নাগরিক।

অ্যাপোলো ১৪ মিশনের তিন রভোচারী - স্টুয়ার্ট রুসা, অ্যালান শেপার্ড এবং এডগার মিচেল। ছবি: নাসা।
“আমার বাবা ছিলেন সেরা স্টিক-অ্যান্ড-রেডার ম্যান, এভাবেই তাকে ডাকতো সবাই। তিনি আসলেই খুব ভালো পাইলট ছিলেন” বলেন রোজমেরি রুসা। “সে সময় এটা বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল কারণ, আমার বাবা ছিলেন প্রাইম ক্রু হিসেবে নির্বাচিত একমাত্র নভোচারী যিনি কখনো কোনো ব্যাকআপ ক্রু’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। কিন্তু অ্যালান শেপার্ড পরবর্তীতে বলেছিলেন, যেহেতু কমান্ড মডিউলের পাইলট নভোচারীদের চাঁদে নিয়ে যায় আর তারপর ফেরত আনে, তিনি এটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে তিনি “যেন বাড়ি ফিরতে পারেন”।
মিশনের জন্য রুসা প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করার পরপরই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগ। ব্যক্তিগত টুকিটাকির সঙ্গে কিছু গাছের বীজ চাঁদে নিতে চান কি না, রুসার কাছে জানতে চেয়েছিলেন তারা। খুশি মনেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন রুসা। আর পাঁচটি জাতের বীজ নির্বাচন করে দিয়েছিলেন বনবিভাগের জিনতত্ত্ববিদ, যার মধ্যে ছিল ডগলাস ফার, লবলবি পাইন, রেডউড, সিকামোর এবং সুইটগাম।
পুরো বিষয়টিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো নাটক বলে অগ্রাহ্য করার সুযোগও নেই, কারণ এর শেকড় যে বিজ্ঞানে! চাঁদ চক্কর দিয়ে ফিরে এলে বীজগুলোর স্বাস্থ্য, কার্যক্ষমতা এবং জিনের উপর কেমন প্রভাব পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী ছিলেন সবাই। প্রথমবারের মতো মহাকাশের এতো দূর যাবে পৃথিবীর উদ্ভিদের বীজ, বিষয়টিকে আগের পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতি হিসেবে দেখছিলেন বিজ্ঞানীরা।
“নাসা প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই মহাকাশে বীজ পাঠাচ্ছিলাম আমরা,” বললেন গার্ডেন অফ গ্যালাক্সি পডকাস্টের উপস্থাপক এমা ডটি। “আমেরিকা যখন ৪০-এর দশকে জব্দ করা জার্মান ভি২ রকেট উৎক্ষেপণ করছিল, পৃথিবীর জৈব জীবনের উপর মহাকাশের পরিবেশ আর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব পরীক্ষা করে দেখতে বীজ আর পোকামাকড়ও পাঠাচ্ছিল তারা।”
“বায়ুমণ্ডল থেকে বেরিয়ে গেলে জৈব প্রাণের উপর কী প্রভাব পড়বে বা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে কী হবে সে বিষয়ে কিছুই জানতাম না আমরা। আমাদের জানা প্রয়োজন ছিলে কোনো প্রাণ মহাকাশে টিকতে পারবে কি না।”-- যোগ করলেন তিনি।
দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি, অ্যাপোলো ১৪’র তিন ক্রু শেপার্ড, রুসা আর লুনার ল্যান্ডার পাইলট এড মিচেল দানবীয় স্যাটার্ন ৫ রকেটে চাঁদের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেছিলেন ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে। অ্যাপলো ১৩ কাণ্ডে নাসা তখন ব্যাপক রাজনৈতিক চাপে। কিন্তু অ্যাপলো ১৪’র উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছিল কোনো জটিলতা ছাড়াই। তবে, বিপত্তি বাধে ফ্লাইটের তিন ঘণ্টার মাথায়।
উৎক্ষেপণের সময় স্যাটার্ন ৫ রকেটের উপরের অংশে অতি যত্নে ধাতব খোলসে মোড়া ছিল লুনার ল্যান্ডারটি। মডিউলের পেছনেই ছিলেন মিশন ক্রুরা। কমান্ড এবং সার্ভিস মডিউল দুটি আলাদা করে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ল্যান্ডারের সঙ্গে ডক করার দায়িত্ব ছিল রুসা’র উপরেই।
শুরুতে সব পরিকল্পনা মতোই এগোচ্ছিল। রুসা প্রোবটি সূচারুভাবে ঘুরিয়ে কমান্ড মডিউলের সামনের অংশের দিকে নিয়ে এলেও বিপত্তি বাধে ‘ল্যাচিং মেকানিজম’ নিয়ে। কথা ছিল, কমান্ড মডিউল আর লুনার মডিউল দুটি একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এক পর্যায়ে মিশন বাতিল করতে হতে পারে ভেবে শঙ্কিত হয়ে পড়েন নভোচারীরা। শেষ পর্যন্ত, দুই ঘণ্টা পরে ছয় বারের চেষ্টায় জায়গা মতো বসে যায় ল্যাচগুলো, শেষ হয় ‘হার্ড ডক’-এর কাজ।
মিশনের বাকিটুকুতে কোনো খুঁত বা জটিলতা ছিল না বললেই চলে। শেপার্ড নিজেও একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন, লুনার মডিউলটিকে চাঁদের বুকে অবতরণ করিয়েছিলেন নিখুঁতভাবে। এরপর চাঁদের বুকে সে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম আর সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর রেকর্ড গড়েন শেপার্ড ও মিচেল। সেবার চাঁদের বুক থেকে ৪৩ কেজি ওজনের পাথর আর মাটি সংগ্রহ করেছিলেন দু’জন মিলে।

মুন ট্রি বপনের খবর প্রচার করেছে পত্রিকাগুলো। গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে ১৯৭৭ সালে বপন করা হচ্ছে মুন ট্রি। ছবি: নাসা।
চাঁদের বুকে যখন এতো সব ঘটছে তখন কমান্ড মডিউল নিয়ে চাঁদের কক্ষপথে চক্কর দিচ্ছিলেন রুসা। টানা দুদিনের সঙ্গী ছিল গাছের বীজগুলো। এ সময়টাতে মহাকাশযানের খুঁটিনাটি নানা বিষয়ের উপর নজর রেখেছেন রুসা; নানা বিষয় নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন আর ছবি তুলেছেন চাঁদের। দূরের মহাকাশে সম্পূর্ণ একা সময় কাটিয়েছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানুষ আছেন সব মিলিয়ে ছয় জন। তাদেরই একজন স্টুয়ার্ট রুসা।
১৯৭১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বীরের বেশে পৃথিবীতে ফিরে আসেন অ্যাপোলো ১৪’র নভোচারীরা। তাদের সাফল্যের জেরে পালে নতুন হাওয়া পেয়েছিল নাসা’র লুনার মিশন। ফেরার পর পাঁচশ’ বীজের বেশিরভাগ বন বিভাগের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন রুসা।
কিন্তু তারপরই যেন নতুন রহস্যের শুরু।
বীজগুলো নিয়ে গবেষণার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সরকারি সংস্থার। কিন্তু বীজগুলোর সঠিক রেকর্ড রাখেনি তাদের কেউই। এমনকি ‘মুন ট্রি’ বীজগুলো কোথায় রোপণ করা হয়েছিল বা কোথায় বড় হয়েছে গাছগুলো, সঠিক তথ্য নেই সে বিষয়ে।
রোজমেরি রুসা জানালেন, “বন বিভাগ ছড়িয়ে দেওয়া শুরু করে বীজগুলো। বিশেষ করে ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল বীজগুলো। আমি যখনই প্রথম প্রজন্মের মুন ট্রি খুঁজে পাই, তার বেশিরভাগই রোপন করা হয়েছে অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজধানীতে, বোটানিকাল গার্ডেনে আর পার্কে। তবে আমার জানা মতে কোনো আনুষ্ঠানিক নথিপত্র রাখা হয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশেও পাঠানো হয়েছিল কিছু বীজ। তবে কোন দেশগুলোতে সে বিষয়টিও পরিষ্কার নয়। ব্রাজিলে তিনটি মুন ট্রি আছে বলে শোনা যায়, ফ্রান্সে আছে বড়জোর একটি। প্রথম প্রজন্মের ১২ থেকে ১৫টি মুন ট্রি যুক্তরাজ্যে রোপণ করা হয়েছিল বলেও শোনা যায়। ২০২১ সালের পুরোটা জুড়েই গাছগুলো খুঁজে ব্যর্থ হয়েছে রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি।
“আমি শেষ যে মুনি ট্রি’র ব্যাপারে জানতাম, সেটা ৭০-এর দশকের শেষে আমি আর আমার বাবা মিলে টেক্সাসের অস্টিনে রোপণ করেছিলাম। আমি পেছনের উঠানে ছিলাম আর বাবা বললেন, ‘এই, এটা তো আমার শেষ মুন ট্রি বীজ, চলো এটা বুনে দিয়ে দেখি কী হয়।’ গাছটা ছিল আমেরিকান সিকামোর এবং আমি বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি, গাছটি এখনো বড় হচ্ছে।”
স্টুয়ার্ট রুসা মারা গেছেন ১৯৯৪ সালে। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে পরবর্তীতে ‘মুন ট্রি ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন রোজমেরি রুসা। মহাকাশ বিজ্ঞানী ডেভ উইলিয়ামসের মাধ্যমে নাসাও গাছগুলোর হিসেব রাখার চেষ্টা করেছে। প্রথম প্রজন্মের ৬০টি ‘মুন ট্রি’র তালিকাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তালিকার বেশিরভাগ গাছ যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও ব্রাজিলের গাছগুলোও বেশ ভালোই আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
অ্যাপোলো ১৪ মিশনের পরেও অনেক বার মহাকাশে উদ্ভিদ জীবন আর গাছের বীজ নিয়ে আরো নানা কঠিন পরীক্ষা চালিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো। আজকাল স্টেশনে বড় করা সবজি দিয়েই সালাদ বানিয়ে খাচ্ছেন ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)’-এর নভোচারীরা।
২০১৬ সালে আইএসএসে দুই কেজি বীজ নিয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ নভোচারী টিম পিক। বীজগুলোর উপর মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণ আর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বিশ্লেষণ করে আরএএস জানিয়েছে, “ফলাফল বলছে, বীজগুলো থেকে জন্মানো অঙ্কুর ধীর গতিতে বড় হলেও” খাবার উপযোগী।
ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলে দীর্ঘ সময়ের মিশনগুলো নির্ভর করবে মহাকাশে বড় করা উদ্ভিদ নির্ভর তাজা খাবারের উপর। তবে, যতোগুলো ‘মুন ট্রি’ এখনো টিকে আছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম দিচ্ছে, সেটি ভেবে দেখলে অ্যাপোলো ১৪ মিশনের বীজগুলোর উপর বড় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি– এমনটা বলা যেতেই পারে।
২০২২ সাল অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পাঁচ দশক পূর্তির বছর। শেষ অ্যাপোলো মিশন ছিল এটি। অ্যাপোলো মিশনগুলোর নভোচারীদের প্রায় অর্ধেক আর বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের স্মৃতি যেন বেঁচে আছে ওই ‘মুন ট্রি’গুলোতে।
“এই কাজটা একটা আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল,” বললেন ডটি। “মুন ট্রি’র বিশেষত্ব এটাই: মানুষকে মহাকাশে আগ্রহী করে তোলা। তারা যদি মহাকাশ থেকে ঘুরে এসেছে এমন কিছুকে তাদের পার্কেই বড় হতে দেখে, বিষয়টি মানুষের কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে।”
অন্যদিকে, চাঁদে ফেরার এবং পরবর্তীতে লুনার বেইস বানাবার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নাসা। তাল মিলিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছেন রোজমেরি নিজেও।
“আমার লক্ষ্য হচ্ছে মুন ট্রি’র বীজ চাঁদে পাঠিয়ে সেখানেই রোপণ করানো– তাহলে সত্যিই চাঁদের গাছে পরিণত হবে সেগুলো।”